ইসিকে ইমেজ ফেরানোর তাগিদ

25

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনকে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বিগত ৫ই জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন যাতে না হয় সে বিষয়েও নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরামর্শ শুনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইসি তার কৌশল নির্ধারণ করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গতকাল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বেলা ১১টার পর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। নির্বাচকালীন সময়ে প্রার্থী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দূর করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও ওঠে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আইনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম এ সংলাপের শুরুতে ছবি তোলার জন্য সাংবাদিকদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলেও সংলাপ চলার সময় সেখানে সাংবাদিকদের থাকতে দেয়া হয়নি।
সংলাপ থেকে বের হয়ে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমন্ত্রিতরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা তারা যেন গত ইলেকশন কমিশনের মতো না হয়। ভোটাররা যেন শান্তিমত ভোট দিতে পারে। কোনো কারচুপি না ঘটে। কারচুপি হলে নির্বাচন বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার ভোট হবে। আবার কারচুপি হলে আবার ভোট নিতে হবে। অনেকেই পার্লামেন্ট বাতিলের কথা বলেছে। অনেকে বলেছেন পার্লামেন্ট থাকাই ঠিক। আবার অনেকে বলেছেন বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক যেন না আসে। তিনি আরো বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। সব দলকে ভোটে আনতে হবে এবং এ জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে আইনে ঘাটতি থাকলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। নাগরিক প্রতিনিধিরা সঙ্গে থাকবেন। আগামীতে ১ কোটি প্রবাসী নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইসিকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তারা দৃঢ় স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে এবং তা প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচনী আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখতে ইসি কীভাবে ভূমিকা রাখবে- তা দেখতে হবে। তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার আগে ইসির করার কিছু নেই- এমন বক্তব্যকে আমরা অনেকে গ্রহণ করিনি। এখন থেকে ইসির অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। ধর্মকে নির্বাচনী প্রচারে কোনোভাবেই নেয়া যাবে না। সেনাবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি এ দুটো বিষয়ে ভিন্নমতও এসেছে আলোচনায়। তিনি জানান, নির্বাচনী ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো বেশি স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা আইন করতে হবে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ইসির বন্ধু রাজনৈতিক দল নয়। ইসির বন্ধু হল জনগণ, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া ও আইন-আদালত। নির্বাচনকালীন-নির্বাচনোত্তর সহিংসতা রোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সেনাবাহিনীকে যদি ফিলিং স্টেশন, রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কেন নির্বাচনে দায়িত্বপালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে সবাই নির্বাচনে আসতে পারে। প্রার্থী, পোলিং এজেন্টদের ভয় দূর করতে হবে। ‘না’ ভোট প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, না ভোট যেন রাখা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে না ভোট আছে। তিনি আরো বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের কোনো সুযোগ যেন না থাকে। আসিফ নজরুল জানান, ইসি কোনো ইস্যু রেইজ করেনি; তারা বলতে দিয়েছে। ইসিকে তার ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে, বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে। সকল দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে হবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারের মনে যে ভয়ভীতি রয়েছে তা দূর করতে হবে- এটা নিয়ে কারো দ্বিমত ছিল না। নিজে পক্ষে থাকলেও সাবেক আমলাদের অনেকে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় না রাখার জন্যও বলেছেন বলে জানান তিনি। সহায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা উঠলেও অনেকে পক্ষ-বিপক্ষ নিয়েছেন। সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো, ভয়ভীতি-শঙ্কা দূর করতে ইসি আসলে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা সবার দেখার বিষয় হয়ে রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন এ নিয়ে ইসির কথা বলা উচিত নয়। আমাদেরও কথা বলা উচিত নয় বলে কেউ কেউ বলেছেন। ইসি চেষ্টা করেছে সবার বক্তব্য শোনার। সবচেয়ে বড় কথা হলো- এখন ইসি কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার। এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আগের ইসি তাদের কাজকর্মে ইমেজ সংকটে পড়ে। কিন্তু আমরা চাই বর্তমান ইসি ভাবমূর্তি সংকট কাটিয়ে উঠে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে সে ব্যবস্থা নেবে। তারা যেন রাজনৈতিক দলের কাছে মাথা নত না করে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করে এটা সবার চাওয়া। আসিফ নজরুল জানান, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যায় কিনা বিবেচনা করার জন্য বলা হয়েছে। যেহেতু ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার থাকে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়া যেতে পারে। আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না। এজন্য অনেকে বক্তব্য লিখিত জমা দিয়েছে। পরবর্তী মতামত লিখিত দেয়ারও সুযোগ রেখে কমিশন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সবাই খোলামেলা মত দিয়েছেন। অনেক বিষয় মতৈক্যের মত হয়েছে, কিছু বিষয় নিয়ে ভিন্নমত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিজে সক্রিয় হওয়া, নিকট অতীতে দেখেছি ইসি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে অনীহা দেখিয়েছে। যেটা সুষ্ঠু নির্বাচন অর্জনে কাজ দেয় নি। ইসি নিজে যেন সক্রিয় হয়। আমরা লিখিত মতামতও দিচ্ছি। রিটার্নিং অফিসারের নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্ব বিষয়। এক্ষেত্রে নিজস্ব লোকও হতে পারে; অথবা ইসির চিহ্নিত জেলা প্রশাসকও হতে পারে। এ কর্মকর্তা নিয়োগেও সক্রিয় থাকতে হবে। ইসির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না বা প্রতিকার নেই। এটাতে সক্ষমতা প্রমাণ হয় না। এ জন্য সক্ষমতা দেখানো জরুরি। অভিযোগ আমলে নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক অনিয়ম রোধ হত। ভয়মুক্ত নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার, প্রার্থী, প্রস্তাবক-সমর্থক, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ভয়ে থাকে। ভয়মুক্ত নির্বাচন করতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টা গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের দৃশ্যমান গুরুত্ব পেয়েছে। সেনা মোতায়েনের দৃশ্যমান করতে হবে। নির্বাচন এককভাবে সুষ্ঠুভাবে করতে পারে না। এ জন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ইসির বিষয় নয়। এটা রাজনৈতিক দলের আলাপ আলোচনা করেই ঠিক করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে সংলাপ হওয়া দরকার। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে বর্তমান সরকার থাকবে নাকি অন্যরা থাকবে। তবে এ সময়ে সংসদ ভেঙ্গে দেয়াটা জরুরি। না হলে তিন শ’টি ক্ষমতার বলয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। ওই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওপর ইসির কর্তৃত্বটা রাখা খুবই জরুরি। ইভিএম নিয়ে বিতর্ক হলে সময় বেশি ব্যয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংসদ ভেঙ্গে দিলে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়ে ভালো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, পানামা পেপারসের নাম আসা বাংলাদেশিরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়টি ইসিকে বলেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যেসব দল বিশ্বাস করে না তাদের যেন নতুন করে আর নিবন্ধন না দেয়া হয় সে বিষয়ে ইসিকে বলেছি। সেই সঙ্গে জামায়াতকে নতুন কোনো নামে যেন নিবন্ধন না দেয়া হয় সে বিষয়ে বলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আজকের আলোচনায় অনেক মত এসেছে। তবে বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী বলেছেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা উচিত। সবাই বলার চেষ্টা করেছেন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা উচিত। কমিশন শক্তিশালী না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ইসির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দরকার। প্রশিক্ষণ থাকলে ৭৫ শতাংশ অনিয়ম দূর করা সম্ভব। কমিশনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিবন্ধী ও বেদে সমপ্রদায়ের চাহিদা ও বিশেষ প্রয়োজন মিটিয়ে নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারে আমাদের প্রস্তাবনা ছিল যারা সংসদ সদস্য তারা দায়িত্বরত থাকবেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরে সংসদ ভেঙে যাবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত অলিউর রহমান বলেন, আলোচনায় মূল ফোকাসটা দেয়া হয়েছে- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে। আমরা যেন সবার অংশগ্রহণে ভোট দেখতে পাই। সহায়ক সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অনেকে বলেছেন তত্ত্বাধায়ক সরকার আনা হোক। আমরা বলছি- এটা আনা সম্ভব না, এটা ডেড ইস্যু। আর্মি নিয়ে আসার কথা বলা হচ্ছে- আমরা বলেছি তাদের ম্যাজিস্ট্রেসিয়াল পাওয়ার দেয়া ঠিক হবে না। আর্মিকে ভোটে আনার দরকার নাই। পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার কথা তুলেছে-আমরা বলেছি ভেঙ্গে দেওয়া যাবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গোষ্ঠী সমালোচিত বিষয়গুলোকে ঘুরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ভোটের সময় সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারলেই জনগণ সন্তুষ্ট থাকবে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। ভোটে সেনা মোতায়েন করার কথা এলেও তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়ার কথা উঠেনি। ইসি সঠিকভাবে কাজ করলে কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের পছন্দ করবে না। তবে জনগণকে তারা পাশে পাবে। অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন হচ্ছে সুপার পলিটিক্যাল ইভেন্ট। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দলগুলো ফল ঘরে তোলে। কিন্তু এখনকার সংকট দূর করে নির্বাচনী কৌশলে আসতে হবে।
নাগরিক সমাজের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাবেক সচিব এ এইচ এম কাশেম, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এ এফ গোলাম হোসেন, সাবেক সচিব রকিব উদ্দিন মণ্ডল, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক এমএম আকাশ, অধ্যাপক অজয় রায়, মানবধিকারকর্মী খুশী কবির, সাইফুল হক, সঞ্জীব দ্রং, ফিলীপ গায়েন, ব্রতীর নির্বাহী শারমিন মুর্শিদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী। সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা তাদের (সুশীল সমাজকে) আশ্বস্ত করেছি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার চেষ্টা করব। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন যে কাজগুলো করে, তা আগে থেকেই গুছিয়ে নেয়া উচিত এমন পরামর্শ এসেছে সুশীল সমাজের কাছ থেকে। এ পরামর্শ আমরা শুনেছি। সামগ্রিকভাবে তাদের সব কথাই শুনেছি। ধাপে ধাপে আমরা অন্য সবার সঙ্গে কথা বলব। সামনে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের কাছেই আলাপ-আলোচনার বিষয়গুলো পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পানামা পেপারসে যাদের নাম আছে, তাদের প্রার্থী না করার বিষয়ে সুপারিশ করেছেন অনেকেই। কিন্তু আইনের মধ্যে এ নিয়ে কিছু বলা নেই। আমরা খোঁজখবর করব। আইনে বলা আছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী না করার কথা। কিন্তু পানামা পেপারসের অভিযোগের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এ সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কোনো চাপ আসবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তারা একটা সমঝোতায় আসতে পারে বলে মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। কিন্তু চাপ তৈরি হবে কি না, এটা বলা সম্ভব নয়।
এদিকে সংলাপে আমন্ত্রিত ৫৯ জন প্রতিনিধির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই অনুপস্থিত ছিলেন। ২৫ জনের পরিচিতি পর্ব দিয়ে এ সভার শুরু হয়। পরে আরো অন্তত পাঁচজন সভায় যোগ দেন। আলোচনার শুরুতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা স্বাগত বক্তব্য দেন। চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে গত ১৬ই জুলাই দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।