আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গেলেই বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয় : ব্রি.জে. নাসির উদ্দিন আহমেদ

41

আমি ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে আছি। সেখানে বাস্তব প্রয়োজনে একা থাকি। কর্মজীবনে কিছু সময় থাকে দায়িত্ববোধ ও সম্প্রসারিত পরিবারের প্রয়োজনে আপনার নিজস্ব চাহিদা গৌন হয়ে যায়। ময়মনসিংহের অফিসারস্ মেসে একটি কক্ষে নিভৃতে একজন পরিচারক সহ আমার তিন বছর ৫ মাসের যাপিত জীবন।

আমি আমার দায়িত্ব পুরো নিষ্ঠা নিয়ে পালন করতে সচেষ্ট থাকি। সেটা ব্যক্তিগত, পেশাগত এবং সামাজিক জীবনে। দায়িত্ব অনেক ভাবে পালন করা যায়। খুব আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গেলেই বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়।

আমার কর্মস্থলে আমি আমার শতভাগ দিয়েছি ওয়ান ম্যান আর্মি হিসেবে। কতটা দিয়েছি এটা মূল্যায়ন করবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসী। অবশ্যই আমি মূলত কাজ করি স্রস্টার সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ বয়সে রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে কাজ করছি, করতে হচ্ছে, আমার ইচ্ছাও তাই।

কিন্তু আমরা যারা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে বেসরকারি পরিমন্ডলে কাজ করি তাদেরকে অনেক মানসিক চাপ নিয়ে ও কৌশলী হয়ে কাজ করতে হয়। কারন দুটো- সেনাবাহিনীর সন্মান ও মানুষের আস্থার জায়গায় টিকে থাকা। আমি ৩ বছর ৫ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ৫৭ বছর পূর্ন হবে ৪ মাস ১৯ দিন পর অর্থাৎ চলতি বছরের জুলায়ের শেষ দিনে। বাকী এক বছর চাকুরী করে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ চাইলে স্বাভাবিক অবসরে যাব বলে আশা করছি। অর্থাৎ ৫৮ বছর পূর্ন করে ইউনিফর্ম এর চাকুরী থেকে অফিসিয়ালি অবসর নিব, এর জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।

আমি তৃপ্ত। সেনাবাহিনী আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। একটা আলাদা জীবন বোধ তৈরী হয়েছে আমার ভিতর। আমি স্রস্টার কাছে স্বীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

এ বয়সে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে থাকা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। কিন্তু এখনও হয়ে উঠেনি। মেয়েদেরকে ডাক্তার বানানোর চাপ এবং বৃদ্ধা মাকে প্রতিপালন করছি বলে। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আজও মাকে সেবা করতে পারছি। আমার স্ত্রী অনেক বেশি কষ্ট করেছে, করছে এবং করবে। অনেক সময় যা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা, সিভিল এরিয়ায় অনেক যুদ্ধ করেই সবাইকে দেখছে সে।

আমি চরম প্রতিকূল অবস্থায় চাহিদামত পরিবারের সান্নিধ্য পাইনি। ময়মনসিংহের মানুষের দোয়ার উপর আমার বর্তমান জীবন ভালোই চলছে। মাঝ মাঝে মনটা ভেঙ্গে পড়ে, কিন্তু সাধারন জনগনের সেবার চিন্তায় তা ভুলে যাই। আর এটাই হয়ত উচিত। আসলে জীবনের জন্য কোন কিছুই অপরিহার্য নয়। আল্লাহ সবাইকে দেখেন তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী।

যাপিত জীবন এর যে অধ্যায় চলে গেছে তা সুন্দর অতীত। ভবিষ্যৎ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হবে, এতে আমার বিশ্বাস ছিল, আছে। বর্তমানকে আল্লাহর রহমতে আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি পরিতৃপ্ত এ জন্য যে, আমি আগাছার মত বাঁচিনি। যে কয়দিন আছি আগার মত বাঁচার ইচ্ছা নইে। আল্লাহ চাহেতো আমার মনের আশা পূরন হবে। কিছু ভাল সমাজের জন্য করতে পেরেছি বলে মন সায় দেয়। তাই যে কোন কষ্ট গুলে কে সাময়িক বলে মনে করি। আর অভিজ্ঞতা গুলোকে আমার জীবনের জন্য বড় প্রাাপ্তি হিসেবে ধরে নিয়েছি। কারন সবকিছু আল্লাহর হুকুমেই হয়।

লেখক- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ পরিচালক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ

Facebook Comments