আশায় বাজি চাপে আমজনতা

30

সবার জন্য অভিন্ন ১৫ ভাগ একক ভ্যাট আর ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের ওপর বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ করে সংসদে উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার এ বাজেটে নতুন কোনো চমক না থাকলেও সাধারণ মানুষের ওপর কর আর ভ্যাটের পরিধি বাড়ায় জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন অতি উচ্চাভিলাষী এ বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণও কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পূর্ণাঙ্গ এ বাজেটকে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উচ্চাভিলাষী বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাত দশমিক ৪ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদান ছাড়া সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৫ ভাগ। বিদায়ী অর্থ বছরেও এ হার একই ছিল। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে সংশোধিত ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে সংশোধিত ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৯২ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১৭ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। প্রস্তাবিত বাজেট দেশের জিডিপি’র ১৮ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল জিডিপি’র ১৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
গতকাল বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের পর তাতে সই করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। বাজেটে অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে রাজস্ব থেকে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। করসমূহ থেকে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর থেকে আসবে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত কর থেকে ৮৬২২ কোটি টাকা, কর ছাড়া ৩১১৭৯  কোটি এবং বৈদেশিক অনুদান থেকে ৫৫০৪ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয় ।