গুরুত্ব পাচ্ছেন পেসাররাও

29

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমির মাঠে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) অনুশীলন চলছিল। সেখানে একা একা দৌড়াচ্ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তখনো জাতীয় দলে খেলা সতীর্থরা মাঠে আসেননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতির চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করে একদিন বিশ্রামে ছিল। গতকাল মুশফিকুর রহীম বাহিনী মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে আসতে শুরু করে দুপুর ১টার পর থেকে। বেলা ২টায় ইনডোরে শুরু হয় ফের ঢাকা পর্বের প্রস্তুতি। তবে সেখানে যোগ দিলেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা। কারণ তিনি তো আর টেস্ট খেলবে না। তিনি এইচপির সঙ্গে অনুশীলন শুরু করলেন। এরপর দুপুর ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এনামুল হক বিজয়, মেহেদী মারুফ, জুবায়ের হোসেন লিখনদের নিয়ে আড্ডা দিলেন। দিনটি কাটিয়ে অনেকটা আড্ডা আর অনুশীলনের মধ্যেই। অন্যদিকে মুশফিকদের অনুশীলন হলো একেবারে রুদ্ধদার। ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। চট্টগ্রামে যাওয়া হয়নি তার। গতকাল অনেকটা সময়ই কাটান একাডেমির মাঠে অনুশীলন করে। এরপর যোগ দেন ইনডোরে মূল অনুশীলনে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সৈকত বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো আছি। কোনো ধরনের সমস্যা নেই।’
অনুশীলনে গতকাল সবচেয়ে বেশ ঘাম ঝরিয়েছেন পেসাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের বোলিং বিভাগটাই সবচেয়ে বেশি এখন চিন্তার কারণ। বিশেষ করে পেস বিভাগ। মোস্তাফিজ ইনজুরি থেকে ফেরার পর তার সেই ধার আর নেই। গুঞ্জন রয়েছে অ্যাকশনে কিছু পরিবর্তন হওয়াতে তার সেই কাটার এখন আর নেই। বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে বেশির ভাগ সময় মোস্তাফিজের পেছনেই সময় ব্যয় করতে দেখা যায়। চট্টগ্রামে অনুশীলনে শফিউল আর রুবেল হোসেন ছাড়া আর কেউ তেমন ভালো কিছু করতে পারেনি। তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বিদের নিয়ে তাই বেশি বেশি কাজ করতে হচ্ছে।
স্পিনারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম, সানজামুল, তানভির হায়দার, ও সাকলাইন সজীবদেরও আলাদা ভাবে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। তবে দলের দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মিরাজ সিপিএলে থাকায় দলের সঙ্গে তাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার তারা দেশে ফিরে আসবেন। এরপরই স্পিন বিভাগ নিয়ে নিয়েও শুরু হবে কাজ। এরই মধ্যে নয়া স্পিন কোচ স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তবে তার আসার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি বলেই জানিয়েছেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তার দেশে আসার বিষয়টি শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কবে আসবেন তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে আজই বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়ার আরো একটি প্রতিনিধি দল। তারা এলেই আলোচনা করে চূড়ান্ত হবে প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু কোথায় হচ্ছে। বিসিবি এখনো ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াামের আশা ছাড়েনি। তবে এভাবে টানা বৃষ্টি থাকলে সেখানে ম্যাচ সম্ভব নয় তাও জানান। কিন্তু বিসিবির বিকল্প প্রস্তাবে অজিরা রাজি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিকেএসপি দূরে বলে অজিরা সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চাইছে না। আরেকটি প্রস্তাবিত ভেন্যু সিলেট তো আরো অনেক দূরের। তবে অজিদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আগে নিজেদের মধ্যে আরো একটি ম্যাচ খেলবে মুশফিক বাহিনী। ম্যাচটি ১৬ ও ১৭ই আগস্ট মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে হওয়ার কথা রয়েছে। ১৮ই আগস্ট শুক্রবার জাতীয় দলের বিশ্রাম। আর সেদিনই বাংলাদেশে পা রাখার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের।