ওয়ানডে সিরিজে এমন হবে না

24

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। প্রথম ম্যাচে ইনিংস হার এড়ালেও দ্বিতীয় ম্যাচে লজ্জায় ডোবে টাইগাররা। দুই টেস্টের টানা তিন ইনিংসে টেনেটুনে ১০০ পেরিয়েছে রানের কোটা। কেন এমন বাজে ব্যাটিং? ১৫ই অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ। সেখানে কেমন হবে দলের ব্যাটিং? টেস্টের মতো! জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রত্যাশা ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। একই প্রত্যয় সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ দিপু রায় চৌধুরীরও। কিন্তু এমন ব্যাটিং নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো কিভাবে সম্ভব? দিপু রায় চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাতে টেস্টে কেন এমন ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ তার কারণ সবাই বলছে টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়াটা ভুল হয়েছে। আসলে কি তাই? আমার কাছে মনে হয়েছে অন্য কিছু। সেটা হলো- আমরা কিন্তু লংঙ্গার ভার্সন কম খেলি। এরপর দেখেন আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ আমরা আরো কম খেলি। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গাতে তো আরো কম খেলা হয়েছে। সর্বশেষ আমরা ২০০৮-এ সেখানে টেস্ট খেলেছি। এই দলে ক’জনের সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল? মূলত টেস্ট কম খেলা ও বাইরের কন্ডিশনে আমাদের অভিজ্ঞতার অভাবেই দল এমনটা করেছে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি। সেই তুলনাতে কিন্তু আমরা ওয়ানডে অনেক বেশি খেলি। দেশে ও দেশের বাইরে আমরা নিজেদের প্রমাণ করেছি। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বলেন আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সব জায়গাতেই আমরা পরিণত ক্রিকেট খেলতে পেরেছি। তার কারণ এ ফরমেটে আমাদের অনেক বেশি ম্যাচ খেলা হয়। যে কারণে আমি বলতে পারি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’
একই কথা জানালেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও কিছুদিন হল ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে কোচিং পেশা শুরু করা ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। তার মতে, দলের তরুণ ক্রিকেটাররা বেশিরভাগই ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকভাবে খেলতে পারেন না। শুধু তরুণরা নয়, জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররাও আন্তর্জাতিক সূচির কারণে দেশের লম্বা ফরমেটের ক্রিকেটে সময় দিতে পারেন না। যার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়ে টেস্ট দলের ব্যাটিংয়ে। তিন বলেন, ‘আসলে আমাদের জাতীয় দলে এখন যারা আছেন তারা কিন্তু ব্যস্ততার কারণে দেশের প্রথম শ্রেণির ম্যাচগুলো খেলতে সুযোগ কম পান। দেখেন টেস্টে আমাদের ম্যাচও অনেক কম হয়। যে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতে আমাদের কেমন খেলতে হবে, কি করতে হবে সেটিতে কিন্তু তারা খুব বেশি অভ্যস্ত নন। আমি মুশফিক বা তামিমের কথা বলছি না। দলে অনেক তরুণ আছেন, যারা এ কন্ডিশনে একেবারেই নতুন। তবে আমি বিশ্বাস করি ওয়ানডেতে এমনটা হবে না। কারণ আমরা কিন্তু ওয়ানডে বেশি খেলি আর জানি এখানে কী করতে হয়।’
ব্যাটিংয়ে উন্নতির জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা চারদিনের ম্যাচ যেন বেশি খেলতে পারে তার জন্য ক্রিকেট ক্যালেন্ডারটা আরো ভালোভাবে করতে বিসিবির প্রতি অনুরোধ জানান ডিকেন্স। তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে আরেকটা বিষয় বলে রাখা ভালো-সমস্যা হতেই পারে। এ জন্য আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে বিশেষ করে চারদিনের ম্যাচে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য অবশ্য আমাদের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারটা খুব বুঝে-শুনে করতে হবে। এ সময় জাতীয় দলে যারা খেলছেন তারা যেন সেই সুযোগটা পান।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত খেলেছে ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ। এর মধ্যে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। যার প্রথমটি এসেছিল ২০০৭-এর বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গায়ানাতে। সেই দলে খেলা মাশরাফি বিন মুর্তজা এখন অধিনায়ক। সেই দলে খেলা সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবালও বর্তমান। ২০১৫ সালে মাশরাফির নেতৃত্বে সিরিজ জিতে নিয়েছিল টাইগাররা। সেটিকে সৌম্য সরকারের সিরিজও বলা যেতে পারে। ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ব্যাট হাতে নেমে সৌম্য সরকারের ৮৮ রানে ভর করে জয় তুলে নেয়। দ্বিতীয় ম্যাচেও চট্টগ্রামে প্রোটিয়াদের ১৬৭ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। সৌম্যের ৯০ রানে ভর করে জয় পায় বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচে একটিতে তামিম ও আরেকটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে এসেছিল ফিফটি। বলা চলে ওয়ানডেতে টাইগাররা নিজেদের আলাদা জায়গাতে নিয়ে গেছেন। যে কারণে দিপু রায় চৌধুরী বলেন, ‘দেখেন ওরা যদি এরপর সেখানে টেস্ট খেলতে যায় তবে ভালো করবে। কারণ এখন তারা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে এখানে কেমন খেলতে হবে। আশা করি টেস্টের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়ানডে ম্যাচে লড়াইয়ে ফিরবে বাংলাদেশ দল।’