অযোধ্যায় দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদ গড়ার প্রস্তাব শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের

41

বাবরি মসজিদ মামলায় এবার নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানী চলছে। এই শুনানীতেই উত্তরপ্রদেশের শিয়া কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাব দিয়েছে যে, অযোধ্যায় বিতর্কিত চত্বর থেকে যথাযথ দূরত্বে কোনও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মসজিদ গড়া হোক। ৩ পৃষ্ঠার এক হলফনামা পেশ করে এই প্রস্তাব দিযেছে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড। পাশাপাশি এই জটিল সমস্যা সমাধানের সূত্র খুঁজে বের করতে কমিটি গঠনের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের কাছে সময়ও চেয়েছে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আবেদনগুলির নানা পক্ষের মধ্যে শিয়া ওয়াকফ বোর্ডও একটি পক্ষ। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রধান আবেদনগুলি গত সাত বছর ধরে শীর্ষ আদালতে বকেয়া রয়েছে।
২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ অযোধ্যায় বিতর্কিত রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ স্থলের ২.৭৭ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রাম লালার মধ্যে তিনটি সমান অংশে বিভাজনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় অবশ্য সমর্বসম্মত ছিল না। ২ জন বিচারপতি রায় দিলেও একজন বিরোধীতা করেছিলেন। তবে এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। কিছুদিন আগেই প্রায় সাত বছর ধরে বকেয়া থাকা এই আবেদনগুলির দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির আবেদন করেছিলেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস কে খেহর গত ১১ আগস্ট থেকে একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি চালাতে বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এস এ নাজিরকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। এই বেঞ্চই দ্রুত শুনানী শেষ করার কাজ শুরু করেছে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিতর্কিত জমির অংশ দেওয়ার বিরোধিতা করে শিয়া বোর্ড বলেছে, বাবরি মসজিদ যেহেতু শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি, অতএব এ ব্যাপারে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছনোর জন্য বাকি পক্ষগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, সমঝোতার এক্তিয়ার আছে কেবলমাত্র তাদেরই।