গুলশান হামলার আরেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

31

গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী আসলাম হোসাইন রাশেদ ওরফে রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল ভোরে নাটোরের সিংড়া থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল, বগুড়া ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে সিংড়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ওই জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ অনেকদিন ধরে তাকে খুঁজছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, রাশেদ ওরফে র‌্যাশকে নাটোর থেকে বিকালে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। হলি আর্টিজানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। রাশেদের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায়।
গুলশান হামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে: গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ আসলাম হোসাইন রাশেদ ওরফে রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ গতকাল ভোরে নাটোর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজধানীর গুলিস্তানে অলিম্পিক ডের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। স্বারষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা আমাদের জন্য নতুন ডাইমেনশন ছিল। যাকে ধরা হয়েছে সে ছিল পরিকল্পনাকারী। সে ওই হামলার তত্ত্বাবধানে ছিল বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, এই হামলায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম কয়েকটি দেশের নাগরিক মারা গেছেন, কাজেই একটি নির্ভুল চার্জশিট দেয়ার জন্য পুলিশ কাজ করছে। আমাদের সব কিছু শেষের দিকে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে পারব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছর ১লা জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ওই হামলার ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে পুলিশ যাদের খুঁজছিল, তাদের মধ্যে আসলাম হোসাইন রাশেদ ওরফে রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ অন্যতম। এ ছাড়া হাদীসুর রহমান সাগর নামে আরো একজনকে পুলিশ খুঁজছে, যে যশোর থেকে গুলশান হামলার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।