আইসিসি’র অভিযোগে বিসিবি’র জবাব

31

সংস্কারের পর মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। ম্যাচ হওয়ার আগে থেকেই অবশ্য মিরপুর শেরেবাংলার সংস্কার পরবর্তী রূপ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মাঠের সবুজ ভাবটাই ছিল না। দূর থেকে মাঠকে তামাটেই মনে হচ্ছিল। কারণ ঘাসগুলো এত ফাঁকা ও পাতলা যে নিচের বাদামি বর্ণের বালু দেখা যাচ্ছিল। এ মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্ট হারানোর উচ্ছ্বাস কাটতে না কাটতেই ভয় যেটি ছিল সেটিও হয়েছে। প্রায় অপ্রস্তুত মাঠে খেলা হয়েছে, তাই আন্তর্জাতিক ভেন্যুর এমন দশা কেন হলো, ১৪ দিনের মধ্যে তার জবাব চেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি দেয় আইসিসি। এরই মধ্যে কারণ ব্যাখ্যা করে আইসিসিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি’র সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন। তবে এ জবাবে আইসিসি সন্তুষ্ট না হলে জরিমানা গুনতে হবে বিসিবিকে। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে বিসিবি’র সিইও বলেন, ‘আইসিসি শের-ই-বাংলার আউটফিল্ডকে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা এ বিষয়ে আইসিসিকে একটা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আপনারা জানেন যে, গত চার-পাঁচ মাস বাংলাদেশে যে বন্যা পরিস্থিতি ও বৃষ্টি, তাতে সময় মতো মাঠটা প্রস্তুুত করা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিলো। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা মনে করি, আমাদের গ্রাউন্ডস কমিটি খুব কষ্ট করে কাজ করেছে।’
হোম অব ক্রিকেট বলেই পরিচিত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। এখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যালয়। মিরপুর স্টেডিয়ামকে এক বাক্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক ভেন্যু বললেও ভুল হবে না। এমনকি ঢাকার মধ্যে একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও এটি। এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচই নয় ঘয়োয়া ক্রিকেটের বড় বড় আসরও এই মাঠে আগে প্রাধান্য পায়। যে কারণে বিসিবি থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও শেরেবাংলা মাঠের গুরুত্ব অন্যরকম। তবে যতই আন্তর্জাতিক ম্যাচ এ মাঠে গড়াচ্ছে ততোই মাঠের উপর চাপ বাড়ছে। যে কারণে মাঠ পরিচর্যা হয়ে পড়ছে ভীষণ কঠিন। এরই মধ্যে কয়েক দফা বড় ধরনের সংস্কার কাজও হয়েছে। তবে সবগুলোই ছিল অপরিকল্পিত। যে কারণে বিসিবিকে এবার মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন অভিজ্ঞতার। মিরপুর মাঠের প্রধান কিউরেটর শ্রীলঙ্কা থেকে আসা গামিনি ডি সিলভা। তার হাতেই দুই দফা সংস্কার কাজ হয়। মূলত মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করতে গিয়ে চলে এই সংস্কার কাজ। মাঠের মাটিতে ও ঘাস উঠিয়ে নতুনভাবে তা লাগানো হয়। এবার অবশ্য ঘাস বিদেশ থেকে আনা হয়নি। বুয়েটের শিক্ষকদের পরামর্শে দেশীয় ঘাসই ব্যবহার করা হয়।
আগস্টে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আসে বাংলাদেশে। তার দুই/এক সপ্তাহ আগেই শেষ হয় মাঠের কাজ। যে কারণে আউটফিল্ডটা ছিল একেবারে অপ্রস্তুত। আইসিসি’র কাছে হয়তো বিষয়টি জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। পরে মিরপুর ভেন্যুকে ‘বাজে’ রেটিং দেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। আর জবাব চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দেয় আইসিসি। আইসিসিকে কি ব্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি? সেখানে পাঠানো রিপোর্টে কি বন্যা পরিস্থিতি ও বৃষ্টির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, ‘এটা (জবাব) আমরা গোপন রাখতে চাইছি। গোপন রাখাটাই ভালো।’
২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে সবসময় প্রশংসিত হয়ে এসেছে মিরপুর স্টেডিয়াম। কিন্তু সেই ভাবমূর্তি রক্ষা করা গেল না সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে বিসিবি’র কিউরেটর থেকে শুরু করে পুরো গ্রাউন্ডস কমিটির অদূরদর্শিতা নিয়ে। নিজামউদ্দিন চৌধুরী অবশ্য কাউকে দোষারোপ করতে চান না। এমনকি এ বিষয়ে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান হানিফ ভূঁইয়াকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্বীকৃতি পাওয়ার পর শের-ই-বাংলা নিয়ে কোনো অভিযোগ কখনও পাইনি। এই মাঠে আইসিসি’র কয়েকটি বড় আয়োজন হয়েছে। ২০১৪ সালে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল এখানে হয়েছে। পরপর তিনটি এশিয়া কাপ আমরা এখানেই আয়োজন করেছি। মাঠের যে প্রস্তুতি কোনো ঘাটতি ছিলো না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এটা হয়েছে। আইসিসি কিন্তু শুধুমাত্র ঘাসের কারণে অভিযোগ করেছে। অন্যান্য দিক ঠিক আছে। এখন সময়ের সঙ্গে এটা ভালো হয়ে যাবে। আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিলো, তা বলবো না।’

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা