আরেকটু অপেক্ষা করতেই হবে

48

১০ টেস্ট আর ২৮ ওয়ানডে খেলেই জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় মুশফিকুর রহমান বাবুর। ২০০১-এ টেস্ট ও ২০০৪ সালে শেষ ওয়ানডে খেলেন এই পেসার। মূলত চোটের কারণেই শেষ হয়ে যায় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। এরপর বাংলাদেশ বিমানে চাকরি করে যাচ্ছেন এ ক্রিকেটার। তবে ক্রিকেট থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারেননি। লেভেল-২ কোচদের ট্রেনিং শেষ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) দল নর্থজোনের ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন গেল বছর। এমনকি মাঠে ক্রিকেট খেলার সুযোগও হাতছাড়া করেন না। যে কারণে ছুটে এসেছেন সাবেক ক্রিকেটারদের মিলনমেলা মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালে খেলতে। মাঠে নামার জন্য ব্যাকুল দেখাচ্ছিল তাকে। কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে বসে তাদের সময় ও এ সময়ের ক্রিকেট, পেসারদের দারুণ উত্থান ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক মানবজমিনের স্পোর্টস রিপোর্টার ইশতিয়াক পারভেজের সঙ্গে। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো।-

প্রশ্ন: আপনাদের সময় ও এই সময়ের ক্রিকেটের মধ্যে কি পার্থক্য দেখছেন?
মুশফিক বাবু: আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম তখন এতটা পেশাদারিত্ব ছিল না। খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকে মাঠে এসেছিলাম। তবে যখন আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম, বলতে হবে তখন থেকে পেশাদারিত্ব শুরু হয়। আর এখন তা পূর্ণতা পেয়েছে। যার ফলে আমাদের ক্রিকেট এতটা উন্নতি করেছে। বলতে ভালো লাগে আমরা তখন শুরু করেছিলাম। এখন সেটি এগিয়ে যাচ্ছে দারুণভাবে। আর একটা কথা বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ অন্য উচ্চতায় আছে বলেই এখনো আমরা ৪২ বছর বয়সে মাঠে ছুটে আসি। তখন ক্রিকেটে কিন্তু তেমন টাকা ছিল না। এখন ক্রিকেটাররা অনেক টাকা পায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আমাদের সময়ও টাকা ছিল কিন্তু এতো নয়। ক্রিকেট ছেড়ে কী করবো তা নিয়ে ভাবতে হতো।

প্রশ্ন: আপনাদের সময়ের এবং এখনকার পেস বোলারদের মধ্যে পার্থক্য কেমন?
মুশফিক বাবু: অনেক পার্থক্য। আমরা তখন বেশির ভাগই ১২৭  বা ১৩০ কিলোমিটার গতিতে বল করতাম। এখন কিন্তু পেসাররা ১৪০/১৪৫ গতিতে বল করে। এখন মাশরাফিরা যে উইকেট পাচ্ছে আমরা তখন তা পেতাম না। তাসকিন, রুবেল অনেক জোরে বল করে। মোস্তাফিজের গতির সঙ্গে কৌশল আছে। কিন্তু আমরা নিজেদের সীমিত ক্ষমতা দিয়েই লড়াই করেছি। এখন সময়ও অনেক বদলে গেছে।

প্রশ্ন: এখনকার মতো সুযোগ- সুবিধা আপনারা পেলে দেশে পেস বোলারের সংখ্যা বাড়তো বলে মনে করেন?
মুশফিক বাবু: অবশ্যই, এখন ছোট ছোট বোলাররা জিম ব্যবহার করে। পেসারদের জন্য নিয়মিত জিম করাটা বড় ব্যাপার যা আমরা করতে পারিনি। এখন ছোট ছোট বাচ্চা ক্রিকেটাররাও বোলিং মেশিনে অনুশীলন করে। বিশ্বমানের কোচ আছেন কোর্টনি ওয়ালশ। তার সঙ্গে আরেক পেস বোলিং কোচ চম্পকাও (রামানায়েকে) আসবেন। যদি আমাদের সময় এর অর্ধেক সুবিধা পেতাম তাহলে এখন দেশে আরো অনেক বেশি পেস বোলার থাকতো। এখন সুবিধা ভালো বলেই পেসারের সংখ্যাও বাড়ছে।

প্রশ্ন: টেস্টে এখনো পেস বোলারদের মান বাড়েনি কেন ?
মুশফিক বাবু: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আমাদের পেসারদের প্রশংসা করতেই হবে। কিন্তু টেস্টে আমি মনে করি এখনো অনেক দূর যেতে হবে। মাত্রতো আমরা লঙ্গার ভার্সনে খেলা ভালোভাবে শিখতে শুরু করেছি। আরেকটা বিষয় হলো আমাদের দেশের বোলাররা এত লম্বা নন, তাদের স্ট্যামিনাও কম। টেস্টে অনেক সময় ধরে বল করতে হয়। এই মানসিকতা সবেমাত্র গড়ে উঠতে শুরু করেছে। আরো একটু অপেক্ষা করতেই হবে।

প্রশ্ন: হঠাৎ করেই ক্রিকেট কেন ছাড়লেন?
মুশফিক বাবু: ইনজুরির কারণেই আমাকে ক্রিকেট ছাড়তে হয়েছে। আমার স্পাইনাল ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একবার ভালো হয়েছিলাম চিকিৎসা করে। কিন্তু পরের বার ভারতে গিয়ে জানলাম আর অপারেশন সম্ভব নয়। বিসিবিও অনেক সাহায্য করেছিল। কিন্তু কিছু করার ছিল  না।

প্রশ্ন: এখন ব্যাট-বল হাতে নিতে কেমন লাগে?
মুশফিক বাবু: সত্যি কথা বলতে, দারুণ এক অনুভূতি। মাস্টার্স ক্রিকেটকে ধন্যবাদ জানাই এমন আয়োজনের জন্য। দেখেন এই ধরনের ক্রিকেট সকল ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করবে। ক্রিকেটাররা ভাববে যে তাদের কেউ ভুলে যায়নি, যাবে না। এখানে বছরে একবার দেখা হওয়ার আনন্দটাই আলাদা।

প্রশ্ন: ক্রিকেট থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন, এবার কতটা দিতে চান?
মুশফিক বাবু: এটা সত্যি ক্রিকেট থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু আমাকে চাকরি করতে হয়। বাংলাদেশ বিমানের মতো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে ছুটি নিয়ে ক্রিকেটের জন্য কাজ করা খুবই কঠিন। তবে ধীরে ধীরে ফের মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছি। বিসিএলে একটি দলের ম্যানেজার ছিলাম। চেষ্টা করছি সুযোগ বের করার।