আলাপন ‘এমন একটি চরিত্রে পারফর্ম করতে পারাটা অনেক আনন্দের’

33

নাটক, মডেলিং এবং নৃত্য-তিন মাধ্যমেরই তারকা নাদিয়া আহমেদ। এসবের মধ্যে নাটকে বেশি ব্যস্ত হলেও নিজেকে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবেই পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। আর তাই নাটকে অভিনয়ের সিডিউল ঠিকভাবে মিলিয়ে নাচের অনুষ্ঠানগুলোতেও তাকে নিয়মিত দেখা যায়। যেমন গেল কয়েকমাসে ঢাকা, কক্সবাজার, বগুড়ায় বেশ কয়েকটি নাচের শোতে অংশ নিয়েছেন তিনি। প্রতিটি শোতেই তার নাচ প্রশংসিত হয়েছে দারুণভাবে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা নাদিয়া পেয়েছেন এবারে দূর্গাপূজার একটি অনুষ্ঠানে নাচ করে। নবমীর রাতে রাজধানীর বনানীর পূজাম-পে ব্যতিক্রমী এ নাচটি উপহার দিয়েছেন তিনি। আর এর পরিবেশনার ক্ষেত্রে দারুণ নান্দনিকতায় চমকে দিয়েছেন উপস্থিত দর্শকদের। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাদম্বরী দেবীর জীবন কাহিনীর উপর নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করেন নন্দিত এ নৃত্যশিল্পী। ঠাকুর বাড়িতে আশ্রিত একজন সাধারণ মানুষের কন্যা ছিলেন কাদম্বরী। ব্রাম্ম সমাজের নেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ছেলে যোথিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে কাদম্বরীর বিয়ে হয় ১৮৬৮ সালের ৫ই জুলাই। কিন্তু বয়সের ব্যববধান অনেক ছিলো বলে যোথিন্দ্রনাথের ছোটভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে কাদম্বরীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। কারণ কাদম্বরীর বয়স তখন নয় এবং রবীন্দ্রনাথের সাত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখালেখির অনুপ্রেরণার অনেকটা জায়গাজুড়েই ছিলেন কাদম্বরী। একটি সময় এসে রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী একে অন্যের উপর নির্ভরশীলও হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২২ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে যশোহরের ফুলতলার বেনীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ১১ বছর বয়সের মৃনালীনি দেবীর বিয়ে হয়। অন্যদিকে যোথিন্দ্রনাথও প্রেমে পড়েন একজন থিয়েটারকর্মীর। ভীষণ একা হয়ে পড়েন কাদম্বরী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিয়ের চারমাস ১০দিন পর ১৮৮৪ সালের ১৯শে এপ্রিল আফিম পান করে আতœহত্যা করেন কাদম্বরী। সেই কাদম্বরী চরিত্রটিই টানা ৩৬ মিনিট নৃত্যালেখ্যর মধ্যদিয়ে ফুটিয়ে তোলেন নাদিয়া আহমেদ। বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নৃত্যালেখ্যটির কোরিওগ্রাফি করেছেন লিখন রায় ও ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। এতে নাদিয়া আহমেদের সঙ্গে আরো নৃত্য পরিবেশন করেন নাচের দল ‘নৃত্যকথা’র শিল্পীরা। ‘কাদম্বরী’ চরিত্র নিয়ে নৃত্যালেখ্য পরিবেশন প্রসঙ্গে নাদিয়া আহমেদ বলেন, এমন একটি চরিত্রে পারফর্ম করতে পারাটা অনেক আনন্দের। আমার জানামতে এই চরিত্র নিয়ে এর আগে কেউ কখনো নৃত্যালেখ্য করেনি। সেই হিসেবে আমাকে যারা এটি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। কাদম্বরীর জীবনকাহিনী এতো অল্পসময়ে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তারপরও আমি, আমরা চেষ্টা করেছি ৩৬ মিনিটের মধ্যদিয়েই পূর্ণাঙ্গ কিছু তুলে ধরতে। একই সঙ্গে আমি কিছুটা শঙ্কিত আবার বেশ আনন্দিতও ছিলাম। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই এটি করতে পেরেছি। যারা দেখেছেন তারা খুব প্রশংসাও করেছেন। উল্লেখ্য, নাচ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে নাটকেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাদিয়া। তাই এখন নাটকের শুটিং-এর ফাঁকে ফাঁকেই তাকে নাচের অনুষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদাভাবে সময় দিতে হয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই নাচের প্রতি মন থেকে টান অনুভব করেন এ পর্দাকন্যা। নাচ ও অভিনয়ের পাশাপাশি  নাদিয়া মডেল হিসেবে বেশ পোক্ত একটি অবস্থান তৈরি করলেও এ ক্ষেত্রটিতে নিয়মিত নন। কারণ কি জানতে চাইলে বলেন, আসলে মনপছন্দ প্রস্তাব সবসময় মেলে না বলেই নিয়মিত কাজ করা হয়ে ওঠে না। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে নাদিয়া একটি বহুজাতিক কোম্পানীর ইউ এইচ টি মিল্কের বিজ্ঞাপনে সর্বশেষ মডেল হয়েছেন। এতে তিনি একজন নৃত্যতারকা হিসাবে পারফর্ম করেছেন। বিজ্ঞাপনটি গত নারী দিবসের দিন থেকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার শরু হওয়ার পর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন নাদিয়া। এদিকে নাদিয়া বর্তমানে নিয়মিত অভিনয় করছেন অঞ্জন আইচের ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’, সকাল আহমেদের ‘বাবুই পাখির বাসা’, এস এ হক অলিকের ‘আয়না ঘর’ ও আবুল হায়াতের নির্দেশনায় ‘তিন পাগলের হলো মেলা’ ধারাবাহিক নাটকে। এর পাশাপাশি গেলো ২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে তার অভিনীত এ জাবির রাসেল পরিচালিত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘বিড়ম্বনা’ বাংলাভিশনে প্রচার শুরু হয়েছে।