অপহরণই ছিল ডিবি’র জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার

31

কবি, সাংবাদিক ও কলামনিস্ট ফরহাদ মজহারকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় দেয়া আদালতে জবানবন্দির সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের গরমিলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো তাকে ডেকে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার তার আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথাই জানান। তিনি বলেন, তাকে সেদিন অপহরণ করে খুলনায় নেয়া হয়েছিল। আমার যা বলার তা ১৬৪ ধারায়
জবানবন্দিতে এসেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, অপহরণের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিলে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাতে যে তথ্য এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি অপহৃত হননি। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং সেই সঙ্গে উনার কার্যকলাপ ও আমাদের কাছে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো মিল নেই। বিষয়টি উনার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যুগ্ম কমিশনার বলেন, তিনি যদি সত্যিকার অর্থে অপহৃত হয়ে থাকেন, তাহলে একমাত্র সাক্ষী তিনি নিজেই এবং যারা অপহরণ করেছে তারা। এই পর্যন্ত তদন্তে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি অপহৃত হননি। এ বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে বাতেন বলেন, কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে, মিথ্যা অভিযোগে মামলা করলে পেনাল কোডের (দণ্ডবিধি) ২১১ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া যাচাই করে আইনগতভাবে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় তা দেখা হবে বলেও জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। গত ৩রা জুলাই সকালে নিখোঁজের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যশোর থেকে উদ্ধারের পরদিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ফরহাদ মজহারকে। এরপর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ফরহাদ মজহারের পরিবারের পক্ষে উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুর জব্বার জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সেখানে গিয়ে পৌঁছান ১১টার দিকে। আবদুল জব্বার বলেন, সোয়া একটার দিকে ডিবি কার্যালয় থেকে তারা বের হয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে দেয়া ১৬৪-এ যা বলেছিলেন, আজ (গতকাল) জিজ্ঞাসাবাদেও তা বলেছেন। নতুন কিছু বলেননি। একইসঙ্গে ঘটনার সঠিক তদন্তের কথাও বলেন। বলেছেন, এর বাইরে আরও কিছু থাকলে তা যেন তদন্ত করা হয়। ওদিকে আবদুল বাতেন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ফরহাদ মজহার আদালতে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন জিজ্ঞাসাবাদেও একই কথা বলেছেন।