‘আইসিসিতে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে’

26

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকেই মুখোমুখি হচ্ছে মামলার। বিশেষ করে ২০০৮ সালের গঠনতন্ত্র আইসিসি অনুমোদিত নয় বলে সেখানে পরিবর্তন এনেছিল বিসিবি। এরপর আরো একবার গঠনতন্ত্রে কিছু পরির্তন এনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনসিসি) অনুমোদন দেয়। তারপর থেকেই শুরু মামলা। ২০১২ সাল থেকে পাঁচবছর ধরে এ মামলা মাথায় নিয়েই বিসিবি’র নির্বাচন থেকে শুরু করে সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। এবারও যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে নিজেদের পক্ষে দাবি করে বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে ঠিক তখনি তাদের ফের আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। বারবার বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। এতে কতটা ক্ষতি হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তির? এই প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এটি খুুব দুঃখজনক একটি ব্যাপার। তারা কেন করছে? কি কারণে করছে তা আমি বলতে পারবো না। তবে এখন সমস্যা যেটা হবে, এই যে সামনে আইসিসি’র বোর্ড মিটিংয়ে যাচ্ছি সেখানে আমাকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে সব ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। আইসিসিও বেশ ভালো করে জানে এখানে কি হচ্ছে। মামলার বাদী বিসিবি’র সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন কেন এমন করছেন? এ প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি প্রায় সব বিষয় নিয়েই মামলা করেন। তিনি আগেও ক্রিকেটের অনেক কিছু নিয়ে মামলা করেছেন। এটি হয়তো তার ভালো লাগে।’ বিসিবির এ কমিটির বিরোধিতা যারা করছেন তারা সরকারি দলেরই সাদস্য। বিসিবি’র সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী যিনি বর্তমান সভাপতিকে এজিএম বন্ধ করতে চিঠি দিয়েছেন তিনি আওয়ামি লীগের এমপি। নাজমুল হাসানও একই দলের এমপি। তাই আলোচনার মাধ্যমে কেন এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এ বিষয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘তিনি (সাবের হোসেন) আমার পার্লামেন্ট কমিটির কলিগ বেশ ভালো। তিনি আমাকে বলেছেন এজিএম ও ইজিএম বন্ধ করতে তাহলে কি আমি বন্ধ করে দিব! হাতে গোটা সাতটা মানুষ। আমার জানা মতে তাদের চোখে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমাদের সব খারাপ, ভালো কিছুই হয়নি। তারা একটা সাফল্যকেও সমর্থন দেয়নি। কই দেশের আরো অনেক খেলাতে আরো বাজে অবস্থা তারাতো সেখানে মামলা করে না? যাদের সঙ্গে নাকি আমাদের মতের এত অমিল তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।’
বিসিবি’র বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৩ই অক্টোবর। সময়মতো নির্বাচন করতে না পারলে বোর্ড পরিচালনায় তৈরি হবে অচলাবস্থা। সেটি যাতে না হয় সেজন্য রূপরেখা টেনেই এগোচ্ছিল বিসিবি। এ নিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন. ‘গঠনতন্ত্রে যে নিয়ম আছে ওই অনুযায়ী চলবে, এখানে নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রথম কাজ হচ্ছে এজিএম-ইজিএম করা। পরে করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকে। আমাদের একটা বৈধ গঠনতন্ত্র দরকার। যেটার মাধ্যমে নির্বাচন হবে। আমরা একটা নির্বাচন করবো, সেটা কীভাবে করবো তা যদি বোর্ডে পাস না হয়, এনএসসি অনুমোদন দিতে দেরি করে, বিষয়গুলো তো একটার সঙ্গে আরেকটা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এখন নির্বাচনের একটা তারিখ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কাউন্সিলরদের তালিকা চাইতে হবে। গঠনতন্ত্রে নিশ্চয়ই বলা আছে কতদিনের মধ্যে দিতে হবে। আর যদি দেখি গঠনতন্ত্রে বেঁধে দেয়া সময়ের বাইরেও সময় লাগছে, আমরা আইনি সহায়তা নেবো।’

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা