কেন এই পাশবিকতা?

36

ধর্ষণে রক্তাক্ত হলো দুধের শিশু তানহা। শিকার হলো নৃশংস খুনের। লাশ ফেলা হলো বাথরুমে। প্রতিদিনই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কোনো না কোনো নারী। হাত-পা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণের পর খুন হলো গৃহবধূ। গণধর্ষণে আর্তনাদে আঁতকে উঠতেই বিধবার মুখে পুরে দেয়া হলো ধারালো ছুরি। ছাত্রদের ন্যায্য দাবির মিছিলে কাছ থেকে গুলি করে চোখ উপড়ে ফেলেছে পুলিশ। গরম পানি ও এসিডে ঝলসানো হচ্ছে গৃহকর্মীর শরীর। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তোলা হচ্ছে হাতের নখ ও রক্ত-মাংসের চামড়া। মুক্তিপণের জন্য শিশু, নারী ও পুরুষের ওপর চলছে বীভৎসতা। সেই সঙ্গে চাঁদার জন্যও প্রাণহানি। মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। নারকীয় উল্লাসে শিশুর পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে মারা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে প্রাণ যাচ্ছে অসহায় মানুষের। সোমবার রাজশাহীতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। বন্ধুর হাতে সম্ভ্রম হারায় সে। মঙ্গলবার রাতে চলন্ত ট্রাকে ধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী।
যৌন লালসা, কুপ্রবৃত্তি, হিংসা, দ্বন্দ্ব ও লোভের মত্ততায় ক্রমেই বাড়ছে মানুষের ওপর মানুষের এমন নানা অমানবিক নির্যাতন। পাশবিক অত্যাচার। ধর্ষণের নির্মমতা হতবাক করে দিচ্ছে। খুনের বীভৎসতায় আঁতকে উঠছে সবাই। কিন্তু কেন এত নির্মমতা? মানবতার এমন বিপর্যয়ের কারণ কী? তা ভাবিয়ে তুলেছে মানুষকে। অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব ও সমাজ কাঠামোর নেতিবাচক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণের প্রস্তুতি না থাকায় এই নির্মমতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ, মনো ও অপরাধ বিজ্ঞানীরা। তবে স্বাভাবিক অপরাধ প্রবণতার কারণে নির্মমতা নিরসন সম্ভব না হলেও তা কমানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন তারা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার যথাযথ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জনসচেতনতা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মানবজমিনকে বলেন, সমাজে অপরাধ আগে ছিল, এখনও আছে। আমাদের মানসিকতা, সামাজিক বৈষম্য ও অসমতা, লিঙ্গ বৈষম্য ইত্যাদি করণে নির্যাতন নেমে আসে। শিকার হচ্ছে ধর্ষণ ও খুনের। তবে এখন এসবের ধরন ও নির্মমতায় পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে, পর্নো ছবির ছড়াছড়ি চলছে, কিছু মানুষের হাতে টাকা আসায় নতুন শ্রেণি তৈরি হচ্ছে। ফলে গতানুগতিকতার বিপরীতে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতা, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও তাদের চাহিদা মোকাবিলায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি নেই। নেই কাউন্সেলিং বা জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ। এর খারাপ ফলাফল হিসেবে বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও এক অভিনেত্রী এবং বগুড়ায় মা-মেয়ে ধর্ষণের পর ন্যাড়া করে দেয়া, বাড্ডায় শিশু ধর্ষণের পর খুনের মতো ঘটনার উদাহরণ সামনে আসলো। তবে মিডিয়ার কল্যাণে তা প্রকাশ হওয়ায় সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় এই অপরাধগুলো কমবে বলেও মনে করেন তিনি।
জানা যায়, স্বাধীনতার আগে-পরের দশকগুলোতে অপরাধ প্রবণতায় দেশে দাঙ্গা, গোষ্ঠীগত মারামারি, রাজনৈতিক সহিংসতা, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদিতে মানুষ হিংসার নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেছে। এসব অপরাধ প্রবণতার অনেকগুলোই ছিল অভাব মোছনের জন্য। লোভের তাড়নায়। বড় লোক হওয়ার উদ্দেশে। তখন নারী ধর্ষণের শিকার হলেও খুনের ঘটনা ছিল কম। তবে সম্প্রতি দেশে অভাব অনটনের প্রকটতা কমে গেছে। বাড়ছে অর্থ প্রবাহ। মানুষের হাতে আসছে টাকা। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে। হাতে হাতে মোবাইল ফোন। ছড়িয়ে পড়ছে পর্নো ভিডিও এবং ছবি। তথ্য প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নেই কোনো সামাজিক উদ্যোগ। জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা। ফলে পর্নো ছবি দেখায় আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ। সৃষ্টি হচ্ছে যৌন লিপ্সা। সুযোগ বুঝে নারী ও শিশুর উপর তা চরিতার্থ করছে। আবার অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার জন্য জিম্মি করা হচ্ছে। নির্মমভাবে খুন করা হচ্ছে। অন্য দিকে হাতে কাঁচা টাকা পয়সা আসায় সৃষ্টি হচ্ছে নতুন শ্রেণির। সেই সঙ্গে ক্ষমতার স্বাদ। তাদের তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন চাহিদা। টাকা ও ক্ষমতার প্রভাবে অন্ধ হয়ে পড়ছে অনেকে। সেই উচ্চ মধ্য ও উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। ছুটছে অনিয়ন্ত্রিত জীবন ও বেপরোয়া যৌনতায়। তাদের শিকার হচ্ছে নারীরা। নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। গত ১৭ই জুলাই বগুড়ায় যুবলীগ নেতা তুফান সরকার কলেজে ভর্তি করে দেয়ার নামে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। পরে বিচারের নামে মা-মেয়ের মাথাও ন্যাড়া করে দেয়।
সমাজের আরেকটা অংশ রয়ে গেছে নিম্নবিত্ত। দারিদ্র্য ও অপরাধের সঙ্গেই তাদের বসবাস। ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা নেই। তাদের কাছে শিক্ষা ও সতেচনতা না পৌঁছানোয় তারা নারী ও শিশুকে কথায় কথায় নির্যাতন করেন। গত রোববার বিকালে বাড্ডায় বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মাত্র ৩ বছর ৯ মাসের শিশু কন্যা তানহাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বাসায় টেনে নেয় শিপন। এরপর তাকে ধর্ষণে রক্তাক্ত করার পর গলাটিপে খুন করে। লাশ ফেলে রাখে টয়লেটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নৃশংসতা কম ঘটছে না। বিচারবর্হিভূত হত্যা তো রয়েছেই। গত ২০শে জুলাই রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ টিয়ারশেল ছোঁড়ে। তাতে চোখ গেছে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ছিদ্দিকুর রহমানের।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক নির্মমতার বেশ কিছু চিত্র। গত জুলাই মাসের উপর তৈরি ওই প্রতিবেদনটি রীতিমত ভয়াবহ নির্মমতার আবাস দিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৮০ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনই শিশু। আর ৩ শিশুই ধর্ষণের পর খুনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই মাসে পিতা-মাতার নৃশংসতার শিকার হয়ে মারা গেছে ৫ শিশু। যৌতুকের বলি হয়েছে ৬ গৃহবধূ। অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন ৭৩ জন। গত সোমবার সংস্থাটি এ তথ্য দেয়। তথ্য মতে, সে মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে ১৪ জন। এর মধ্যে পুলিশের ক্রসফায়ারে ১২ ও র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে ২ জন প্রাণ হারিয়েছে। পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। যার মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। এদের মধ্যে স্বামীর হাতে নিহত হয়েছে ২৩ জন নারী। আর স্ত্রীর হাতে ২ স্বামী। দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে ঘটেছে এসব হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া কুমিল্লায় গর্ভে কন্যা সন্তান আসায় স্ত্রীকে হত্যা করে এক স্বামী। সামাজিক দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন ১৩জন। আহত হয়েছেন ৩১২ জন। নিজের উপর নৃশংসতাও কম ঘটছে না। গত মাসে সারা দেশে আত্মহত্যা করেছে ৫৯ জন। এদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১ জন শিশু রয়েছে।
এদিকে গত রোববার নিহত তানহার পিতা মেহেদী হাসান তারা মানবজিমনকে বলেন, কোনো দিন আমার মেয়ের গায়ে টোকা দিইনি। অথচ সেই পাষণ্ডটা আমার দুধের শিশুকে কী কষ্টই না দিয়েছে। অবুঝ শিশুটির উপর নির্মম আচরণ কী কেউ করতে পারে। কেউ কি শিশুকে খুন করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, নির্মমতার পেছনে বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। বড় কারণ মনস্তাত্ত্বিক। মাদকের করাল গ্রাস, খারাপ পরিবেশে বড় হওয়া, সুস্থ মানসিক বিকাশ না হওয়া, পর্নোগ্রাফীসহ খারাপ উপাদান গুলোর সহজ লভ্যতা, নৈতিকতার অবক্ষয়, ধরা পড়ার ভয় ইত্যাদি কারণে অপরাধে নির্মমতা বাড়ছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম দিলেন নির্মমতার সামাজিক ব্যাখ্যা। তার মতে, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, নারী লিপ্সা, আইন না মানার প্রবণতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি ইত্যাদি কারণেই মূলত অপরাধ বাড়ছে। সেই সঙ্গে নির্যাতন, মারামারি, ধর্ষণ, হত্যা, গুমে, অপহরণের মতো অপরাধে বাড়ছে নির্মমতা। তা হ্রাসের উপায়ও বাতলে দেন তিনি। তার মতে, মাঠপর্যায়ে ঘরে সেবা পৌঁছানোর দায়িত্বে যে স্বাস্থ্য বা অন্যান্য কর্মী রয়েছে তাদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নিলে অপরাধ ও নির্মমতা কমবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহীতে গণধর্ষণের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজশাহীতে এসে দুই বন্ধুর হাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত সোমবার নগীরর শাহ মুখদুম থানাধীন নওদাপাড়া এলাকার গ্রীণ গার্ডেন নামের গেস্ট হাউজের একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নামোশংকরবাটি এলাকায়। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ পাস করেছেন। গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওইদিন রাতেই তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় নগরীর শাহ্‌ মখদুম থানায় গিয়ে ওই দুই জনকে আসামি করে মামলা করেন। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ওই তরুণীর দায়ের করা মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকসহ (ফেসবুক ফ্রেন্ড) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) রাজশাহী শাখার সাবেক শিক্ষক সামশুল আলম বাদশা ও রাজশাহীর গোরহাঙ্গা এলাকার একটি কম্পিউটার দোকানের মালিক আবু ফায়েজ নাহিদ। বাদশার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইল গ্রামে আর নাহিদের বাড়ি একই উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে। তারা দুজনই রাজশাহী শহরের বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১শে জুলাই সকালে ওই তরুণী চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে রাজশাহী আসেন। তার পরে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। হাসপাতালের আউট ডোরে লাইনে প্রচুর ভিড় দেখে সাহায্যের জন্য চার বছরের পুরানো ফেসবুক বন্ধু বাদশাকে ফোন দিয়ে হাসপাতালে আসতে বলেন। কিন্তু বাদশা হাসপাতালে না এসে সুকৌশলে তাকে নগরীর গোরহাঙ্গায় অবস্থিত আরেক বন্ধু নাহিদের কম্পিউটারের (ইজিটাচ) দোকানে ডাকেন। ওই তরুণী তখন রামেক হাসপাতাল থেকে বের হয়ে অটোরিকশাযোগে সেই কম্পিউটারের দোকানে যান। ইজিটাস নামের সেই কম্পিউটারের দোকানে গেলে বাদশা কম্পিউটারের দোকানের মালিক নাহিদের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর দীর্ঘসময় তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এরই মধ্যে দুপুর হয়ে গেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে তারা নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় গ্রীণ গার্ডেন নামের একটি বাগান বাড়িতে (গেস্ট হাউজ) নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে সুকৌশলে ওই গেস্ট হাউজে দুই তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। তারা সেখানেই তিনজনে মিলে দুপুরের খাওয়া-দাওয়াও করেন। পরে নাহিদ সেই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী আর ফেসবুকে পরিচয় হওয়া ওই বন্ধুর (বাদশা) মধ্যে তখনো কথাবার্তা হচ্ছিল। গল্পের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সেই তরুণীকে বাদশা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর তরুণীটিকে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে বেরিয়ে আসে বাদশা। তার কিছুক্ষণ পরে আবুল খায়ের ওরফে নাহিদ (২৬) নামের সেই কম্পিউটার দোকান মালিকও সেই ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে তারা সেখানে রেখেই দুইজন পালিয়ে যায়। এরপর তাকে গেস্ট হাউজের কর্মচারিরা গিয়ে উদ্ধার করে। কর্মচারিদের সহযোগিতায় ওই তরুণী ওইদিন রাত ৮টার দিকে শাহ মুখদুম থানায় গিয়ে ওই দুইজনের নামে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর রাতেই আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতভর অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ বাদশা ও নাহিদকে গ্রেপ্তার করে।
শাহ্‌ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চার বছর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে বাদশার ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে আস্তে আস্তে ফোনেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। ওই তরুণী রাজশাহীতে এসে তাকে (বাদশা) ফোন করলে কৌশলে ওই গেস্টহাউজে নিয়ে গিয়ে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণ করে। এঘটনায় ওই দিন রাতেই দুইজনকে আসামি করে ওই তরুণী থানায় মামলা করে।
তিনি জানান, মামলা হওয়ার পর সোমবার রাত থেকেই ওই তরুণী শাহ মখদুম থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল। গতকাল বুধবার পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসি সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। সেখানে দুপুরে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে হাসপাতাল থেকে ওই তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহ্‌ মখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবকের আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
চলন্ত ট্রাকে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, এবার নারায়ণগঞ্জে চলন্ত ট্রাকে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী (১৫)। ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ট্রাকে তুলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে চালক ও হেলপার। বুধবার সকালে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকা থেকে ধর্ষিতা ওই কিশোরীকে উদ্ধার ও ট্রাকটি আটক করে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আবু বকর জানান, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় চলে আসে। আনুমানিক রাত ৮টার দিকে একটি মালবাহী ট্রাকের (ঢাকা-মেট্রো ট-০২-০৩৪৪) চালক মেহেদী হাছান ও হেলপার সোহান তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ট্রাকে তুলে নেয়। পথিমধ্যে চালক ও হেলপার পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এসিআই পানির কল এলাকায় ট্রাক থেকে মেয়েটি কান্না করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যায়। এ সময় চালক ও হেলপার ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই ধর্ষিতাকে উদ্ধার ও ট্রাকটি আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়ি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার মনিপুর এলাকায়।