আলাপন ‘সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করা খুবই জরুরি’

45

জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৯৭ সালে দিলারা হানিফ রীতা ওরফে পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে অভিষেক  ঘটে। বিশ বছরের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তার অভিনীত ১০০’র মতো ছবি মুক্তি পেয়েছে। অনেক জনপ্রিয় তারকার বিপরীতে সফলভাবে কাজ করেছেন তিনি। কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবির জন্য ২০১০ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রী। সবশেষ গত মাসের শেষদিকে ইফতেখার আহমেদ ফাহমীর ‘টু বি কন্টিনিউড’ ছবিটি মুক্তি পায় তার। এখানে গায়ক ও অভিনেতা তাহসানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। বর্তমান সময়ে টিভি বিজ্ঞাপন ও ছোটপর্দার নাটকে নিয়মিত কাজ করছেন পূর্ণিমা। অভিনয়ের বাইরে এ বছর একটি বড়মাপের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে সফলভাবে উপস্থাপনা করেন তিনি। কথার ফাঁকে ফাঁকে রসময় আলাপ ও দুষ্টুমিতে মিলনায়তন ভরা দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন এই ঢালিউড অভিনেত্রী। তার এই উপস্থাপনার প্রশংসা করে বিশিষ্ট অভিনেতা-নির্মাতা নরেশ ভূঁইয়া বলেছিলেন উপস্থাপিকা হিসেবে অসাধারণ এক পূর্ণিমাকে দেখেছি। সবকিছুতেই তার প্রতিভা, মেধার প্রতিফলন দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের সিনেমার একজন নায়িকার কাছে যা কল্পনাও করতে পারি না। এদিকে অনেকদিন ধরেই নতুন চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যাচ্ছে না। কেনো ? এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ণিমা মানবজমিনকে বলেন, এখন তো নতুন ছবির গল্প প্রায়শই শুনছি। আমার কাছে নতুন কাজের প্রস্তাবও আসছে। কিন্তু সেসব ছবির গল্পে ভিন্নতা খুবই কম থাকে। তা কেমন জানতে চাইলে পূর্ণিমা বলেন, এখন সব ছবির গল্প প্রায় একই রকম লাগে। ভিন্ন কাহিনীর ছবিতে কাজ করতে চাই। দর্শকদেরও বর্তমানে রুচির পরিবর্তন হয়েছে। কোনো নাটক বা অনুষ্ঠান মিস করলেও তাদের প্রবলেম নেই। ইউটিউবে তা দেখে ফেলছে। বিনোদনের কোনো কমতি থাকছে না। পূর্ণিমা আরো বলেন, আগে তো বিনোদনের জন্য একমাত্র জায়গা ছিল বড়পর্দা। চার থেকে পাঁচটি শো সিনেমাহলে কয়েক সপ্তাহ ধরে হাউজফুল চলত। এখন বাসায় হোম থিয়েটারে ডিভিডি বা ইউটিউব অন করে ছবি দেখছেন দর্শকরা। তাই সিনেমা হলে দিন দিন লোক কমে যাচ্ছে। সিনেমা হলে লোক কমে যাওয়ার আর অন্য কোনো কারণ আছে কি ? এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা বলেন, আমি তো সবশেষ কয়েক বছর আগে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখেছি। এখন শুনছি দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলেরই পরিবেশ খুব খারাপ। তাই দর্শককে আবার ফিরিয়ে আনতে হলে সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করা খুবই জরুরি। যারা নিয়মিত সিনেমা হলে ছবি দেখেন তারা অনেক কষ্ট করে ছবি দেখেন। তাই পাইরেসি রোধের পাশাপাশি সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। বড়পর্দায় না কাজ করলেও পূর্ণিমা মাঝে ছোটপর্দায় ফেরার পর ‘দেয়ালের ওপারে’, ‘সন্দেহে মনদাহ’, ‘ফিরে যাওয়া হলো না’, ‘বাকবাকুম পায়রা’, ‘প্রিয় রং হলুদ’সহ কয়েকটি খন্ড নাটকে কাজ করে বেশ প্রশংসিত হন। এছাড়া রেদওয়ান রনির ‘ক্যান্ডি ক্র্যাশ’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেন তিনি। ঈদ ছাড়া নতুন নাটকের কাজে কি তাকে সামনে দেখা যাবে এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো দেখা যাবে। বেশকিছু কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে। আর সামনে রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবে কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। তবে এখনও চুড়ান্ত হয়নি। এ মাসের শেষে চুড়ান্ত হবার কথা আছে। তখন সবাইকে জানিয়ে দিব। আর কয়েকটি ছবিতে কাজের বিষয় নিয়েও কথা হচ্ছে। সবকিছু পছন্দমতো না হলে ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে করে না। প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষদিকে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেন পূর্ণিমা। এছাড়া মাত্র ৫ মিনিটের জন্য সচেতনতামূলক একটি নাটিকাতে অভিনেতা রওনক হাসানের বিপরীতে কাজ করেন তিনি। ভালো মানের এবং মনের মতো পেলে আবারো নতুন কাজে দ্রুত দেখা যাবে পূর্ণিমাকে। এমনটিই জানিয়েছেন ঢালিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।