খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম

52

খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম। চলতি সপ্তাহে আরো কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক দিনে মান ও প্রকার ভেদে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে ৫ টাকা কমেছে। এর মধ্যে পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা। আর খুচরায় কমেছে ২ টাকা। অন্যদিকে মিনিকেট চালের দাম পাইকারির তুলনায় খুচরায় কমেছে ১ টাকা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকেও চাল সরবরাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর হাতিরপুল, সেগুনবাগিচা ও কাওরান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মোকামে অর্ডার দেয়া নতুন চাল খুচরা বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাই কম দামে চাল বিক্রি করতে পারছি। এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বাজারে সব ধরনের চালে কেজিতে আরো ১ থেকে ২ টাকা কমবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অকাল বন্যায় হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল ক্ষতির পর থেকেই লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে চালের দাম। সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই গত এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে ১৮.৯৫ শতাংশ থেকে ২০.৪১ শতাংশ। পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের খাদ্য, বাণিজ্য ও কৃষিমন্ত্রী। বৈঠকের পর চালের দাম কমানোর আশ্বাস দেন ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকে চালের দাম কমতে শুরু করেছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা ইরি/স্বর্ণা ৪৮ টাকা, পাইজাম/লতা ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৩ টাকায় বিক্রি হয়, যা কেজিতে চালভেদে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম।
হাতিরপুল বাজারের লিটন স্টোরের লিটন বলেন, সব ধরনের চালে কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা কমেছে। কম দামের চাল আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া আগের কিছু চাল আছে। সবমিলিয়ে সামান্য কমে বিক্রি করতে পারছি। তবে চলতি সপ্তাহে আরো কমানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, মিনিকেট দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৪ টাকায়। আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকায়, স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়, মোটা চাল (হাইব্রিড) ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারের মুক্তা রাইস এজেন্সির মো. শাহজাহান বলেন, মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে ভারত থেকে আমদানি করা চালের। কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এ ছাড়া সরু চালের দাম বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ৭০ টাকা কমেছে। এ বাজারের এম আর ট্রেডার্সের আনিছ বলেন, মোকাম থেকে চাল আসছে। প্রতি বস্তা মিনিকেট ১০০ টাকা কমে ৩ হাজার টাকা পড়েছে। এ হিসেবে এই চাল আগের দামের চেয়ে কেজিতে ২ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে দেখা যায়, খুচরা বাজারে মাঝারি চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে ২ টাকা ও মোটা চাল কেজিপ্রতি ২ টাকা কমেছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৬৪ টাকা দরে বিক্রি করা হয়, যা আগের চেয়ে ১ টাকা কম। এ ছাড়া মোটা স্বর্ণা চাল কেজিতে ২ টাকা কমিয়ে ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতা।
খুচরা পর্যায়ে দাম কমাতে এত সময় লাগছে কেন? জবাবে কাওরান বাজারের এমআর ট্রেডার্সের আনিছ বলেন, খুচরা পর্যায়ে যে চাল আছে, তা বেশি দামে কেনা। ফলে দাম কমতে আরো কয়েক দিন লাগবে বলে জানান তিনি।
এদিকে কুষ্টিয়া ও নওগাঁর প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় মিনিকেট কেজিপ্রতি ৩ ও অন্য চাল ২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫৮ টাকা দরে। বিআর ২৮ ও কাজল লতা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫৪ টাকায়। অন্যদিকে চালের সবচেয়ে বড় মোকাম খাস-নওগাঁ বাজারে মোটা জাতের স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা ও পারিজা চাল কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৪৭ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৩ থেকে ৬ টাকা কম। এ ছাড়া সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা আগের চেয়ে ৪ টাকা কম।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা