আলাপন ‘এখন শুধু নিজেকে নতুনভাবে দেখার অপেক্ষা’

30

চিত্রনায়িকা মৃদুলা আহমেদ রেসি। ২০০৩ সালে গোয়ালিনী বিনোদন বিচিত্রা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০৪ সালে বুলবুল জিলানী পরিচালিত ‘নীল আঁচল’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখান। এরপর একে একে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। মাঝে বিরতিতে থাকলেও চলতি বছরের মার্চে বন্ধন বিশ্বাসের ‘শূন্য’ ছবি নিয়ে বড়পর্দায় নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন এ পর্দাকন্যা। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ওমর সানী। ছবিটি মুক্তির পর বেশ সাড়া পেয়েছেন। তাই আবারো নিজেকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। বর্তমানে ওজন কমিয়ে নতুন লুকে বড়পর্দায় ফিরতে চান এ অভিনেত্রী। এজন্য প্রতিদিন চার ঘন্টা করে ব্যায়ামও করছেন। রেসি কবে নতুন ছবি নিয়ে নতুন লুকে ফিরবেন জানতে চাইলে মানবজমিনকে বলেন, যেদিন আমাকে নিয়ে ভালো গল্প লেখা হবে সেদিনই আবার কাজে ফিরবো। বর্তমানে নিজেকে তৈরি করছি। কারণ অনেকদিন বেবির কারণে নিজের দিকে তাকানোর সময় পাইনি। প্রতিদিন এখন চার ঘন্টা করে বনশ্রীর একটি ব্যায়ামাগারে সময় দিচ্ছি। পাশাপাশি ডায়েট করছি। ব্যায়াম করতে বেশ ভালোই লাগছে। দেখা যাক ফলাফল কি হয়। এখন শুধু নিজেকে নতুনভাবে দেখার অপেক্ষা। ঢালিউডে শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক, বুকিং এজেন্টসহ অন্যদের নিয়ে একটি নতুন ফোরাম হচ্ছে। সেখানে কি থাকছেন আপনি ? এমন প্রশ্নের জবাবে রেসি বলেন, এখনো এ ব্যাপারে কেউই কিছু বলেন নি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আমরা সব শিল্পী এক। তাই এখানে ভাগ হওয়ার কিছু নেই। কারণ আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক ছোট। আর সবচেয়ে বড় কথা কাজ তো বেশি হচ্ছে না। তাই এসব করে লাভটা কি ? এতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমার মনে হয়, সবাই মিলে-মিশে থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। কি কারণে আপনাকে কাজে নিয়মিত পাওয়া যায় না ? এর উত্তরে রেসি বলেন, আমার ঘরে প্রার্থনা ও প্রত্যাশা নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের দেখাশুনা করতে হয়। প্রার্থনা একটু বড় হলেও প্রত্যাশা এখনো অনেক ছোট। তাই চাইলেও অনেক কাজ করতে পারি না। রেসি অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে এফ আই মানিকের ‘এক জবান’, ‘স্বামী ভাগ্য’ এবং মনতাজুর রহমান আকবরের ‘আমার স্বপ্ন আমার অহংকার’। এ অভিনেত্রীর বেশ কিছু ছবিতে তার বিপরীতে ডিপজল অভিনয় করেছেন। আর বর্তমানে এই জনপ্রিয় অভিনেতা সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার প্রসঙ্গ আসতেই রেসি বলেন, আমি দোয়া করি যেন তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। আরও অনেক ভালো ছবি তিনি দর্শকদের উপহার দিবেন বলে আশা করি। কারণ তিনি একজন ভালো অভিনেতা। এখনও ওনার অনেক ভালো ছবি দর্শকদের উপহার দেয়ার বাকি রয়েছে। ২০১২ সালের ২২শে জুন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী পান্থ শাহরিয়ারকে বিয়ে করেন রেসি। এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত বেশিরভাগ ছবিই পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। এই সময়ের ডিজিটাল ছবি নিয়ে রেসি বলেন, সারা বিশ্বেই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। টেকনোলজি এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। নিমিষেই যে কেউ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছবি দেখতে পারছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু তাই বলে নকল গল্পে কিংবা ছবির নামে টেলিছবি নির্মাণ করে চলচ্চিত্রের নাম ডুবানো ঠিক নয়। মৌলিক গল্পের পাশাপাশি সমাজের অসংগতি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বিষয়টি তুলে ধরলে দর্শক লাভবান হবেন। আমাদের মৌলিক গল্পের পাশাপাশি ছবির চিত্রনাট্যেও জোর দিতে হবে। ভালো কাজ দিয়েই সামনে এগিয়ে নিতে হবে আমাদের দেশীয় ছবি।