আলাপন ‘আজকাল প্লে-ব্যাকে মনের মতো গান খুব কম পাচ্ছি’

35

স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। ধারাবাহিকভাবে এখন পর্যন্ত অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। শুরু থেকেই বানিজ্যিক গানে গা না ভাসিয়ে মানসম্পন্ন গানই করে গেছেন তিনি। সব সময় গুরুত্ব দিয়েছেন ভালো কথা ও সুরের দিকে। আর তাইতো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দীর্ঘ সময় ধরে সংগীত জগতে টিকে আছেন, যেটা সবার জীবনে ঘটে না। এতটা পথ চলার পরও এতটুকু ক্লান্ত নন সামিনা। প্রতিদিনই শিখছেন, শুনছেন ও গাইছেন। বর্তমানে এর মধ্যে দিয়েই দিন কাটছে তার। সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে সময়? সামিনা বলেন, ভালো। আমিতো সব সময় নিজেকে শিক্ষার্থী মনে করি। প্রতিদিনই শেখার চেষ্টা করি। গানতো বটেই। প্রতিদিন আমি আমার বড়দের থেকে যেমন শিখি ঠিক তেমনি ছোটদের কাছেও। কারণ এক জীবনে শেখার শেষ নেই। ভালো কিছু শিক্ষা নিতে লজ্জা কিসের। বরং নিজেকে এর মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করা যায়। কিন্তু এই শেখার মানসিকতা এখন খুব কম দেখি। আর তাই ভালো কিছু হচ্ছে না। টিকে থাকার মতো গান হচ্ছে না। একেবারেই যে হচ্ছে না তা নয়। তবে তূলনামূলক ভালো কাজ কম হচ্ছে। শেখার আসলে কোন বিকল্প নেই। সব মিলিয়ে এই সময়ের গান নিয়ে আপনার অভিমত কি? সামিনা উত্তরে বলেন, এটা বলতে অনেক সময় লেগে যাবে। তবে এখন তো সবাই গায়ক-গায়িকা বনে যাচ্ছেন। যেন গান গাওয়াটা খুব সহজ! শেখা নেই, জানা নেই, কন্ঠ নেই, কিন্তু নিজেকে গায়ক-গায়িকা হিসেবে দাবি করছে অনেকে। এরকম প্রবণতাই বেশি দেখছি। যে কারণে কষ্টও লাগে খুব। কারণ আমরা তাহলে কোথায় যাচ্ছি। সবাই যেন জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছে। একটি কথা বলতে চাই কোয়ালিটি থাকলে জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে হয় না। সময় মতো জনপ্রিয়তা এমনিতেই আসে। আর কোয়ালিটি না থাকলে শত চেষ্টা করেও লাভ নেই। তাহলে এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? সামিনা বলেন, সবার উপরে হচ্ছে উপলব্ধি। আমি নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাই। সে অনুযায়ী নিজেকে কতটুকু তৈরি করছি সেটা বড় ব্যাপার। আমরা যখন গান শুরু করি তখন ভালোবাসা থেকে গাইতাম। শেখার ও জানার জন্য কত কিছু যে করেছি বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এখন যার যা ইচ্ছে করছে। এভাবে তো শিল্পী হওয়া যায় না। আমি বার বার একটি কথা বলি, গাইলেই গায়ক ও গায়িকা হওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠা যায় না। সেটার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এই প্রজন্মের মধ্যে আপনি কতটুকু সম্ভাবনা দেখছেন? সামিনা বলেন, সময় ও প্রযুক্তির অভাবে অনেক কিছু বদলেছে। এখন গানটা সহজ হয়ে গেছে। সে কারণে যে কেউ গাইছে। তবে যাদের মেধা রয়েছে তারা কিন্তু ভালো করছে। মেধা না থাকলে টিকে থাকা যাবে না। শিখতে হবে প্রচুর। পড়তে হবে প্রচুর। ভালো কথা-সুরের দিকে নজর দিতে হবে। জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটলে হবে না। সর্বোপরি ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলেই চেষ্টা করলে প্রকৃত শিল্পী হওয়া যাবে। এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আপনার গানের কি খবর? সামিনা বলেন, ভালো চলছে। স্টেজে গাইছি। চ্যানেলে গাইছি। নতুন গানও করছি। একক অ্যালবামের কাজ শেষের দিকে। আর নচিকেতার সুরে একটি অ্যালবাম করছি। সেখানে ফাহমিদাও রয়েছে। খুব শিগগিরই হয়তো এর কাজ শেষ করতে পারবো। প্লে-ব্যাক কি করছেন? সামিনা বলেন, আজকাল প্লে-ব্যাকে মনের মতো গান খুব কম পাচ্ছি। এ কারণে কাজও কম করছি। ভালো মানের কথা-সুরের কাজ হলে প্লেব্যাক করবো। এদিকে সামিনা চৌধুরী এবার চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা ‘সেরাকন্ঠ’-এর প্রধান চার বিচারকের একজন হিসাবে কাজ করছেন। বর্তমানে চ্যানেল আইতে চলছে এর ক্যাম্প রাউন্ডের প্রচার। কেমন মনে হচ্ছে এবারের প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স জানতে চাইলে সামিনা চৌধুরী বলেন, দারুণ গাইছে ওরা। কন্ঠ আর গায়কীতে কারো চেয়ে কেউ কম নয়। আশা করছি প্রতিবারের মতো এবারও ভালো কিছু কন্ঠ বেরিয়ে আসবে।