উনিশের উচ্ছ্বাসে রঙিন হলো চ্যানেল আই

38

‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে ধারণ করে ১৯ বছরে পা রেখেছে দেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’। উনিশের উচ্ছ্বাসের রঙ গায়ে রাঙিয়ে অতীতের মতো আগামী দিনেও চ্যানেল আই সৃষ্টিশীলতার অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে এই আশা বিশিষ্টজনদের। আর চ্যানেল আই এই অঙ্গীকার নিয়েই উৎসব আয়োজনে ১৯ বছরের পথচলা শুরু করেছে। এ উপলক্ষে ১লা অক্টোবরের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ০১ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা নিজস্ব প্রাঙ্গণ চেতনা চত্বর ছাতিমতলায় কেক কেটে জন্মদিনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। চ্যানেল আই পরিবারের সঙ্গে এই আনন্দঘন মুহূর্ত ভাগ করে নিতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শিশু ও মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মো. তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, প্রফেসর আবদুল মান্নান খান ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় চ্যানেল আই পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক আবদুর রশিদ মজুমদার ও মুকিত মজুমদার বাবু, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা, উপস্থাপিকা ফারজানা ব্রাউনিয়াসহ শুভানুধ্যায়ীরা। ১৮তম বর্ষপূর্তি ও ১৯ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই-এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা। শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ। চ্যানেল আই-এর কোটি কোটি দর্শককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ১৯ বছরে চ্যানেল আই। এ আনন্দ আমরা দেশ-বিদেশে নানা রকমে পালন করছি। আমরা গর্বিত। অহংকার বোধ করছি আমাদের ‘চ্যানেল আই’ ১৯ বছরের পথচলা শুরু করেছে। চ্যানেল আই মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাটুকু অর্জন করেছে। সেজন্য চ্যানেল আই পরিবারের উনিশের উচ্ছ্বাস আজ পৃথিবীময় সকল বাঙালির। শাইখ সিরাজ বলেন, দর্শকের সঙ্গে চ্যানেল আইর সেতুবন্ধন ও পারস্পরিক যোগাযোগ এখন অনেক বেশি সমপ্রসারিত। আমরা মনে করি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চ্যানেল আই পরিবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবেও কোটি দর্শকের কাছে সবসময় পৌঁছে যাচ্ছে চ্যানেল আই। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় কেক কেটে ১৯তম জন্মদিনের কার্যক্রম সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সায়ীদ, বিচারপতি (অব.) শামসুউদ্দিন চৌধুরী মানিক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. শফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব, বিএনপি নেতা এস এ সুলতান, জহির উদ্দিন স্বপন, আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মোহন, ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, লে. জেনারেল (অব.) মো. মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা অসীম কুমার উকিল, সাবেক এমপি নাজমা আক্তার, বিজিবির প্রতিষ্ঠাতা ডিজি (অব.) মাঈনুল ইসলাম, সাবেক এমপি নীলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপি চেয়ারপার্সনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অধ্যাপক অপু উকিল, অঞ্জনা সুলতানা, জাতীয় পাটির সাবেক এমপি ফখরুল ইমাম, নাজমুল হক প্রধান, বিএনপি নেতা হাবিবুন-নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আমাতুল চৌধুরী কেয়া, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট স ম রেজাউল করিম প্রমুখ ও চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা। এ সময় আগত বিশিষ্টজনরা চ্যানেল আই-এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, চ্যানেল আইর আগামীর পথচলা আরো সুন্দর ও বেগবান হোক। চ্যানেল আই সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নারী শিক্ষাসহ দেশের সকল বিভাগে সঠিকভাবে অবদান রেখে চলেছে চ্যানেল আই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার ও গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা চ্যানেল আইকে আরো শীর্ষে নিয়ে যাবে। এর আগে ১লা অক্টোবর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে লাল-সবুজ রঙের একঝাঁক বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্বে অংশ নেন ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম, সেলিম ওসমান এমপি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, ড. এনামুল হক, কেরামত মওলা, সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, আসমা আব্বাসী, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ফেরদৌস আরা, শাহীদ সামাদ, নাশিদ কামাল, তপন মাহমুদ, লীনা তাপসী খান, শফি মণ্ডলসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা। দিনব্যাপী চ্যানেল আই প্রাঙ্গণের চেতনা চত্বরে অস্থায়ী উৎসব মঞ্চে গান পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা ও সুরসপ্তক, ফেরদৌস ওয়াহিদ, কিরণ চন্দ্র রায়, শফি মন্ডল, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, শাহীন সামাদ, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, বাদশা বুলবুল, এলআরবি আইয়ূব বাচ্চু, চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ ও বাংলার গানের শিল্পীরা। জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। ৩০শে সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১লা অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত চ্যানেল আই-এর সুহূদদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দ। চ্যানেল আইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন দেশের সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, ক্রীড়া সংগঠক, ছোট ও বড় পর্দার অভিনয়শিল্পী এবং কলাকুশলীবৃন্দ, সংগীতশিল্পী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষক সমাজ, প্রকৃতিপ্রেমীসহ বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ। উল্লেখ্য, চ্যানেল আই যাত্রা শুরু করে ১৯৯৯ সালের ১লা অক্টোবর। দু’বছর পর এদিন চালু হয় সংবাদ। ২০১৫ সালের ২০শে এপ্রিল যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন। এ বছরের ১লা অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে এইচডি ফরমেটে সমপ্রচার শুরু করেছে এই চ্যানেলটি।