অপারেশন টেবিলে গান গাইছিলেন বাংলাদেশী রোগি

44

বাংলাদেশী সৈয়দ খোরশেদ আলম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালে তার ব্রেনে অপারেশন করে টিউমার অপসারণ করছিলেন চিকিৎসকরা। ঠিক এ সময় খোরশেদ আলম অপারেশন টেবিলে গাইছিলেন গান। ফাঁকে ফাঁকে কথা বলছিলেন ডাক্তারদের সঙ্গে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, এ মাসেই খোরশেদ আলমকে অচেতন না করেই ওই অপারেশন করা হয়েছে। ফলে তিনি সচেতনভাবেই ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গান গেয়েছেন। থামবে হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট (ইনচার্জ) ডাক্তার ঈশ্বর চন্দ্র প্রেমসাগর বলেছেন, সৈয়দ খোরশেদ আলম একজন বাংলাদেশী। তিনি ওই হাসপাতালে যান জুলাই মাসে। এ সময় নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় তার ব্রেনে একটি বড় টিউমার ধরা পড়ে। এটি ব্রেনের এমন স্থানে অবস্থিত যেখান থেকে শরীরের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডাক্তার প্রেমসাগর সিদ্ধান্ত নেন রোগিকে সচেতন রেখেই তিনি অপারেশন করবেন। এমন অপারেশন করানোর জন্য রোগিকে যথেষ্ট চেতনাসম্পন্ন রাখতে হয়। তিনি যেনে মেডিকেল টিমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বা যোগাযোগ করতে পারেন এমন অবস্থা রাখা হয়। অপারেশন চলাকালে চিকিৎসকরা তাকে নানা প্রশ্ন করেন, এ সময় রোগি যাতে উত্তর দিতে পারেন এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়। এ ছাড়া রোগির ব্রেন কেমন সাড়া দিচ্ছে তাও তদারকি করা হয়। উল্লেখ্য, ব্রেনে এমন টিউমার থাকায় খোরশেদ আলমের কথা বলতে কষ্ট হতো, তিনি ডান হাত ও পা নাড়াচাড়া করতে পারতেন না ঠিক মতো। কিন্তু টিউমার ফেলে দেয়ার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে সেগুলো নাড়াচাড়া করতে পারছেন। কথা বলতে পারছেন। অপারেশন শেষে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন খোরশেদ আলম। তিনি বলেছেন, এটা আল্লাহর তরফ থেকে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে আবার হাঁটার সক্ষমতা, কথা বলার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা। এখন আমি দৌড়াতে পারি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা