ক্ষমতা আমার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয় : প্রধানমন্ত্রী

25

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়, আজকে ক্ষমতা আমার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়। আমি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী ছিলাম এবার নিয়ে তিনবার। নিজের জন্য কী করব সে কথা জীবনেও চিন্তা করিনি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি, আল্লাহর রহমতে তারাও আমাকে সাহায্য করে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, মানুষের ভালোবাসায় মা-বাবা হারানোর বেদনা ভুলে গেছি। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর মানুষ যখন একটু শান্তি পেতে শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের যখন সম্ভাবনার স্বর্ণদোয়ার খুলে যায়, তখনই ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপিরবারে হত্যা করা হয়। আমি এবং আমার বোন রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। আর আমরা একদিনে নিঃস্ব রিক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় মা-বাবা হারানোর বেদনা ভুলে গেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি গ্রামের পর গ্রাম হেঁটেছি। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কখনো দুর্ভিক্ষ হয়েছে, দুর্ভিক্ষ পীড়িত এলাকায় গিয়েছি। কখনো ঝড় হয়েছে, সেখানে রিলিফ দিতে গিয়েছি। পেয়েছি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। কত মা-বোন ছুটে এসেছে, কাছে টেনে নিয়েছে, বুকে টেনে নিয়েছে। মাটির ঘরে বসিয়েছে। ডাব কেটে দিয়ে বলেছেন, ‘মা এটা খাও।’ মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শুধু বলেছে, ‘বাবা জীবনটা দিয়ে গেছে তুমিও পথে নেমেছ মা? তুমি পথে নামছ আমাদের জন্য?’”

শেখ হাসিনা বলেন, এই যে ভালবাসার পরশ, মা-বাবা হারানোর বেদনা তো সেখান থেকেই ভুলে গেছি। সেখান থেকেই শক্তি পেয়েছি। এই মানুষগুলোর জন্যই তো আমার বাবা জীবন দিয়েছেন। তাই এদের জন্য জীবনের যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে মানুষের জন্য যে কিছু করতে পারছি এটাই আনন্দ। ক্ষমতাটা হচ্ছে মানুষের সেবা করার সুযোগ। সে সুযোগটা যে পাচ্ছি এবং জনগণ যে ভোট দিয়ে আমাকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে এবং আমাদের পার্লামেন্টারি পার্টি আমাকে তাদের নেতা বানিয়েছে, আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের সেবা করতে পারছি। এটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া যে, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।’