একই চিত্র জাকিরুলের বাড়িতে

21

মালিতে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জাকিরুলের নেত্রকোনার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। সদাচারী জাকিরুলকে অকালে হারিয়ে এলাকাবাসীও শোকে মুহ্যমান। কেউ এ মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিপুল মিয়া জানান, মৃত্যুর সংবাদে এলাকার শত শত মানুষ জাকিরুলদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন, পূর্বধলা থানার পরিদর্শক অভি রঞ্জন সরকার, স্থানীয় জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদা খাতুন।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া গ্রামের সরকার বাড়ির সফির উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলাম সোহাগ। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট জাকিরুল।
জাকিরুলের বড় ভাই নাজমুল আলম সরকার জানান, জাকিরুল ২০০২ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। বিয়ে করেন ময়নসিংহের মেয়ে তামান্না সরকারকে। এরই মাঝে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক হন। সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি পেয়ে হন ল্যান্স করপোরাল। চলতি বছরের মে মাসের ১৭ তারিখে বাংলাদেশ ছেড়ে যান আফ্রিকার মালিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে মৃত্যুর সংবাদ রোববারই পান বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সেনাবাহিনী থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে, চারদিনের মধ্যে যে কোনো দিন মরদেহ আসবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে। জারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুকুল তালুকদার জানান, জাকিরুলের বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। এলাকার মানুষও শোকগ্রস্ত।
গতকাল সকালে জাকিরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা সবাই কাঁদছেন। কান্নার রোলে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এলাকার অনেককে দেখা গেছে চোখ মুছতে। জাকিরুলের মা ও স্ত্রী নানা স্মৃতির কথা বলতে বলতে আহাজারি করছেন। জারিয়া গ্রামের দুলাল মণ্ডল বলেন, জাকিরুল ছিলেন সদাচারী একজন মানুষ। এলাকার কারো সঙ্গে অসদাচরণ করেননি। সবার সঙ্গে মিশতেন। ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের সবার খোঁজ-খবর নিতেন। এমন একজন মানুষ অকালে চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত।
জাকিরুলের চাচা আবদুর রশিদ সরকার বলেন, গতকাল খবর পাওয়ার পর থেকে জাকিরুলের অসুস্থ বাবা সফির উদ্দিন বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। মা জোসনা সরকারকেও সান্ত্বনা দিয়েও রাখা যাচ্ছে না। ছেলে জাকিরুলের ছবি বুকে নিয়ে আহাজারি করছেন। জাকিরুলের স্ত্রী তামান্না সরকারেরও একই অবস্থা। জাকিরুলের দুইটি ছেলে। বড় ছেলে তায়িসের বয়স ছয় বছর। ছোট ছেলে তাজদিকের বয়স তিন বছর। এই অবুঝ শিশুগুলো এতিম হয়ে গেল।

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা