আলাপন ‘দর্শক এখন নতুন কিছু না হলে দেখতে চায় না’

37

ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা। ২০০৭ সালে ‘বিনোদন বিচিত্রা ফটোসুন্দরী ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। সেখানে প্রথম রানার-আপ হয়েছিলেন। বিজ্ঞাপনে কাজ করার মধ্য দিয়ে মডেল হিসেবেই মিডিয়াতে অভিষেক ঘটে অহনার। এরপর থেকে টিভি নাটকেও অভিনয় শুরু করেন। মডেলিং এবং টিভি নাটকে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই গ্ল্যামারকন্যা। বর্তমানে অহনা অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ‘সালিশ মানি তালগাছ আমার’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘নোয়াশাল’সহ আরও কয়েকটি নাটক। প্রচার চলতি ধারাবাহিকগুলো থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে অহনা বলেন, প্রতিটি ধারাবাহিকের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে ‘নোয়াশাল’ নাটকটি সব শ্রেনীর দর্শক দেখছে বলে আমি মনে করি। আর আমি নিজেও প্রতিটি নাটকে বৈচিত্রময় চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করছি। দর্শক এখন নতুন কিছু না হলে দেখতে চায় না। আগামীতেও বেশ কিছু চমক নিয়ে দর্শকদের সামনে আসবো। ধারাবাহিক নাটকের বাইরে খন্ড নাটকে তেমন একটা উপস্থিতি নেই অহনার। তার ভাষ্য, বিশেষ দিবসের বাইরে ভালো গল্প ও চরিত্রের খন্ড নাটক নির্মাণের সংখ্যা কম বলেই বছরের বেশিরভাগ সময় ধারাবাহিকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, বিশেষ দিবসগুলোতে একসঙ্গে অনেক খন্ড নাটকে কাজ করতে হয়। কিন্তু বছরের অন্য দিনগুলোতে নির্মাতারা খন্ড নাটক নির্মাণ কমিয়ে দেন। আমি মনে করি বিশেষ দিবসের বাইরেও ভালো গল্প ও চরিত্রের খন্ড নাটক নির্মাণ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে নাটকে মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশ পরির্বতন এসেছে বলা হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে নাটকের মান কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে? এই প্রসঙ্গে অহনা বলেন, এটি সত্যি, গেল দুটি ঈদে আমাদের নির্মাতাদের মধ্যে ভালো নাটক নির্মাণের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। বেশ কিছু নাটকের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিলো অনেক বেশি। আমার অভিনীত নাটকের বাইরেও কয়েকজন অভিনয় শিল্পীর নাটক দেখেছি। প্রত্যেকেই ভালো করার চেষ্টা করেছেন। নির্মাতারা চাইলেই আরো ভালো কিছু নির্মাণ সম্ভব বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন, আমাদের দর্শক স্টার জলসা, স্টার প্লাসসহ বিভিন্ন চ্যানেল দেখছে। ভালো নাটক নির্মাণের মধ্য দিয়ে  সেই দর্শকদের আবারো আমাদের দেশীয় চ্যানেলমুখী করতে হবে। ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও এই অভিনেত্রীকে দেখা গেছে। ২০০৮ সালে রকিবুল আলম রকিবের ‘চাকরের প্রেম’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন তিনি। গেল বছর তাকে শেষবারের মতো পি এ কাজল পরিচালিত ‘চোখের দেখা’ ছবিতে দেখা গেছে। এতে সায়মনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। তবে ছবিটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারেনি। এরমধ্যে নতুন কোনো চলচ্চিত্রেও অহনাকে দেখা যায়নি। চলচ্চিত্রে অভিনয় না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সত্যি বলতে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে আর আগ্রহী নই। কারণ চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য যে গুণাবলীর দরকার সেগুলো আমার নেই। সেই কারণে আমি ছোট পর্দায়ই নিজেকে ব্যস্ত রাখছি। ছোট পর্দায় কাজ করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এদিকে অভিনয়ের বাইরে অহনা ব্যাবসায়ীর খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন। রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে রয়েছে তার বিউটি পার্লার ‘অহ-মি’। এরইমধ্যে এখানকার ভোক্তাদের কাছ থেকেও অহনা বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন বলে জানান। ব্যাবসায় পূর্ণ মনোযোগী হতে অভিনয়ও কম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মাসে ১৫ দিন ব্যবসা এবং ১৫ দিন অভিনয় করার পকিল্পনা রয়েছে তার। ব্যাবসা সর্ম্পকে অহনা বলেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ব্যবসা শুরু করেছি। একটা সময় আমার অভিনয়ে ব্যস্ততা কমে যাবে। সেই সময়ের কথা ভেবেই আমার এই ব্যাবসায়ে আসা। অহ-মিতে অনেক দূর থেকেও গ্রাহকরা আসছেন সেবা নিতে। এজন্য সেবা গ্রহণকারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর তাদের সেবা প্রদানে আমিও খুব আন্তরিক। শিগগিরই আমার এ প্রতিষ্ঠানটিকে আরো বড় করারও ইচ্ছে রয়েছে।