ওএমএস যাচ্ছে উপজেলা পর্যায়ে ১০ টাকার চাল মিলছে না

46

দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি স্থগিত করেছে সরকার। আর আজ থেকে উপজেলা পর্যায়েও চালু হচ্ছে ওএমএস (স্বল্প মূল্যে খোলাবাজারে চাল বিক্রি) কর্মসূচি। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সরকারের তিনজন সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে চাল ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে এমন তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের চালের দাম কমানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে ৫০ লাখ মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আগামীকাল (আজ) থেকে সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ওএমএস কর্মসূচি চালু করছি। চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকালের বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চালের দামের অস্থিরতা কাটাতে সরকার রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করলেও এ নিয়ে প্রচার না থাকা এবং আতপ চাল বিক্রির কারণে খোলাবাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কম দেখা গেছে। খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা প্রতি কেজি ১৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল ও আটা নিতে পারবেন। গতকাল রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় এএমএসের ‘ট্রাক সেল’ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা নির্ধারিত স্থানে সময়মতো চাল-আটা নিয়ে উপস্থিত থাকলেও নেই আশানুরূপ ক্রেতা। আবার যেসব ক্রেতা ট্রাক থেকে চাল কিনতে আসছেন, তাদের অনেকেই আতপ চাল দেখে ফিরে যাচ্ছেন। বেশকিছু ট্রাকের বিক্রেতা আলাপকালে জানান, আটা বিক্রি হলেও চালের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওএমএসের ট্রাকে অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতা ছিলেন অল্প কয়েকজন। ক্রেতারা বেশিরভাগই এসেছিলেন আটা কিনতে। ট্রাক সেলের কর্মী মিরাজ বলেন, এই বার বেচা-বিক্রি খুবই কম। ক্রেতা নেই বললেই চলে, আতপ চাল পিঠা বানানোর চাল মনে করে মানুষ কিনতে চাচ্ছে না। একই চিত্র দেখা যায় ধানমন্ডির শঙ্করে ওএমএসের ট্রাক সেলে। সকাল থেকে ট্রাকে চাল নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও ক্রেতার তেমন সাড়া ছিল না। ক্রেতা রুবেল শেখ বলেন, আগে সিদ্ধ চাল যেখানে ১৫ টাকায় দিয়েছে এখন বেশি দামে আতপ চাল দেয়া হচ্ছে। আমরা এ চালের ভাত খেয়ে অভ্যস্ত নই। এ চালের ভাতে কোনো স্বাদ নেই।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতপ চাল ক্রয়ে অনীহা থাকার কারণে একদিকে দেখা দিয়েছে ক্রেতা শূন্যতা, অন্যদিকে লোকসানের কথা চিন্তা করে ওএমএসের ডিলার বা বিক্রেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা। রাজধানীর কলাবাগান এলাকার ডিলার মো. মোস্তফা বলেন, ট্রাক সেলে এবার চালের চেয়ে আটা বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি গুদাম থেকে আমাদের প্রতি কেজি চাল কেনা পড়ে ২৮ টাকা। আর বিক্রি করছি ৩০ টাকা করে। গ্রিনরোডের একজন ওএমএস ডিলার বলেন, জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে দিনে এক টন চাল বিক্রির টার্গেট থাকে আমাদের। কিন দেয়া হচ্ছে আতপ চাল। তার ওপর দামও আগের চেয়ে বেশি। ২০ বস্তা চাল নিয়ে আসলেও, অর্ধেকের বেশি ফেরত নেয়া লাগে।

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা