কাতালোনিয়া কি স্বাধীন হতে পারবে!

30

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে স্পেন সরকার, অন্যদিকে কাতালোনিয়া রাজ্য সরকার। গত রোববারে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের পর কাতালান প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু স্পেন সরকার এর ঘোর বিরোধী। এমন কি শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপ। ওদিকে কাতালোনিয়ার ভিতরে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভ হচ্ছে। রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এ অবস্থায় যদি কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট পাউগডেমন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েই ফেলেন তাহলে কি হবে! এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বলা হচ্ছে, এমনটা হলে স্পেন সরকার সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করতে পারে। এই অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট সহ তার সরকারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে পারে স্পেন সরকার। তবে পুইগডেমন্ট হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি করেছেন এমনটা করা হলে তা হবে বিরাট এক ভুল। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কাতালোনিয়ায় এখন কি ঘটতে যাচ্ছে! কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট বার বারই স্পেন থেকে তার রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলে এসেছেন। বিশেষ করে রোববারের গণভোটে শতকরা ৯০ ভাগ ভোটে সমর্থন পেয়ে তার সেই গতিতে ত্বরণ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাই বিবিসিকে দেয়া প্রথম সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এই সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে দেয়া হতে পারে। কিন্তু তিনি কি সেই ঘোষণা দিতে পারবেন! এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে স্পেন সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে। স্পেন সরকার বলছে, গত মাসে দেশের সাংবিধানিক আদালত গণভোট আয়োজন স্থগিত করেছে। এ অবস্থায় পুইগডেমন্ট গণভোট দিতে পারেন না। তবে পুইগডেমন্ট আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে তিনি মাদ্রিদ সরকারের সঙ্গে একাধিক বার আলোচনা করতে চেয়েছেন। কিন্তু সরকার তা অবজ্ঞা করেছে। এ জন্য তার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। তাই তিনি বলেন, গণভোট তাকে পূর্ণাঙ্গ ম্যান্ডেট দিয়েছে। ওদিকে স্পেনের সংবিধানে বলা হয়েছে, এই সংবিধান হলো ঐক্যবদ্ধ স্প্যানিশ জাতির ভিত্তিতে রচিত। এখানে সব স্প্যানিশের অভিন্ন অধিকার থাকবে। এতে স্ব-শাসিত জাতিগুলোর ও অঞ্চলের স্বীকৃতি রয়েছে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতালোনিয়ার গণভোট সরকার ও আদালত অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে। তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হলেও স্পেন সরকার তার স্বীকৃতি দেবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়-এর হাতে তাই এখনও স্বাধীনতার ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর অস্ত্র আছে। তিনি তিনি এক্ষেত্রে স্পেনের সংবিধানের ১৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করতে পারেন। এই অনুচ্ছেদটি এর আগে কখনো ব্যবহার করা হয় নি। এর অধীনে সংবিধান ও অন্যান্য আইনের আলোকে যদি কোনো সায়ত্ত শাসিত রাজ্য তার বাধ্যবাধতা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে সেখানে হস্তক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে স্পেন সরকার। এখনও কাতালোনিয়া নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। স্প্যানিশ গুয়ার্ডিয়ংা সিভিল ও জাতীয় পুলিশ বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে এখনও মোতায়েন রাখা হয়েছে কাতালোনিয়ায়। এতে অনেক কাতালানবাসী ক্ষুব্ধ। ওদিকে সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করে তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট। তিনি বলেছেন, এটা করা হলে স্পেন সরকার বড় ভুল করবে। প্রতিটি ভুলের পরে আমরা আরো শক্তিশালী হবো। এক মাস আগে আমরা স্বাধীনতা থেকে যতটা দূরে ছিলাম তার থেকে এখন অনেক বেশি কাছে পৌঁছে গিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে, প্রতিটি ভুলের পরে সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমাদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। ওদিকে মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ ফেলিপ। তার এমন ভাষণ দেয়া বিরল। ওই ভাষণে তিনি কাতালান কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করেন। বলেন, তারা ঐক্যবদ্ধ স্পেন ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়া হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়বে। তবে রোববার গণভোটের সময় সৃষ্ট সহিংসতার বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেন নি। শুধু বলেছেন, সাংবিধানিক শৃংখলা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে সরকারকে। এ াবস্থায় শেষ মুহূর্তে কি কোনো নাটকীয় সিদ্ধান্ত আসবে সমঝোতার! বিশ্লেষকরা বলছে, এখন পর্যন্ত তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট ও অন্য রাজনীতিকরা এরই মধ্যে সমস্যা সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছেন। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাতে সাড়া দেয় নি। তারা বলছে, এটা স্পেনের আভ্যন্তরীণ বিষয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা