ঐশীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন

42

বাবা মাকে হত্যার অভিযোগে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ঐশীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ই মে ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় যে কোন দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল আদালত।

গত ১২ই মার্চ এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। মোট ১৩ কার্যদিবসে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষ হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম। ঐশীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।
এর আগে নিম্ন আদালতে রায়ের পর ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ২০১৫ সালের ১৯শে নভেম্বর হাইকোর্টে আসে। ওই বছরের ৬ই ডিসেম্বর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে ঐশী। শুনানিকালে ঐশীর মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। পরে গত ১০ই এপ্রিল ঐশী আদালতে হাজির হলে বেঞ্চের দুই বিচারক বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকদের খাস কামরায় ঐশীর সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলে তার মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। ২০১৩ সালের ১৬ই আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে, এর আগেই ছোট ভাইকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনার পরদিনই ঐশীর চাচা মশিউর রহমান পল্টন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৪ সালের ৯ই মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৫ সালের ১২ই নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদ। রায়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেয় আদালত। হত্যায় সহযোগীতা করার অভিযোগে এ মামলায় ঐশীদের বাসা অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মী সুমিকেও আসামি করা হয়। তার বিচার কিশোর আদালতে চলছে।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi