আমরা বাঁচতে চাই, হাতিকে বাঁচাতে চাই

49

মঞ্জুরুল আহসান : পাহাড়ি হিংস্র হাতির দল সীমান্তে করেছে আস্তানা। কখনো দলবেঁধে হাঁটছেন ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আবার কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। দুই দেশের সীমানার এক সময়ের গহীন এই অরণ্যে ছিল হাতির আবাসস্থল। পাহাড়ে ছিল হাতির প্রচুর খাদ্য। জনশূন্য ছিল পাহাড়। ঘন এই বন জঙ্গলে প্রবেশের উপায় ছিল না মানুষের। পশুদের রাজত্ব ছিল বেশ। বিশেষ করে পাহাড়ি হাতি দলবেঁধে বাস করতো সীমান্তবর্তী দুই দেশের পাহাড়ে। হাতি বিচরণ সীমান্ত অঞ্চলের বন সব উজাড় হয়ে হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে হাতির।

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সোমনাথপাড়া থেকে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী সহ ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের সীমান্ত মহিষলেডি এলাকা পর্যন্ত পাহাড় চষে বেড়ায় বন্যহাতির দল। চলতে চলতে খাবার খায়। অবসর নেয়। আবার খায়। বিশাল দেহের বিশাল খাবার। এভাবে খেতে খেতে খাবার সরবরাহ কমে গেলে দলবেঁধে পাহাড় থেকে নেমে আসে লোকালয়ে। হামলা চালায় ধান ক্ষেতে। আম কাঁঠাল বাগান সাবাড় করে দেয়। হাতির আক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রাণ গেছে অনেকের। প্রায় একুশ বছর ধরে হাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ পাহাড়ি জনপদের মানুষ। যতই দিন যাচ্ছে ততই হাতির আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বন কর্মকর্তা জানান, হাতি একটি আর্ন্তজাতিক বন্য প্রাণি। আর্ন্তজাতিকভাবেই হাতি মারা বা উত্যক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাতিকে উত্যক্ত না করলে বা আক্রমণ না করলে হাতি আক্রমণ করে না। মানুষ যখন হাতিকে আক্রমণ করে  তখন রাগান্বিত হয়ে হাতি মানুষের উপর বা লোকালয়ে হামলা করে। সরকারী নির্দেশমতো ফসলের জন্য ৫০ হাজার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা  এবং হাতির আক্রমণে কেউ নিহত হলে সরকার তাকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন। হাতির প্রচুর খাবার প্রয়োজন। খাদ্যের অভাবের কারণেই হাতি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতির খাদ্য সংকট নিরসনের ব্যাপারে বর্তমান কোনো সরকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে প্রচেষ্টা চলছে।

এদিকে ট্রইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লূইস নেংমিঞ্জা বলেন- হাতি মানুষ সহবস্থানে থাকতে গেলে সরকারী উদ্যোগে পাহাড়ে কলাগাছ, কাঁঠাল গাছ, বাঁশ বেত সহ হাতির খাদ্য গাছ রোপন করলে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে। হাতি আক্রমণের ক্ষতিপূরণ পায় না তারা। থানায় জিডি করতে গেলেও সহজে জিডি হয় না। আমাদের বাঁচতে হলে, হাতিকে বাঁচাতে হলে, বনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।