আরইবি’র বিদ্যুতের মূল্য ১০.৭৫ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তাদের আপত্তি

30

বিদ্যুতের বাল্ক মূল্য ১০.৭৫ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। তবে দাম না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। তারা বলেন, দেশে এমনিতেই সবকিছুর দাম বাড়তির দিকে। তার ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়লে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তাই এই মুহূর্তে আরইবি’র বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে ভোক্তারা মনে করেন। গতকাল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত আরইবি’র বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। কাওরান বাজার টিসিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে অংশ নিয়ে গাইবান্ধা থেকে আগত ভোক্তা মঞ্চের শাহ মোশফিকুর রহমান মিলন বলেন, আমাদের এলাকায় এই বছর অনেক বন্যা হয়েছে। এখন এই অঞ্চলের মানুষের জীবন চালাতেই দায়। তার ওপর আবার আরইবির বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব মানা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, আরইবি প্রতিবারই মায়া কান্না করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নেয়। কিন্তু দাম কামানোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেয় না কমিশন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আরইবি প্রায় সময়ে ভুতুরে বিল করে থাকে। এটা নিয়ে গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হন। এই ভোক্তা গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মো. এফাজ উদ্দিন নামের এক ভোক্তার ভুতুরে বিল দেখিয়ে বলেন, এক মাসে ১৮ হাজার টাকার ভুতুরে বিল দেখানো হয়েছে। এফাজ উদ্দিনের গড়ে প্রতি মাসে বিল আসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করে এক মাসে এত টাকা কিভাবে আসে এর উত্তর দেয় না সমিতি। এফাজ উদ্দিনের কাছ থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ বিল ১৮ হাজার টাকা নিয়েছে। এই ভোক্তার এর আগের মাসের বিল ছিল ৩৪৬ টাকা। এরপর নতুন মিটার লাগানোর পর গড় বিল সাড়ে ৩০০ টাকার ওপর আসে না বলে মিলন উল্লেখ করেন। গণশুনানিতে এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর আরইবির কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির অফিসে আসার আহ্বান জানান। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম ক্যাবের পক্ষে ২০টি প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আরইবি’র বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বিদ্যুতের লাইফ লাইন ৩ দশমিক ৩৩ টাকা বাতিল করতে হবে। মানসম্মত ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য পৃথক চার্জহার থাকা কি যৌক্তিক নয়? এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আরইবি যে ঘাটতির কথা বলছে সেটা সরকার সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দিতে পারে। সিপিবি’র নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আরইবি শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুতে লস দেয় যৌক্তিকতা দেখিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়। এটা আমরা মানি না। আরইবি সমন্বয় করে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিতে পারে। তাহলে আরইবি’র বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে না। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দয়া করে এই মুহূর্তে আরইবি’র বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না। মানুষ এমনিই নিত্য পণ্যের দাম নিয়ে কষ্টে আছেন।
এদিকে আরইবি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। এছাড়া ন্যূনতম বিল ও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোরও আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিইআরসি গণশুনানিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন। তবে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ৭ দশমিক ১৯ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিদ্যুতের দাম ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৭৮ টাকা দরে ক্রয় করে গড়ে ৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কেনাবেচার মধ্যে ঘাটতি থাকায় প্রতি ইউনিটে ২ দশমিক ৭৮ টাকা লোকসান দেয়া হচ্ছে। এ কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৫০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এতে সমিতিগুলো তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না। আরইবি আবাসিকে ন্যূনতম বিল ৬৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া সার্ভিস চার্জ ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবাসিকে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করে আরইবি। এতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের। এই ধাপে বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৫ দশমিক ৬৩ টাকা রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে ইউনিট প্রতি দাম পড়বে ৬ দশমিক ৩৩ টাকা। অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আরইবির সারা দেশে ২ কোটি ১ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গ্রাহকই আবাসিক। শুনানি গ্রহণ করছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদউল হক ভুইয়া।

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা