কমদামে ইলিশ

29

৬০০-৮০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৪০০-৫০০ টাকা। আর এরচেয়ে ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এককেজি বা তার চেয়ে বড় ইলিশও বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকার নিচে। ইলিশপ্রিয় মানুষ কিনছেও দেদারছে। ঘরে ঘরে ইলিশ রান্নার ঘ্রাণ। সকাল হলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ বাজারে। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার হাতে ইলিশ। আর এর প্রভাবও পড়ছে বাজারে। কমে গেছে মুরগিসহ অন্যান্য মাছের দাম।
দক্ষিণের নদ-নদী ও মোকামগুলোতে গত কয়েক মাসে ইলিশ নিয়ে মহাযজ্ঞ তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে ইলিশর দাম। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি মোকাম ও ছোট-বড় হাটবাজারে এখন শুধু ইলিশ আর ইলিশ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুখরিত ইলিশ মোকামগুলো। এদিকে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধে নানা উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
সকাল ১০টায় নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, যেমন প্রচুর ইলিশ, তেমন অসংখ্য ক্রেতা। শেষ হতে যাওয়া ৪ মাসের ইলিশ মৌসুম কেমন ছিল জানতে চাইলে, ক্রেতারা জানান, মোকামে পর্যাপ্ত ইলিশের আমদানি হলেও পুরো মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। বড় সাইজের ইলিশের আমদানি ছিল খুব কম। তবে এ প্রসঙ্গে ইলিশ ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলেছেন, গভীর সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়েছে। গত কয়েকদিন থেকে নদীতেও মিলছে ইলিশ। এখন জাল ফেললেই ইলিশ আর ইলিশ বাজারে ইলিশের অধিক্য থাকায় দামও এখন নাগালের মধ্যে।
রিকশাচালক কুদ্দুস মুন্সির মতে, গত ১২ বছরে এত কম দামে ইলিশ কিনেননি। তিনি এক হালি ইলিশ কিনেছেন ৪০০ টাকায়। গতবছর এ ইলিশের দাম ছিল তার মতে ১২০০ টাকার উপর।
পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো মোকাম ইলিশে সয়লাব। ইলিশ কেনার জন্য মোকামে হাজার হাজার ক্রেতার আগমন ঘটেছে। সেখানকার ইলিশ আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি অজিত দাস মনু জানালেন, গতকাল মোকামে কমপক্ষে ২ হাজার মণ ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগেও গড়ে ১ হাজার মণ আমদানি হতো। বরিশাল মোকামের পাইকারি বাজারে গতকাল এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯৫০ টাকা করে। ৬০০-৯০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি ছিল ৬০০ টাকা। আর ৫০০ গ্রাম বা তার নিচের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইলিশ মোকাম বরগুনার পাথরঘাটা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে সেখানেও প্রচুর ইলিশের আমদানী ঘটেছে। পাথরঘাটা পাইকারী আড়তদার সমিতির ক্যাশিয়ার জিয়াউল হক মিন্টু জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ওই মোকামে সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। গতকাল ওই মোকামে ৬০০-৯০০ থেকে গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ছিল ৭০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। একই ধরনের দাম ছিল দক্ষিণের অন্যতম ইলিশ মোকাম পটুয়াখালীর আলিপুর-মহীপুর মোকামে। পাথরঘাটার ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক দুলাল মাস্টার জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে শেষবারের মতো ইলিশ নিধনের জন্য সেখানকার সব ট্রলার গভীর সাগরে অবস্থান করছে। আগামী ২৮/২৯শে সেপ্টেম্বর সাগর থেকে সবগুলো ট্রলার একসঙ্গে ফিরলে দাম কমার সম্ভবনা রয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি অজিৎ দাস মনু বলেন, এক সপ্তাহ ধরে মাছ বেড়েছে। পূজার কারণে চাহিদা বেশি হলেও ইলিশ ধরা পড়ছেও বেশি বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, গত কয়েক মাসের তুলনায় এখন প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আগে আরো বেশি ইলিশ আসবে। তিনি বলেন, প্রজনন বৃদ্ধিতে ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুতের ওপর টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ১লা অক্টোবর।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা