ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র

36

ক্যাটালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সরকার কাজ শুরু করতে পারে। স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের পর প্রথম সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন ক্যাটালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট। স্পেনের কাছ থেকে  বের হয়ে গিয়ে নিজেদের স্বাধীন করতে ক্যাটালোনিয়ায় গণভোট হয় গত রোববার। তাতে একচেটিয়া স্বাধীনতার পক্ষে ভোট পড়ে। তবে স্পেন এ ভোটকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছে। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপ বলেছেন, যারা গণভোট আয়োজন করেছিলেন তারা আইনের বাইরে নিয়ে গিয়েছেন নিজেদেরকে। তিনি স্পেনের পরিস্থিতিকে গুরুত্বর আখ্যায়িত করে ঐক্যের আহ্বান জানান। ওদিকে গণভোটের শুরুতে ও পরে ক্যাটালোনিয়ার রাস্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তা উপেক্ষা করে রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে শত সহস্র মানুষ। প্রায় দিনই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে তাদের। এর ফলে প্রায় ৯০০ মানুষ আহত হয়েছে। ভোট গ্রহণের সময় ৩৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।  নির্বাচনের পর প্রথম বিবিসি’কে সাক্ষাতকার দেন ক্যাটালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট। এতে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, এ সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। এতে স্পেন সরকার হস্তক্ষেপ করলে ও ক্যাটালোনিয়া সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে তিনি কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা একটা ভুল কাজ হবে। এরই মধ্যে তো সব পাল্টে গেছে। স্পেনের মাদ্রিদ সরকার ও তার প্রশাসনের মধ্যে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানান তিনি। ওদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে ইউরোপীয়ান কমিশন বলেছে, ক্যাটালোনিয়া হলো স্পেনের আভ্যন্তরীণ ইস্যু। এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন কার্লেস পুইগডেমন্ট। স্পেনের রাজার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের সামান্য আগে এ সাক্ষাতকার দেন তিনি। ওদিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে রাজা ফেলিপ বলেন, গণভোট আয়োজন করে ক্যাটালোনিয়ার নেতারা রাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন। আইনের শাসনের গণতান্ত্রিক মূলনীতি ভঙ্গ করেছেন তারা। তাই ক্যাটালোনিয়ার সমাজ এখন ভেঙে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওই গণভোট ওই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য এক ঝুঁকি হয়ে দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে পুরো স্পেনে। তিনি আশা করেন, এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারবে স্পেন।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা