ইয়াবা বহন ও পাচারের অভিযোগে রোহিঙ্গা বহনকারী ২০ নৌকা ধ্বংস

30

শাহ পরীর দ্বীপে রোহিঙ্গা বহনকারী প্রায় ২০টি নৌকা ধ্বংস করে দিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, এসব নৌকা ব্যবহার করে পাচারকারীরা ইয়াবা বহন করছিল বাংলাদেশে। রাখাইনে সহিংসতা থেকে পালানো বেশ কিছু রোহিঙ্গাও ছিল ওই নৌকায়। তাদের অনেকে অভিযোগ করেছে, শাহ পরীর দ্বীপে নামার পর নৌকার যাত্রী ও মাঝিমাল্লাকে প্রহার করা হয়েছে। তারপর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ-এর স্থানীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম তাদেরকে প্রহার করার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই অভিযান চালানো হয়েছিল মানব ও ইয়াবা পাচারের বিরুদ্ধে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরো বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে ওই নৌকাগুলো শাহ পরীর দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয়রা তা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলে। কর্নেল আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নৌকায় করে এপাড়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য আয়োজকরা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কিছু আরোহী বলেছেন, এই সফরের জন্য জনপ্রতি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা করে। অন্যদের বিনা ভাড়ায় পাড় করে দেয়া হয়েছে। লেফটেন্যান্ট আরিফল ইসলাম বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় পানির ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ডরা। কিন্তু নৌকার চার আরোহী বলেছেন, নৌকায় কোনো মাদক ছিল না। রয়টার্স লিখেছে, টেকনাফের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ইব্রাহিম হোলিল বর্ণনা দিয়েছেন কিভাবে তাকে প্রহার করা হয়েছে। তিনি যখন নৌকা থেকে আত্মীয়-স্বজনদের নামাচ্ছিলেন তখনই একজন বর্ডার গার্ডের সদস্য একটি লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ওই নৌকায় আমাদের টুকিটাকি জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ৬৫ বছর বয়সী ফারোজ আহমাদ বলেছেন, তার দুই ছেলে সুরা আহম্মেদ ও দিলদার আহম্মেদকে নৌকা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তার এই দু’ ছেলে নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করেছে। কারণ, তাদের কাছে ভাড়া পরিশোধ করার মতো কোনো অর্থ ছিল না। ফারোজ আহমাদ বলেন, তারা আমার সারা শরীরে প্রহার করেছে। জানি না আমার ছেলেরা কোথায় আছে। জানি না কেন আমার ছেলেদের গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। লোকজন আমাদেরকে বলেছে, বিজিবি আমাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেবে। কিন্তু তার পরিবর্তে তারা এখানে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করছে। সারা রাত আমাদেরকে বসে কাটাতে হয়েছে। এসব অভিযোগের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, এমনটা কখনো সম্ভব নয়। আপনারা আপনাদের সোর্স ও উদ্দেশ্য যাচাই করুন। উল্লেখ্য, ভেঙে ফেলা নৌকার অবশিষ্টাংশ দেখতে পেয়েছেন রয়টার্সের সাংবাদিকরা। পাশেই রাখা ছিল হাতুড়ি ও চাপাতি। স্থানীয় জেলে রবি ইসলাম বলেছেন, নৌকাগুলো নষ্ট করে দিতে স্থানীয় লোকজনকে অর্থ দিয়েছে বিজিবি। গত মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো জেলে যদি কোনো রোহিঙ্গাকে পাড় করে দেয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তারা দমনপীড়ন চালাবে। তারা এমন ঘটনাকে মানবপাচার হিসেবে বর্ণনা করেছে। উল্লেখ্য, স্থাল ও সমুদ্র সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এতে একটি দরিদ্র দেশের দরিদ্রতম অঞ্চলের ওপর বড় বেশি চাপ পড়ছে। একজন শরণার্থী বলেছেন, সীমান্তের ওপাড়ে মিয়ানমারে বুধবার রাতেও কমপক্ষে ৬ হাজার রোহিঙ্গা অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য। তিনি বলেছেন, নৌকা ভেঙে দেয়া এবং গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্য নৌকার মালিকরা উদ্বিগ্ন। এতে এসব মানুষকে পাড় করার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। ওদিকে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২ কোটি ৯৪ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এটা শতকরা ২৫০০ ভাগ বেশি। সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব রোহিঙ্গাকে সহজে সনাক্ত করা যায় না তারাই পাচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয়। ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এ ঘটনাকে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা