ওএমএস চালে ক্রেতাদের আগ্রহ কম

34

খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ। প্রায় মাস হতে চলেছে তবুও বাড়েনি চালের বিক্রি। বরং আগের থেকে কমেছে। শুরুতে ক্রেতাদের চালে আগ্রহ যা ছিল এখন তাও নেই। প্রতিদিন ডিলারদের স্টকে চাল থেকে যাচ্ছে। এবারই প্রথম ওএমএসে দেয়া হয়েছে আতপ চাল। দামও দ্বিগুণ করে হয় ৩০ টাকা কেজি। শুরুতে চালের মান ভালো থাকলেও এখন নিম্নমানের চাল দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অন্যদিকে আটা বিক্রি হচ্ছে আগের মতো। প্রতিদিন যে পরিমাণ আটা ডিলারদের দেয়া হয় তার থেকে চাহিদা রয়েছে অনেক বেশি। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে কোন কোন পয়েন্টে ট্রাক নিয়ে বিক্রেতারা বসে থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি নেই। এ সুযোগে ডিলারের সহযোগীরা গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। যেসব পয়েন্টে লোকজনের লাইন দেখা গেছে তাদের অনেকে আবার আটা কেনার জন্যই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। মাঝেমধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।
মিরপুর অঞ্চলের শাহআলী মাজার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, আনসার ক্যাম্প, কল্যাণপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও তালতলা পয়েন্টে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব পয়েন্টে কথা হয় ক্রেতা, বিক্রেতা এবং ডিলারদের সঙ্গে। শাহ আলী মাজার পয়েন্টে প্রতিদিন চাল-আটা কেনেন নুর মোহাম্মদ নামে এক দিমজুর। চালের মান দেখে তিনি চাল কিনতে অস্বীকৃতি জানান। এই ক্রেতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দোকানের চেয়ে এখান থেকে অর্ধেক দামে চাল কেনা যায় তাই আসি। তবে ছেলে-মেয়েরা আতপ চাল এখন আর খেতে চায় না। আর চালের মানও ভালো না। আজ শুধু আটা কিনবো। যদিও ওএমএসের লোকজন চাল না কিনলে শুধু আটা বিক্রি করতে চায় না। একই পয়েন্টের ডিলারের সহযোগী কামাল হোসেন বলেন, আমরা একেক দিন এককে পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রি করি। আমাদের আটা বেশি চলে তবে চাল প্রতিদিন থেকে যায়। আতপ চাল খেতে রাজধানীর মানুষ অভ্যস্ত নয়। আমাদের তো আনতেই হবে না আনার কোন অপশন নেই। প্রাথমিক অধিদপ্তর পয়েন্টে কথা হয় নাজমা নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। গতকালই প্রথম ওএমএসের চাল-আটা কিনতে এসেছেন এ ক্রেতা। পাঁচ কেজি চাল কিনেই দেখেন তাতে পোকায় ধরা এবং গন্ধ। চাল ফেরতও দিতে পারছেন না। শেষে চাল-আটা নিয়ে চলে যান আর বলেন আর কখনো এ চাল কিনবো না। এর চেয়ে কষ্ট করে কম খেয়ে থাকবো। এ পয়েন্টে বিক্রেতার কাজ করেন কালাম ও মাজেদ। দুজনই ট্রাক ড্রাইভার। দিনের বেলায় বিক্রেতার কাজ করেন। অন্যদিকে রাতে চাল নিয়ে আসেন গুদাম থেকে। বিক্রেতা কালাম বলেন, আমাদের চাল দুপুর পর্যন্ত পাঁচ বস্তাও বিক্রি হয়নি অথচ আটা প্রায় শেষ। সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকলেও চাল অর্ধেক বিক্রি হয় না। ওএমএএস ডিলার ইমরান হোসেন রতন বলেন, বর্তমানে আমাদের যে চাল দেয়া হচ্ছে তা অনেক নিম্নমানের। ক্রেতারা কিনবে কি আমাদের তো আনতে ইচ্ছে হয় না। ভালো মানের আতপ চাল হলেও বিক্রি চাহিদা থাকে। প্রতিদিন যে পরিমাণ চাল থেকে যায় তা পরবর্তী দিনের সঙ্গে ব্যালেন্স করে নিই। বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যালেন্স দেখিয়ে চালান দেই। আর যদি চাল নিতে না চাই তাহলে আমাদের ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই চাল নিতে হয় আমাদের ডিলাদের। শেওড়াপাড়া পয়েন্টে দেখা যায় ওএমএস ট্রাকসেলের বিক্রেতারা গল্প করছেন। সকালে কিছু ক্রেতা এলেও দুপুরে ছিল একবারেই ফাঁকা। একই চিত্র তালতলা ও কল্যাণপুরের ট্রাকসেলেও। তবে এ পয়েন্টে মাঝেমধ্যে দুই একজন ক্রেতা আসেন।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা