‘আওয়ামী লীগ বেহাল হয়ে পড়েছে’

28

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথায় বিএনপি গুরুত্ব দেয় না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজ দলেই অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা হয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রোববার রাজধানীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফখরুল। বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফুল দিতে সেখানে যান তিনি। গত শুক্রবার সিলেটে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদেরকে বলেন, আদালতে বাতিল হওয়া ষোড়শ সংশোধনী সংসদে আবার পাস করা হবে। প্রয়োজনে অনবরত পাস করা হবে।…বিচারকরা জনগণের প্রতিনিধিদের ওপর খবরদারি করেন। অথচ আমরা তাদের নিয়োগ দেই। বিচারকদের এমন আচরণ ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে এর আগেই আদালত অবমাননার শামিল বলেছে বিএনপি। এমনকি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, এই বক্তব্য সরকার বা দলের নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ইতোমধ্যে নাকচ হয়ে গেছে। তাদের দলের লোকেরাই এটার বিরোধীতা করেছে। আমরা তার কথায় বেশি গুরুত্ব দেই না। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে বিএনপির উৎফুল্ল মনোভাব অচিরেই ধুলিসাৎ হবে- ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কি বলল না বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আওয়ামী লীগ আজকাল একটু বেশি বেহাল হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি পথেরও মন্ত্রী আবার সেতুরও মন্ত্রী। তিনি নিজে সড়কের যে বেহাল অবস্থা করে রেখেছেন তাতে করে দেশের রাজনীতির আরো বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফখরুল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের মধ্য দিয়ে এদেশের জনগণের মনের ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। এই রায়ে আমাদের উৎফুল্ল হবার কোন কারণ নেই। এই রায়ের ভিত্তিতে সরকারের যদি নূন্যতম বিবেকবোধ থাকে এবং নৈতিকতার লেশ থাকলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাবে। নতুন জোট গঠনের উদ্যোগের বিষয়ে ফখরুল বলেন, যে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের জোটের সঙ্গে আসতে পারেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য, সরকারের দমননীতি বিরুদ্ধে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠন করে রাজনীতি, সংগ্রাম করতে চায় সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্মতি রয়েছে। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় দেয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তারা তখনই হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। বিশ্বজিৎ তারই একটা অংশ। আমরা আশা করি সকলের সবচেয়ে বড় শাস্তি হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেস্টা ডা. অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদসহ ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।