খাবারের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশুটিকে

31

ছোট্ট সোনামনি তানহা। সবে মাত্র ৩ বছর ৯ মাস বয়স। এ বয়সেও পাষণ্ড শিপনের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি ফুটফুটে কন্যা শিশুটি। অবুঝ শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে টেনে নেয় নিজের কক্ষে। হামলে পড়ে নিষ্পাপ তানহার ওপর। শিপনের পাশবিক নির্যাতনে রক্তাক্ত জখম হয় তানহা। তীব্র যন্ত্রণায় শিশু তানহা চিৎকার দিতেই গলা চেপে ধরে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে খুন করে তাকে। এরপর লাশ ফেলে দেয় বাথরুমে। গত রোববার বিকালে রাজধানীর বাড্ডা থানার আদর্শনগরের মিনহাজ সাহেবের টিনশেড ভাড়া বাসায় নৃশংস এ ঘটনা ঘটনায় শিপন নামের এক পাষণ্ড। পুলিশের কাছে সে নিজেই এমন লোমহর্ষক ধর্ষণ ও খুনের বর্ণনা দিয়েছে। এর আগে রোববার রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।
এদিকে এত কম বয়সী শিশুর ওপর এমন নারকীয় ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী। শোকে মুহ্যমান পরিবার। ঘটনার পর থেকে নির্বাক তানহার পিতা-মাতা। নিহত তানহার পিতা মেহেদী হাসান মানবজিমনকে বলেন, আমার একটাই মেয়ে। কোনোদিন মেয়ের গায়ে হাত তুলিনি। কিন্তু সেই পাষণ্ডটা আমার সন্তানকে কী কষ্টই না দিলো। অবুঝ শিশুটির ওপর নির্মম আচরণ করল। আমি এই অপকর্মের বিচার চাই। সে যেন আর সূর্যের আলো দেখতে না পায়। তার যেন ফাঁসি হয়। তিনি আরো বলেন, আমার বাসার পাশে তার (খুনি) বাসা হলেও কোনোদিন তার সঙ্গে কথা হয়নি। চায়ের দোকানে মাঝে মাঝে দেখা হলেও কথা হতো না।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের সময় গলাটিপে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে শিপন। আদর্শনগরের মিনহাজের টিনশেটের ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই শিশু তার বাবা-মার সঙ্গেই থাকত। রোববার বিকালের দিকে শিশুটি তাদের বাসার পাশেই জাহেদা আক্তার কলি নামে এক নারীর ঘরে যায়। সে কলিকে আন্টি বলে ডাকত। কলির ঘরের পাশেই আরেকটি ঘরে গ্রেপ্তার হওয়া শিপন স্ত্রী নিয়ে বসবাস করে। ঘটনার বর্ণনায় আবদুল বাতেন আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে শিপন স্বীকার করেছে যে, কলির বাসা থেকে নিজের বাসায় ফেরার পথে বিকাল ৫টার দিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে তার ঘরে টেনে নিয়ে যায়। ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে গলা চেপে ধরে হত্যার পর পাশের টয়লেটে মৃতদেহ ফেলে দেয়। শিশুটিকে ধর্ষণের সময় শিপনের পরনের কাপড় ও বিছানা রক্তাক্ত হয়ে যায় জানিয়ে বলেন, পরে এই পাষণ্ড এসব কাপড়-চোপড় তার ঘরে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। গ্রেপ্তারের সময় তার ঘর থেকে রক্তমাখা তোয়ালেসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে বলেও এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান। পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে ডাকাতির মামলায় ৫ বছরের জেল খাটে শিপন। সে কথা গোপন করে দিনমজুর পরিচয়ে ওই বাসায় বাসা ভাড়া নেয়। স্ত্রী নিয়ে থাকত সে। টিনশেডের ওই বাসার বেশ কিছু কক্ষ রয়েছে। সেগুলোতে স্বল্প আয়ের পরিবার থাকে। পাশে একটি কক্ষে তানহাকে নিয়ে তার পিতা-মাতাও থাকে। তানহার আরেক প্রতিবেশী জানায়, কলিকে আন্টি বলে ডাকত। প্রায় সময় তার বাসায় যাওয়া-আসা করত। ওইদিন বিকালে সেই ‘কলি আন্টি’র বাসা থেকে নিজের বাসায় ফেরার পথেই শিপন নিজের কক্ষে ঢুকিয়ে এমন জঘন্য অপকর্ম করে। এরপর লাশ ফেলে দেয় টয়লেটে। ওই বাড়ির সব পরিবারের জন্য এটিই একমাত্র টয়লেটে। তারপর সে সেখান থেকে সটকে পড়ে। এদিকে রোববার রাতে টয়লেট থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে রোববার মধ্যরাতে আদর্শনগর থেকে শিপনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল বিকালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে তার আত্মীয় আকরামের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এরপর পরই তারা লাশ নিয়ে তারা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। জামালপুর জেলার সদর থানার নান্দিনা এলাকার শরীফপুরে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু তানহাকে সমাহিত করা হবে বলে জানান স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার আলামত পাওয়া গেছে। এরপর গলাটিপে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করা হয়েছে।