আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাধা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের প্রকাশ: ফখরুল

22

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সরকারের বাধা দেয়াকে নজীরবিহীন ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের বর্ধিত প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অনুমতি না দেয়ায় সরকার বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করলো। সরকারের এই এগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত দেশের জন্য অশুভ বার্তা। সরকারের এ ধরনের বাধা দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষের বর্ধিত প্রকাশ। ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস-২০১৭’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শেষ মুহূর্তে পুলিশি বাধার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস ২০১৭’- শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। ২৮-২৯শে জুলাই সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল। পাঁচশ’ বিদেশি অতিথিসহ ৩৬টি দেশের দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধির এ সম্মেলনে অংশ নেয়ার কথা ছিল। বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার জন্য অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথির মধ্যে প্রায় দুইশ’ অতিথি এরইমধ্যে ঢাকায় উপস্থিতও হয়েছেন। সম্মেলনে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবও উপস্থিত থাকতেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ইউনূস সেন্টার কর্তৃপক্ষ সম্মেলনের বিষয়টি অবহিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনসহ সাতটি দপ্তরে গত ২০শে জুলাই চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার তথা গণতন্ত্র যে কত বিপন্ন- তা এই ঘটনায় বিশ্ববাসীর কাছে আবারও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। ব্যক্তি আক্রোশ, স্বেচ্ছাচারিতা ও একতরফা আধিপত্য এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র। যার আবারও বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল ইউনূস সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুলিশি বাধার মধ্য দিয়ে। সরকারের এই অসদাচরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব সমপ্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা আরও তীব্রতর হবে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে জলাঞ্জলি দিয়ে স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতিকে আলিঙ্গন করার জন্যই সরকার বেপরোয়া নীতি গ্রহণ করেছে। গণতন্ত্রের রীতিনীতি ও পরম্পরাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে দুর্বিনীত আক্রমণে। আমি ইউনূস সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন পুলিশি বাধায় বানচাল করার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে পুলিশের অনুমতি না দেয়াকে সরকারের স্বৈরতন্ত্রের হিংস্র রূপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ইউনূস সেন্টারের ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’র আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাধা দেয়া স্বৈরতন্ত্রেরই হিংস্র রূপ। এ ঘটনায় ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অনুমতি না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত মঙ্গল বয়ে আনবে না। বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমনিতেই নেতিবাচক ধারণা আছে। ফলে তা আরও গভীর হবে বলে আমরা মনে করি। রিজভী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের পর থেকে সরকারি দল ও তাদের মিত্ররা ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও বাধা দেয়।