গাজীপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে

35

গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে জঙ্গলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে বখাটেরা ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এ চিত্র ভিডিও করে তারা। পরে এ নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় বখাটেরা। লোকলজ্জা আর ভয়ভীতিতে আতঙ্কিত হয়ে ধর্ষিতার মা-বাবা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাদের মেয়েকে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কিশোরীর শিক্ষা জীবন ও আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য পিএসসি পরীক্ষা দেয়া। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর মা স্থানীয় চার যুবকের নামে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে থানার ওসি বলছেন, তাদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। মামলায় একই গ্রামের রবিদাসের
ছেলে সাগর রবিদাস, সাইজুদ্দিনের ছেলে রাজু, কাসেমের ছেলে শ্যামল, মন্টু রবিদাসের ছেলে সঞ্জীবন রবিদাসকে আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। যদিও তাদের স্বজনরা দাবি করছেন তারা কেউই জড়িত নয় এ ঘটনায়।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয়রা জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের পঞ্চম শ্রেণির একছাত্রীকে গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের বেরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই কয়েকজন বখাটে উত্ত্যক্ত করতো। প্রায় দেড় মাস আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল সে। পায়ে হাঁটার রাস্তায় তাদের বাড়ির অদূরে ঘোষপাড়া এলাকায় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পৌঁছলে পাশের বাড়ির সাগর রবিদাসসহ স্থানীয় চার যুবক তাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে সালোয়ার ও কামিজ খুলে বিবস্ত্র করে এবং সে দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে। পরে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা প্রকাশ করা হলে ছাত্রীটিকে গলা কেটে প্রাণে মেরে ফেলার এবং ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করার হুমকি দেয়। হুমকির প্রেক্ষিতে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বিষয়টি এক মাস ধরে প্রকাশ করেনি। কিন্তু ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় ধর্ষকরা। আর প্রকাশ পায় ঘটনাটি। ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে এই ঘটনায় গত ৬ই অক্টোবর ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ভিকটিমের স্বজনরা এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দিলেও নানা ভয়ভীতি আর আতঙ্কে রয়েছেন ভিকটিমের পরিবারের লোকজন। লোকলজ্জা আর ভয়ভীতিতে ধর্ষণের স্বীকার হওয়া ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে দূরের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তার বাবা-মা জানান, সবমিলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে বাড়িতে তাকে আর রাখার সুযোগ নেই। আগামী মাসেই তার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এই স্কুলে আর লেখাপড়া করানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামবাসীর দাবি, জড়িতদের কঠোর সাজা হওয়া দরকার, যাতে আর কোনো কিশোরীর ওপর এমন অমানবিক আচরণ করা না হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, মামলা দায়েরের পর হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তিনটি টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা