গণধর্ষণ অন্তসত্ত্বা তরুণীকে

25

অন্তসত্ত্বা এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোরের অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ না নেয়ায় বাধ্য হয়ে তরুণী আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই তরুণী থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে আসেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার তরুণী জানান, যশোরের অভয়নগরের হোটেল আল সেলিমের মালিক জনি সরদারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর জনি তাকে হোটেলে ডেকে নিয়ে মৌলভির মাধ্যমে কালেমা পড়িয়ে ও কয়েকটি স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বলেন যে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এরপর থেকেই তারা দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। চলতি বছর তিনি অন্তসত্ত্বা হওয়ার পর জনি তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। গত ১০ জুন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন জনি। তিনি তখন তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা। পরে জনিসহ শেখ সাইফার, সুমন, আজিম মোল্লা ও রুবেল মোল্লা তাকে ধর্ষণ করে। অভিযোগ নিয়ে তিনি অভয়নগর থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেইনি। এরপর নানা চাপে তিনি তার মাকে নিয়ে তিনি প্রথমে যশোর ও পরে ঢাকায় চলে আসেন। থানা পুলিশ তার মামলা না নিলে তিনি যশোর আদালতে দুটি মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার তরুণীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলার অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমান মানবজমিনকে জানান, ওই তরুণী থানায় মামলা করতে আসেনি। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি আরও জানান, আমরা শুনেছি তিনি একজন বিধবা। থানায় না এসে আদালতে মামলা করতে কেন গেলেন তা আমাদের বুঝে আসে না।