ওদের সান্ত্বনা দেবে কে?

47

পাঁচ বছর বয়সী মরিয়ম আর আড়াই বছর বয়সী আতিকুর রহমান। দুইজনই বাবা ও মায়ের সঙ্গে থাকতো। ৭ মাস ধরে তাদের বাবা একটি মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে মা লাইলী বেগমই আগলে রেখেছিলো
মরিয়ম এবং আতিকুরকে। কিন্তু লাইলী বেগমও না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এখন মরিয়ম এবং আতিকুর বড় একা। অবুঝ মরিয়ম ও আতিকুর অপেক্ষা করছেন তাদের মা কাজ শেষে ফিরে আসার। বাড়িতে এত মানুষের ভিড় দেখে ওরা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
দক্ষিণ বনশ্রীর জি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মুন্সী মঈনুদ্দিনের ফ্ল্যাটে কাজ করতেন লাইলী বেগম। শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে ফ্ল্যাটের একটি বেডরুমে লাইলীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বাড়ির লোকজন। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড অভিযোগ করে এলাকাবাসী মঈনউদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। লাইলী থাকতেন খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়ার সুমন আলীর টিনসেডের বাড়িতে। সে ঘরে মরিয়ম আর আতিকুর একা। লাইলীর ফুফাতো বোন আফসানা বেগম তাদের দুইজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
আফসানা জানান, ৮ বছর আগে লাইলীর সঙ্গে নজরুলের বিয়ে হয়। তাদের দুইজনের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলপুর উপজেলার আজুয়াটারী এলাকায়। নজরুল গরু ব্যবসায়ীদের কর্মচারী ছিলেন। যেসব ব্যবসায়ী কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার গাবতলীতে গরু নিয়ে আসতেন তাদের কর্মচারীর কাজ করতেন নজরুল। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে নজরুল তার পুরো পরিবারকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তারা খিলগাঁও এলাকার মেরাদিয়ার থাকতেন। ঢাকায় আসার পর লাইলী বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতো। যে বাড়িতে ঘটনা ওই বাড়িতে লাইলী ৩ মাসের টাকা পেতেন। টাকা চাওয়ার কারণে তাকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, মরিয়ম এবং আতিকুরের এখন কেউ নেই। তার বাবা একটি মামলায় কারাগারে আটক রয়েছে। তার বাবা কারাগার থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত তারা দুইজন আমাদের কাছেই থাকবে।
নিহত লাইলীর বান্ধবী রোকসানা বেগম রুবি জানান, আমাদের এখন একটাই কষ্ট দুই শিশুর জন্য। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। তার বাবা যদি পরে একটি বিয়েও করে তাহলে সৎ মায়ের কাছে তাদের বড় হতে হবে। রোকসানা জানান, তিনিও ২ বছর আগে মঈনুদ্দিনের বাড়িতে কাজ করতেন। বেতনের কথা বললে তাকে টাকা চুরির মামলায় হুমকি দেয়া হতো। আমরাতো গরিব। মামলা দিলে আবার মামলা কিভাবে চালাবো। তাই তার কাছে পাওনা রেখে আমি কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। তিনি লাইলী বেগমের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানান।
নিহতের বান্ধবী সোমা জানান, লাইলীর মেয়ে মরিয়ম কিছুটা বুঝেছে যে তার মা মারা গেছে। তবে আতিকুর কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। আতিকুর এখনও বলছে যে, তার মা কাজে গেছে। রাতে বাড়ি ফিরবে। তাদের কথায় আমরা কেউ কান্না ধরে রাখতে পারছি না।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi