আরেকটি হার নাকি ঘুরে দাঁড়ানো

20

২০১৫-তে দক্ষিণ আফ্রিকা দল বাংলাদেশ সফরে আসে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মাশরাফি বাহিনী অলআউট হয় ১৬০ রানে। জবাবে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা। সেবার এমন হারেও ভেঙে পড়েনি  দল। পরের দুই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল। দুইবছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে নেমে এবার অসহায় এক বাংলাদেশকে চোখে পড়ছে সবার।

টেস্ট সিরিজের পর প্রথম ওয়ানডে-তেও অসহায় হার। হাতে দু’টি ম্যাচ বাকি। আজ হারলেই সিরিজ শেষ! বাংলাদেশ দল সমতায় ফিরতে পারবে এমন আশা করারও যেন সাহস নেই। টেস্টে বাজে করার পর প্রথম ওয়ানডেতে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রান স্কোর বোর্ডে জমা করলেও হারটা মেনে নেয়ার মত ছিল না। প্রোটিয়া দুই ওপেনার দলের আর কোনো ব্যাটম্যানকে মাঠে নামার সুযোগ না দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। এমন জয়ের পর টাইগারদের বোলিং সামর্থ্য নিয়ে শুরু হয় সমালোচেনার ঝড়। পার্লে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে নানা বিতর্কে জর্জরিত বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল প্রথম ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি। তবে আশার সংবাদ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার মাঠে নামা প্রায় নিশ্চিত। তবে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার এ ম্যাচেও সুযোগ পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ইমরুল কায়েস প্রথম ওয়ানডেতে ওপেন করেন। কিন্তু শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা কায়েস মাত্র ৩০ রানে আউট হন। তামিম দলে ফিরলে তার সঙ্গে এবার হয়তো লিটন কুমার দাসকে দেখা যাবে। এ তরুণকেও দল চাইছে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে দেখে নিতে। সেই ক্ষেত্রে ইমরুলের তিনে খেলার কথা। কিন্তু একটি সূত্র জানিয়েছে হয়তো এবার তিন-এ মুমিনুলের আরেকটি পরীক্ষা  হয়ে যেতে পারে। না হয় সাকিবই থাকবেন তিনে। প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহীম ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানই তিন অংক ছুঁতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটাও তার ব্যাট থেকে আসে। দলের বাকিরা দুই অংকে পৌঁছালেও ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কেউই। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেও দেখা গেছে বাজে শটে আউট হতে। এ ম্যাচে মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে রয়েছে চিন্তা। কারণ হ্যামস্ট্রিংয়ে টানের কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলার জন্য কতটা প্রস্তুত আছেন তা নিয়ে সংশয় আছেই। যদি মুশফিক খেলতে পারেন তাহলে প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে খুব বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানা যায়। তবে মুশফিক না খেললে ইমরুলকে মাঠে দেখা যাবে। মুশফিক, ইমরুল দু’জনেই খেললে বাদ পড়বেন নাসির।
দলের বড় চিন্তার নাম এখন বোলিং। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বান্ধব কন্ডিশনে দলের কোন পেসারই সফল হতে পারেননি। অবশ্য সেরা পেসার মোস্তাফিজ ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। তার পরিবর্তে ওয়ানডে দলে শফিউলের যোগ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল। তবে গতকাল দুপুর পর্যন্ত শফিউল নিজেই জানেন না তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর কথা। বিকালে বিসিবি’র মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হলে জানানো হবে।’
তবে মোস্তাফিজ ইনজুুরিতে থাকলেও তাকে দেশ ফিরতে দেননি প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে। তার আশা মোস্তাফিজ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ফিজিও’র অধীনে ভালো হবে। হয়তো খেলতে পারেন টি-টোয়েন্টিতেও। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ ৭ জন বোলার লড়াই করেছেন। কিন্তু প্রোটিয়াদের দুই ওপেনার হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কককে আউট করতে পারেননি। দু’জনই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জুটির রেকর্ড গড়ে দলকে জয় এনে দেন। মাশরাফি ছাড়াও অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও অভিষিক্ত সাইফউদ্দিনকে কিম্বার্লির উইকেটে ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে। কিন্তু তাদের কোনো পাত্তাই দেননি দুই ওপেনার। তিন স্পিনারের মধ্যে আশা ছিল সাকিব আল হাসানকে ঘিরে। কিন্তু ৮ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূন্য। তাই এ ম্যাচে দলের বোলিং আক্রমণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। সাইফুউদ্দিনের পরিবর্তে দেখা যেতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে। ভরসা রাখতে হবে তাসকিন, রুবেল হোসেনদের উপরই।
পার্লে  দক্ষিণ আফ্রিকার খুব পরিচিত কোনো স্টেডিয়াম নয়। এখানে মাত্র ১০ ওয়ানডে খেলা হয়েছে। এখনকার উইকেট অনেকটাই কিম্বার্লির মতোই আচরণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উপর দায়িত্বটা থাকবে অনেক বেশি। সেই সঙ্গে বোলারদেরও ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।