এজিএম, ইজিএম, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় বিসিবি

26

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। আদালতের রায় বিসিবি’র পক্ষে আসায় তাদের নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা নেই। তবে তার আগে সেরে নিতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে না করা বার্ষিক সাধারণ সভাটা (এজিএম)। গঠনতন্ত্র নিয়ে রায় নিজেদের পক্ষে এলেও চাওয়াটা পূর্ণ করার আগে অপেক্ষাই করতে হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটিকে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এলে এজিএম, ইজিএম, নির্বাচন করা যাবে কারণ সেখানে থাকবে এসব বিষয়ে দিক-নির্দেশনা।
রোববার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘কোর্টের রায়ের কপিটি আমাদের হাতে আসেনি। যা শুনেছি তাতে করে মনে হচ্ছে মামলাটা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। যদি নিষ্পত্তি হয়ে যায় তাহলে তো আমাদের সামনে আগাতে হবে। এজন্য এজিএম, ইজিএম যেগুলো বাকি আছে সেসবের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই এটা করবো। যদি এর মাঝে আমাদের কাছে রায়ের কপিটি চলে আসে তবে কোর্টের কী কী নির্দেশনা সেটা দেখে আমরা যদি পারি, সে সময়ের মধ্যেই সব করবো।’ আদালতের রায়ের পর নির্বাচনটাই ছিল রোববারের সভাতে। এছাড়াও নতুন কোচ নিয়োগ ও জাতীয় দলের নির্বাচকদের আরও এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধিও করা হয় এ সভাতে।
আগামী অক্টোবরে শেষ হবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন কমিটির চার বছরের মেয়াদ। ২০১৩ সালের ১০ই অক্টোবর নির্বাচনে জয় লাভের পর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেনি বর্তমান বোর্ড। রোববার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৭তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে করা হবে এজিএম ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম)। সংশোধিত গঠনতন্ত্রেই গত নির্বাচন হয়েছিল। তবে জল ঘোলার শুরু ২০১২ সালে। বিসিবি’র বিশেষ সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে এনএসসি’র কাছে গঠনতন্ত্র পাঠানো হয়েছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই করে সংশোধন এনে বিসিবিতে ফেরত পাঠায়। পরে বিসিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এনএসসি। বিষয়টি নিয়ে রিট করা হয়। সেই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বুধবার সেই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত। বিসিবি চাইলে এখন প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেরাও গঠনতন্ত্রে সংশোধন আনতে পারবে।
পেসারদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ করে আনা হয়েছে কোর্টনি ওয়ালশকে। কিন্তু যে স্পিন শক্তির বাংলাদেশ বলে পরিচিতি পেলো সেই স্পিনারদের জন্য নেই কোনো মানসম্পন্ন কোচ। শ্রীলঙ্কান রুয়ান কালপাগের বিদায়ের পর থেকেই একজন স্পিন কোচের সন্ধানে ছিল বোর্ড। যে কারণে সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজদের জন্য কোচ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের সভা শেষে এমনটাই বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, ‘বোর্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় যে ক’জন আছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার ম্যাকগিল। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য নিয়োগ দেয়া হবে স্পিন কোচকে।’
বোর্ড সভায় অবশ্য সুখবর পেয়েছেন দলের নির্বাচকেরা। বর্তমান নির্বাচক কমিটির সবার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এইচপি দলের জন্য পেস বোলিং কোচ হিসেবে যিনিই নিয়োগ পান না কেন, তাকে দুই বছরের চুক্তিতেই আনা হবে। এক্ষেত্রে বোর্ডের প্রথম পছন্দ জাতীয় দলের সঙ্গে আগে কাজ করে যাওয়া চম্পাকা রামানায়েক।