ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের রজতজয়ন্তী অবাক করা ২৫ তথ্য

37

ইংল্যান্ড ফুটবল লীগের ইতিহাস শুরু ১৮৮৮ সাল থেকে। তখন নাম ছিল ‘ফুটবল লীগ’। এই নামে লীগ চলে চার মৌসুম। ১৮৯২ সালে এসে নতুন নামে লীগ শুরু হয়। এবারের নাম- ‘প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ’। টানা ১০০ বছর এই নামে ইংল্যান্ডের ফুটবল লীগ চলে। এই নামের শেষ হয় ১৯৯২ সালে এসে। শত বছরের নাম ফেলে এবার নাম হয়, ‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ’। এখনো সেই নামে চলছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করা হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগকে। যার রজতজয়ন্তী বা ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এ বছর ১৫ আগস্ট। এমন মাইলফলক স্পর্শের আগে প্রিমিয়ার লীগের ২৫টি চমকপ্রদ তথ্য জেনে নিই-

১.    ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ২৫ বছরের ইতিহাসে দুই পায়ে পেনাল্টি গোল করেছেন মাত্র দুইজন খেলোয়াড়। তারা হলেন, ইংলিশ ফরোয়ার্ড ববি জামোরা ও নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড  ওবাফেমি মার্টিনস।
২.    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার রায়ান গিগস প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ ১৩৪ বার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
৩.    ইতালির স্ট্রাইকার মারিও বালোতেলি ইংলিশ লীগে তিন মৌসুম খেলেছেন। তিন মৌসুমে তিনি মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। সেটা ছিল ২০১১-১২ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে শিরোপা নির্ধারনী শেষ ম্যাচে। তিনি সেই একমাত্র অ্যাসিস্টটি করেন সার্জিও আগুয়েরোকে। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) বিপক্ষের ওই গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে ম্যানসিটি।
৪.    ওয়েইন রুনি, গ্যারেথ বেল ও কেভিন ডেভিস- এই তিন খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লীগের একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট ও আত্মঘাতী গোল করেছেন।
৫.    ওপরের তিনজনের মধ্যে একমাত্র গ্যারেথ বেল গোল, অ্যাসিস্ট ও আত্মঘাতী গোলের সঙ্গে হলুদ কার্ডও দেখেন।
৬.    প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর একটি ম্যাচও হারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
৭.    ব্ল্যাকবার্ন ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরার প্রিমিয়ার লীগে সবচেয়ে বেশি- ১১ পেনাল্টি মিস করেছেন। অবশ্য প্রিমিয়ার লীগে পেনাল্টিতে সবচেয়ে বেশি- ৫৬ গোলও তার দখলে।
৮.    ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের পর ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট হ্যাম গোল ব্যবধানে নিজেদের গোল বেশি করে।
৯.    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসন প্রিমিয়ার লীগে গোল, অ্যাসিস্ট ও পেনাল্টিতে গোল করেছেন। প্রিমিয়ার লীগে গোলরক্ষক হিসেবে গোলে সবচেয়ে বেশি- ৫ অ্যাসিস্ট তার।
১০.     জেমস মিলনার প্রিমিয়ার লীগে ভিন্ন ৪৭টি দলের বিপক্ষে গোল করেছেন। অবাক করা কথা হলো, এর একটিতেও তার দল হারেনি।
১১.     প্রিমিয়ার লীগ শুরু হওয়ার পর (আগস্ট, ১৯৯২) জন্ম নেয়া মাত্র তিন খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের শীর্ষ এ লীগে হ্যাটট্রিক করেছেন। তা হলেন, রহিম স্টার্লিং, হ্যারি কেইন ও রোমেলু লুকাকু।
১২.     ১৯৬০ সালের আগে জন্ম এমন মাত্র এক খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লীগে হ্যাটট্রিক করেছেন। তিনি হলেন, ইংল্যান্ডের গর্ডন স্ট্রাচান। ১৯৯৩ সালে লীডস ইউনাইটেডের হয়ে ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। তার জন্ম ১৯৫৭ সালে।
১৩.      জর্জ বয়েড চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে প্রিমিয়ার লীগে রেলিগেটেড হয়ে যাওয়া দুই দলে খেলেছেন। তারসঙ্গে সর্বশেষ এমনটি ঘটে ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্নলির হয়ে। তার আগে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন, মার্ক রবিনস (১৯৯৪-৯৫), স্টিভ কাব্বা (২০০৬-০৭) ও ডেভিড নাগেন্টের (২০০৯-১০) সঙ্গে।
১৪.     প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে ২০১৪-১৫ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সময়- ১৪০ দিন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ছিল লেস্টার সিটি। তবে মৌসুমের শেষ দিকে উন্নতি করায় কোনোরকমে রেলিগেশন এড়ায় তারা। অবাক করা কথা হলো, এই লেস্টার সিটি পরের মৌসুমে শিরোপা জিতে নেয়।
১৫.     গোলরক্ষক ছাড়া মাত্র চারজন খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লীগের শিরোপাজয়ী দলের হয়ে ওই মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচ খেলেন। তারা হলেন, সিজার আজপিকুয়েতা (২০১৬-১৭), ওয়েস মরগ্যান (২০১৫-১৬), জন টেরি (২০১৪-১৫) ও গ্যারি প্যালিস্টার(১৯৯২-৯৩)।
১৬.     লিভারপুল, টটেনহ্যাম ও স্টোক সিটির  সাবেক স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে হেডে সবচেয়ে বেশি- ৫০ গোল করেছেন। লীগে অংশ নেয়ার এমন ১৬টি দল রয়েছে যারা মোট মিলিয়ে ক্রাউচের সমান গোল করতে পারেনি।
১৭.     রিচার্ড রাইড প্রিমিয়ার লীগে দুই ক্লাবের হয়ে মাত্র ১২ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে আর্সেনালে খেলেন ১২ ম্যাচ। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ম্যানচেস্টারসিটির খেলোয়াড় হলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি। কিন্তু এই দুই ক্লাবেই তিনি প্রিমিয়ার লীগের শিরোপার স্বাদ নিয়েছেন।
১৮.     ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ইয়াগো আসপাস। তিনি এই কয় ম্যাচে মাঠের খেলায় যতগুলো শট নিযেছেন তারচেয়ে বেশি কর্নার শট নিয়েছেন।
১৯.     ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি গোল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ১,৮৫৬ গোল করেছে রেড ডেভিলরা। আর্সেনাল এ তালিকায় দ্বিতীয়। ইউনাইটেডের থেকে ১৫৮ গোল কম করেছে তারা।
২০.    ইংলিশ মিডফিল্ডার অ্যান্ডি রবার্টস ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রিমিার লীগে ৩৭ ম্যাচ খেলেন। এরমধ্যে চার ম্যাচ ছিল আর্সেনালের বিপক্ষে। ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে আর্সেনালের হয়ে দুই ম্যাচ খেলার পর উম্বলডনে যোগ দেন তিনি। সেখানে আর্সেনালের বিপক্ষে আবার দুই লেগে খেলেন।
২১.     টেরি কনর্স (উলভসের সাবেক কোচ) একমাত্র কোচ যিনি প্রিমিয়ার লীগে ১০ এর অধিক ম্যাচ কোচিং করিয়েও কোনো জয় পাননি।
২২.     ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখেছে চেলসির খেলোয়াড়েরা- ১,৫৩৬ বার। খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৯ হলুদ কার্ড দেখেছেন গ্যারেথ ব্যারি। সবচেয়ে আটবারকরে লাল কার্ড দেখেছেন তিনজন- রিচার্ড ডান, ডানকান ফার্গুসন ও প্যাট্রিক ভিয়েরা। দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি- ৮০ লাল কার্ড দেখেছে এভারটনের খেলোয়াড়রা
২৩.    প্রিমিয়ার লীগে হেডের মাধ্যমে হ্যাটট্রিক করেছেন মাত্র দুই খেলোয়াড়। তারা হলেন, ডানকান ফার্গুসন। ১৯৯৭ সালে বল্টনের বিপক্ষে এভারটনের হয়ে হেডে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। আর ২০১৬ সালে সোয়ানসির বিপক্ষে ওয়েস্ট ব্রমের হয়ে এই কীর্তি দেখান সালোমন রোনাল্ড।
২৪.     জার্মানির মিডফিল্ডার নুরি সাহিন ২০১২-১৩ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে খেলেন ৭ ম্যাচ। মজার কথা হলো, ওই সাত ম্যাচেই তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন।
২৫.    ২০০১-০২ মৌসুমে হারের অবস্থানে থেকেও ৩৪ পয়ন্ট অর্জন করে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লীগের এক মৌসুমে প্রথেমে পিছিয়ে থেকে পরে অর্জন করা সর্বোচ্চ পয়েন্ট এটি। ওই ঘটনার সাত বছর পর রেলিগেটেড হয় নিউক্যাসল। কাকতালীয়ভাবে তখন তাদের মোট পয়েন্ট ছিল ৩৪।