আমরা কি কিছুই বলতে পারবো না?

37

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আপনারা প্রধান বিচারপতি ও কোর্টের স্বাধীনতা খর্ব করতে করতে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা কি কিছুই বলতে পারবো না? আমরা কি কোর্টে বসে মন্তব্য করতে পারবো না? নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর গতকাল আরো দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। গতকাল এ সংক্রান্ত শুনানিতে আইনমন্ত্রীর কিছু বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিমালা সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশমালার ভিত্তিতে না হওয়ায় এ নিয়ে রোববার শুনানিতে তীব্র অসন্তোষ ও উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শুনানিতে তিনি বলেন, আমরা যেটা দিয়েছিলাম, হয়েছে তার উল্টো। সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে। কিন্তু খসড়া বিধিমালায় এটা বাদ দেয়া হয়েছে। তাহলে হাইকোর্ট কেন রাখবেন, হাইকোর্ট উঠিয়ে দিন। প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে নিতে চায়। কিন্তু আমি কী করে সেটা দেই? তিনি আরো বলেন, আমিতো হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট ওঠানোর কথা বলিনি। ডিসিপ্লিনারি রুলসের মাধ্যমে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট ওঠে না। এজলাসে বসে আপনার (প্রধান বিচারপতি) এগুলো বলার তো দরকার হয় না।
গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত সংক্রান্ত শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা বিচারকদের মধ্যে ডিভিশন (বিভাজন) সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। আপনাকে (অ্যাটর্নি জেনারেল) প্রশ্ন করছি, এজলাসে বসে কথা বলার বিষয়ে কিছু কিছু মন্ত্রী মন্তব্য করেন। এটা কি ফেয়ার? এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দুই দিক থেকে বক্তব্য আসে। মিডিয়া বক্তব্য লুফে নেয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কেন এ কথা বলছেন? বিচারে আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য দিই না। বিচার বিভাগে যখন যে ইস্যু চলে আসে, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বক্তব্য দিই। যেমন আজকে (গতকাল) মোবাইল কোর্ট সম্পর্কে না বললে কী থাকলো? মাসদার হোসেন মামলায় আমরা পলিটিক্যাল কথা বলছি না। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জাজদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। পত্রিকায় এসেছে, একজন বলেছেন কোর্ট প্রসিডিং-এ আদালতের কার্যক্রমে যা হয়, তা নিয়ে পার্লামেন্ট এবং পাবলিকলি কথা বলার সুযোগ নেই। প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, মাসদার হোসেন মামলার ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের ‘ক’ এর ব্যাখ্যা দিয়ে এই মামলার রায় হয়েছে। এখন যদি আপনাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা শুনতে হয় তাহলে তা দুঃখজনক।