খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

40

কুমিল্লার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেসমিন আরা বেগম এ আদেশ দেন। এদিকে এ আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণসহ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে যুবদলসহ ৩টি সংগঠন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের ৮ ঘুমন্ত যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা করা হয়। এ দুটি মামলায় ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের গত ৬ই মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার প্রতিটিতে ৭৮ জনকে চার্জশিটভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে উভয় মামলায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া চার্জশিটে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে হুকুমের আসামি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া এ দুটি মামলার চার্জশিটের ৫১নং আসামি। তদন্ত শেষে এ ২টি চার্জশিটে মামলার এজাহারভুক্ত ৮ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রামের চান্দিশকরা গ্রামের সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ও জগমোহনপুর গ্রামের সোহেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এদিকে এ ২টি মামলার চার্জশিটে এজাহারবহির্ভূত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের আরো ৩০ জন নেতা-কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলায় বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ পলাতক বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে সোমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মোহাম্মদ ইব্রাহিম চলতি বছরের ২রা মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেসমিন আরা বেগম সোমবার ওই চার্জশিট গ্রহণ করে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সাল জানান, দুটি মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে জাকির, মোতালেব ও আলমগীর নামে ৩ জন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিক্ষোভ মিছিল: এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এর প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে ও নগরে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন আমিরুজ্জামান আমির, আনোয়ার হোসেন, উৎবাতুল বারী আবু, ইউসুফ মোল্লা টিপু, নিজাম উদ্দিন কায়সার, সাজ্জাদ হোসেন, সবুজসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা এ মামলাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া জানান, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল মঙ্গলবার (আজ) দেশের সকল জেলা, উপজেলা, মহানগর, পৌর ও কলেজ ইউনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা