‘গানের স্বত্ব কখনো ৬০ বছরের জন্য কেনা যায় না’

47

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মানসম্পন্ন গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে আসছেন। তার করা আগের রোমান্টিক ও সেড গানগুলো এখনো নাড়া দিয়ে যায় শ্রোতাদের। তবে মধ্যে বেশ কয়েক বছর নতুন একক অ্যালবাম থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সেই সময়ে গানই কম করেছেন এ গুণী শিল্পী। অবশ্য চলতি বছর একক অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের মাঝে ফিরেছেন। পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তার। সব মিলিয়ে দিনকাল কেমন যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল বলেন, এইতো বেশ ভালো কেটে যাচ্ছে। গানের মাঝেই আছি। আপনিতো নতুন গানে নিয়মিত হলেন? জুয়েল বলেন, হ্যাঁ। গত বছর ডিসেম্বরে গানচিল থেকে দেশের একটি গান করেছি। নাম ‘এই সবুজের ধানক্ষেত’। চলতি বছরের মে মাসে ‘তাকে কী এসে যায়’ নামের আরো একটি গান করেছি একই ব্যানার থেকে। এর মাঝে কয়েক মাস আগে ‘সেদিন এক বিকেলে’ শীর্ষক আমার একটি আগের গানের পিয়ানো ভার্সন করেছি। তারপর তো ‘এমন হলো কই’ শিরেনামের একক অ্যালবাম প্রকাশ করলাম। সাত বছর পর একক অ্যালবাম করেছেন। কেমন সাড়া পাচ্ছেন? জুয়েল বলেন, আসলে এখনো বুঝতে পারছি না। হয়তো আরো কিছু সময় গেলে বুঝতে পারবো। এমনিতে ইউটিউবে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। তবে স্ট্রিমিং সাইটগুলোতে কী হচ্ছে সেটা এখনও জানি না। এটা আমার প্রথম ডিজিটাল অ্যালবাম। সংখ্যায় ১০ নম্বর একক। এর আগের নয়টি এককের সিডি প্রকাশ হয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে ‘দরজা খোলা বাড়ি’ অ্যালবামটি প্রকাশ হয়েছিল। সেই সময়ে তো সাড়াটা বুঝতাম। কারণ, তখন সিডি প্রকাশ হতো। এবারের অ্যালবাম ‘এমন হলো কই’-এর সব গান লিখেছে শাহান কবন্ধ। আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছে বাপ্পা মজুমদার। এই যে আমরা ডিজিটালি গান প্রকাশে অভ্যস্ত হচ্ছি। এটা কেমন মনে হচ্ছে আপনার কাছে? জুয়েল উত্তরে বলেন, এটাতো হতেই হবে। বরং ঢাকাই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা পিছিয়ে গেছে। এটা আরো আগেই হওয়া উচিত ছিল। কারণ আপনার কিংবা আমার হাতে কিন্তু ল্যাপটপ কিংবা আইপ্যাড আগেই চলে এসেছে। কিন্তু যখন মানুষ সিডির বদলে ডিজিটাল ফর্মেটে গান শোনা শুরু করলো তখন অনেক অডিও কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিলো। তারা ডিজিটালি গান প্রকাশের পদক্ষেপই নিলো না। এ কারণে টেকনোলজির দিক দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়েছে। ডিজিটালি গান প্রকাশের প্লাটফর্ম আমাদের দেশে আরো আগে শুরু হওয়া দরকার ছিল। উদাহরণস্বরূপ পাশের দেশ ভারতের শিল্পীরা কিন্তু সকালে উঠে ল্যাপটপের বাটন চেপেই নিজের গানের অবস্থা এবং সেখান থেকে আয় সম্পর্কে জানতে পারেন। কিন্তু আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এদিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। আর কোম্পানিগুলোর ধোঁয়াশার ব্যপারতো আছেই। তাহলে এখন কি করণীয়? জুয়েল বলেন, ডিজিটালি আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি। হয়তো আইয়ুব বাচ্চু ভাই, আমি কিংবা আমাদের জেনারেশন এর সুফল ভোগ করতে পারবো না পুরোপুরি। কিন্তু পরের জেনারেশন ঠিকই সুফল ভোগ করতে পারবে। তাই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সুদিন ফিরবেই। এখনতো অডিও কোম্পানিগুলো এককালীন সম্মানী দিয়ে ৬০ বছরের জন্য গানের স্বত্ব কিনছে। এটা কি যৌক্তিক বলে মনে করেন? জুয়েল উত্তরে বলেন, আমি মনে করি এটা অনৈতিক। কারণ গানের স্বত্ব কখনো ৬০ বছরের জন্য কেনা যায় না। এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আসলে সব সেক্টরেই এমন হচ্ছে। কোনো জায়গাতেই নীতি ঠিক নেই। নৈতিকতার জায়গাতে আমরা ঠিক নেই। এই সময়ে যারা গান করছেন তারা কেমন করছেন বলে মনে হয়? জুয়েল বলেন, আমিতো মনে করি ভালোই করছে। যদি বছরে ১০ হাজার গান বের হয়, সেখান থেকে ১০০টি ভালো গান হচ্ছে। এরকমতো থাকবেই। ভালো গান হচ্ছে, তবে খারাপ গান বেশি হচ্ছে। ফেসবুক কিংবা অন্যান্য মাধ্যমের কারণে এখন প্রচারণাটা বেশি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভালো গানগুলোই টিকে থাকবে। আপনার গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? জুয়েল হেসে বলেন, যতদিন গান গাইতে পারবো ততদিন গাইবো। আমি আসলে মনের আনন্দে গাইতে চাই। ঘন ঘন গান করবো না। যেমনটা এ বছর করলাম, সেরকম করেই হয়তো গান করাটা চালিয়ে যাবো।