অনিশ্চয়তার দোলাচলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ

31

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ঘটা করে বর্ষপঞ্জি ঘোষণা করেছিল চলতি বছরের শুরুর দিকে। সেই বর্ষপঞ্জি তারাই ধরে রাখতে পারে না। ঘোষিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বাফুফে এখন পর্যন্ত কোনো টুর্নামেন্টই সময়মতো আয়োজন করতে পারেনি। লীগ পেছাতে পেছাতে ছন্নছাড়া। স্বাধীনতা কাপ, সুপার কাপ কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বঙ্গবন্ধু কাপও। এদিকে ডিসেম্বরে আসর হোক বা না হোক ওই মাসেই গত আসরের চ্যাম্পিয়ন নেপালকে প্রাইজমানি পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছে বাফুফে। বাফুফে ঘোষিত বর্ষপঞ্জিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের সময় নির্ধারণ ছিল এ বছরের ১১ থেকে ২৩শে মার্চ। ওই সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে না পেরে দুই দফা পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর। এখনো ওই তারিখই আছে। তবে জাতির জনকের নামের এ টুর্নামেন্ট এ বছর আর হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বাফুফের এক সহ-সভাপতি।
আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টটিকে পেছানোর ঘোষণা না দেয়ায় খেলতে আগ্রহী কয়েকটি দেশ নাকি যোগাযোগও করছে বাফুফের সঙ্গে। এই গত সপ্তাহেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের অগ্রগতি জানতে চেয়ে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মঙ্গোলিয়া ও মিয়ানমার। তবে ঘরোয়া ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণেই পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে বাফুফে।
বাফুফের ওই সহ-সভাপতি জানান, লীগের যে অবস্থা তা শেষ হতে ডিসেম্বর শুরু হয়ে যাবে। তখন আবার ঢাকায় আসবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ। তখন আর সময় কোথায়। যদিও বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। বঙ্গবন্ধু কাপ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন করবো না, এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে মঙ্গোলিয়া ও মিয়ানমার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছে ডিসেম্বরে টুর্নামেন্ট হবে কি না।
আমরাও তাদের ইতিবাচক বলেছি। আসলে আপাতত প্রিমিয়ার লীগ নিয়ে ভাবছি আমরা। লীগ শেষ হবে মধ্য ডিসেম্বরের দিকে। এরপর সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। এসব কারণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ হয়তো নির্ধারিত সময়ে আমরা আয়োজন করতে পারবো না। তবে টুর্নামেন্ট হবেই।’
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রথম হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, দ্বিতীয় আসর বসেছিল ১৯৯৯ সালে। এরপর অনেকটাই ফাইলবন্দি ছিল এ টুর্নামেন্ট। দীর্ঘ ১৬ বছর পর তৃতীয় আসর হয়েছে ২০১৫ সালের ২৯শে জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি। সর্বশেষ হয়েছে গত বছর ৮-২২শে জানুয়ারি। বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটা দুই চলার পরই হয়ে গেছে অনিয়মিত।