অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় শুরু ক্যাম্প

38

সকাল থেকেই আকাশে মেঘ। থেমে থেমে বৃষ্টিও হচ্ছিল। এর মধ্যেই ঠিক সাড়ে ৮টায় পেসার আল আমিন হোসেনকে দেখা গেল ছাতা মাথায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে। অবশ্য তার আগেই মাঠে চলে আসেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেনরা। ৯টায় রিপোর্টিং টাইম হলেও কারো মধ্যে খুব একটা তাড়া নেই। জাতীয় দলের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের কাছে রিপোর্টিংয়ের সময়টা কাটলো ঈদ পুনর্মিলনীর মতো পরিবেশে। ২২ দিনের লম্বা ছুটির পর একসঙ্গে ২২ ক্রিকেটার মাতলেন হাসি-আনন্দে। সবাই একে অপরের খোঁজ-খবর নিলেন। তবে সময় হতেই দল বেঁধে ছুটলেন একাডেমি ভবনে জিমের দিকে।
শুরুতেই ট্রেনার মারিও তার সহযোগীদের নিয়ে জিমে চলে যান। এরপর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, পিছনে ভায়রা টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সবার মুখে চওড়া হাসি। একেবারে শেষ মুহূর্তে জিমে আসেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। এরপর রুটিন ধরে শুরু হলো অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা মিশনে আয়োজিত কন্ডিশনিং ক্যাম্পের কার্যক্রম। তবে কঠিন ট্রেনিং শুরুর কথা থাকলেও সময়টা একঘেয়েমিতে কাটালেন না ক্রিকেটাররা। বিসিবি ঘোষণা করেছিল ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দল। কিন্তু ৫ জন ক্রিকেটার রয়েছেন অস্ট্রেলিয়াতে এইচপির সঙ্গে। তামিম ইকবাল কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ডে। আর রুবেল হোসেন ব্যথা নিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিতে চাইলেও বিসিবির চিকিৎসকদের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত বিরত থাকেন। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন চুক্কি নবায়নের অপেক্ষায় থাকা তিন নির্বাচকও।
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজ (দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও দুই টি-টুয়েন্টি) খেলতে যাবে টাইগাররা। পরপর দুটি সিরিজ। এর আগে অবশ্য ৮ মাস খেলার মধ্যেই ছিল জাতীয় দলের সদস্যরা। তাই ট্রেনারের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে সব ক্রিকেটারদের বর্তমান ফিটনেস। ক্যাম্পের প্রথম দিন মাশরাফি-সাকিবদের ফিটনেস পরীক্ষার শুরু মুভমেন্ট কম্পিটেন্সি টেস্ট দিয়ে। এরপর জিম ছেড়ে সোজা ইনডোরে। কারণ সেখানেই বিপ টেস্ট নেন মারিও ভিল্লাভারায়ান।
বেলা ১১টায় শুরু হলো ঘাম ঝরিয়ে বিপ টেস্ট। শেষ হয় দুপুর ১টায়। মাঝে একবার সাব্বির রহমান রুম্মানকে দেখা গেল ইনডোর ছেড়ে বাইরে আসতে। শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল অঝোরে। কিছুক্ষণ খোলা আকাশের নিচে হেঁটে আবার চলে গেলেন ভিতরে। তাকে কিছুটা হতাশই মনে হচ্ছিল। তার হতাশার কারণটা তিনি নিজ মুখে বললেন না। তবে অনুমান করে নেয়া যায় প্রায় প্রতিবারই ফিটনেস টেস্টে সেরা থাকা এই তরুণ ক্রিকেটার এবার একটু পিছিয়ে। তাকে পিছনে ফেলে চমক দেখিয়েছেন ২০ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিরাজ। বিপ টেস্টে তার অর্জন ১২.৮ পয়েন্ট। অবশ্য সাব্বির তার চেয়ে দুই পয়েন্ট কম।
এই তালিকাতে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আল আমিন হোসেন। এরপর ১১ পয়েন্ট পেয়েছেন বেশ কয়েকজন। যার মধ্যে ৩৬ বছর বয়সী ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির নাম আলাদা করেই বলতে হয়। তবে ১০ এর নিচে কেউ নামেননি, যেটি ট্রেনারদের সন্তুষ্টির কারণ।
ফিটনেস টেস্ট ভালো হওয়াতে বেশ খুশি মিরাজ। তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে যে আমি সবার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছি। আশা করি ক্যাম্প শেষে ফিটনেস আরো ভালো থাকবে যা মাঠের পারফরম্যান্সে কাজে আসবে।’
জাতীয় দলে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার পর আয়ারল্যান্ড সিরিজে খেলেছেন নাসির হোসেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ছিলেন না রংপুরের ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এবার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। গতকাল তাকে দেখা গেল বেশ ফুরফুরে মেজাজে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থ সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েসকেও দেখা গেল বেশ আত্মপ্রত্যয়ী।
সৌম্য বললেন, ‘ভালো লাগছে সবাই আবার একসঙ্গে। মাত্রতো শুরু হলো, ক্যাম্পটা আমাদের জন্য বিশেষ কাজে আসবে। কারণ ভালো খেলার জন্য ফিটনেসটাও ভালো রাখতে হয়।’
তরুণ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান বিয়ের পর মাঠে এসেছেন প্রথম। আয়ারল্যান্ড ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলে থাকলেও খেলার সুযোগ হয়নি। তবে এ নিয়ে তার মধ্যে কোনো হতাশা নেই। বললেন, ‘ভালো লাগছে। সামনে চ্যালেঞ্জের জন্য ফিটনেস ক্যাম্পটা কাজে আসবে।’
অন্যদিকে রুবেল হোসেন ক্যাম্পে যোগ দিতে না পেরে কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল প্রথম দিন থেকেই শুরু করি। কিন্তু ঢাকায় ফিরে বিসিবির চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিষেধ করেছেন। কথা বলেছি ট্রেনার মারিওর সঙ্গেও। তিনিও অপেক্ষা করতে বলেছেন। আমার ক্যাম্পে যোগ দিতে হয়তো আরো সাত থেকে আট দিন সময় লাগবে।’
গতকাল ফিটনেস ট্রেনিং দিয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হয়েছে। তবে স্কিল ট্রেনিং শুরু হবে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আসার পর। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে তিনি ২৯শে জুলাই দেশে ফিরবেন। ক্যাম্প শেষ হলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষণা করা হবে জাতীয় দল। হাসি-আনন্দের মধ্যেও তাই ক্যাম্প জুড়েই থাকবে অদৃশ্য এক প্রতিযোগিতা। কারণ জাতীয় দলে সুযোগ পেতে মরিয়া যে সবাই।