আড়াই কোটি নাগরিকের স্মাটকার্ড নিয়ে জটিলতা

29

আড়াই কোটি নাগরিকের মধ্যে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) বিতরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। পর্যাপ্ত ব্ল্যাঙ্ক কার্ড না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক নাগরিককে  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্মার্ডকার্ড দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশে ১০ কোটি ১৮ লাখ ভোটারের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে পরিচয়পত্র না পাওয়া নাগরিকরা সেবা পেতে পদে পদে হোঁচট খাচ্ছেন। অনেকের কাছে লেমিনেডেট কার্ড না থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইসি সূত্র বলছে, চুক্তি বাতিল হওয়া ফ্রান্সের ওবার্থ কোম্পানি ৯ কোটি কার্ডের মধ্যে সরবরাহ করেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ব্ল্যাঙ্ক কার্ড। যার মধ্যে ১ কোটি ২৪ লাখ স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কার্ডগুলো ব্ল্যাঙ্ক। এগুলোই পারসোনালাইজেশন করে ভোটার হওয়া নাগরিকদের সরবরাহ করা হবে। এছাড়া সবাইকে স্মার্টকার্ড দেবে কমিশন-এই উদ্যোগে ২০১৩ সালের পর এখন পর্যন্ত নিবন্ধন হওয়া সোয়া কোটির বেশি নাগরিককে দেয়া হয়নি সাধারণ পরিচয়পত্র। জানা যায়, ওবার্থ কোম্পানির ব্যর্থতায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রমটি মুখ থুবড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ইসির অনেক পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে যায়। সংকটের মধ্যে পড়ে অনেকটা দিশাহারা কমিশন। বর্তমান এনআইডির ডিজি সংকট উত্তরণে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের পর সরকারি অর্থায়নে স্মার্টকার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য অর্থের অপচয় ঠেকাতে ব্যয় সংকোচন নীতির পথে হাঁটছেন তারা। তবুও নাগরিকদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ওবার্থের সরবরাহ কার্ড পারসোনালাইজেশন করার পরও ২ কোটি ৪৫ লাখ নাগরিক থাকবেন ওই প্রযুক্তির বাইরে। এনআইডির কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার সংকটের কারণে স্মার্টকার্ড বিতরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহের পর সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্ড বিতরণ বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ প্রকৃত চিত্র অনুযায়ী ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে আড়াই কোটির স্মার্টকার্ড পেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই বছর। সম্প্রতি কমিশন উদ্ভূত সংকট থেকে উত্তরণে নানামুখী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিকল্প কিছু পন্থা বের করেছে। কমিশন বৈঠকের জন্য  তৈরি কার্যপত্রে দেখা যায়, ২০১২ সালের পর নতুন নিবন্ধিত নাগরিকদের স্মার্টকার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। বিদ্যমান সংকটকালে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে সারা দেশে অল্পসংখ্যক নাগরিকের স্মার্টকার্ড বিতরণে যে পরিমাণ আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার লাগবে তার ন্যূনতম মজুত নেই। ফলে এই কার্যক্রমটি গ্রহণ ইসির জন্য বেশ জটিল ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটি পেপার লেমিনেটেড কার্ড মুদ্রণের জন্য ৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দে সম্মতি দিয়েছে, যা ডিসেম্বর ২০১৭-এর মধ্যে বাস্তবায়ন করার শর্তযুক্ত। কার্ড না পাওয়া এসব নাগরিকের আইডিয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা নিলে আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ডিভাইসের নির্ভরশীলতা ছাড়াই অন্তত একটি কার্ড দেয়া সম্ভব। এটা পেলে সংশ্লিষ্টরা নাগরিক সেবা প্রাপ্তির বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবেন। কার্যপত্রে আরো বলা হয়, বর্তমানে মজুত ৭ কোটি ৭৩ লাখ কার্ড বিতরণ শেষ হওয়ার সময়কালে পরবর্তী আড়াই কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড প্রদান সম্ভব না হলেও ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটার নাগরিকরা কার্ড পাননি এমনটি হবে না। এছাড়া পেপার লেমিনেটেড কার্ড দিলে এটিতে তথ্যগত ভুল থাকলে স্মার্টকার্ড পাওয়ার আগেই সংশোধনের সুযোগ পাবেন। ফলে দ্বিতীয়বার ব্যয়বহুল স্মার্টকার্ড মুদ্রণ বাবদ সরকারি অর্থের অপচয় হবে না। এমনকি ভোটার পরিচয়পত্র না পাওয়া নাগরিকরা বর্তমানে চাকরি, পাসপোর্ট তৈরি, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, বিদেশ ভ্রমণ, ট্যাক্স, ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি কাজে ব্যক্তি শনাক্তকরণে সমস্যায় পড়ছেন, তারাও হয়রানি থেকে বাঁচবেন।
 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা