চলচ্চিত্রে এখন প্রয়োজন ঐক্য

20

দেশীয় বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর ইতিহাসটা ছিল বেশ উজ্জ্বল। কিন্তু বর্তমান সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না বললেই চলে। সারা দেশে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হল। হলের মালিকরা ভবনগুলো ভেঙে বহুতল বিপণিবিতান গড়ে তুলছেন। বেশিরভাগ হল মালিকের বক্তব্য, মানসম্মত চলচ্চিত্র এখন আর তৈরি হচ্ছে না। তাই দর্শক হলবিমুখ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে চলচ্চিত্রের ব্যবসা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। হলের ব্যবসাও এখন বেশ মন্দা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সারা দেশে সিনেমা হল ছিল ১ হাজার ৪৩৫টি। এরপর থেকে সিনেমা হলের সংখ্যা কমতে কমতে এখন চারশ’র ঘরে নেমে এসেছে। গত দুই দশকে দেশের কোথাও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ সিনেমা হল চালু হয়নি। তাই সংবাদের শিরোনামে বার বার উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের দুরবস্থার বিষয়টি। শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক-পরিবেশক মিলে যে মিলনমেলা ছিল তা আজ প্রায় ভঙ্গুর। শুটিংয়ের চেয়ে চলছে বেশি আন্দোলন, একে অপরের সঙ্গে বিরোধসহ নানা দুঃসংবাদই কানে আসছে সিনেমাপ্রেমী দর্শকের। বিএফডিসিতে গত ছয় মাসে তেমন কোনো চলচ্চিত্রের শুটিং হয়নি। ফ্লোরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শুটিং কিংবা কোনো বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকে ফ্লোর। কিন্তু যেখানে একটা সময় প্রতিটি ফ্লোরে শুটিং চলত। রাত-দিন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সেই বিএফডিসিতে এখন খুব কম শুটিং হয়। ডিজিটাল চলচ্চিত্র এসে বাজার দখল করেছে। তাই পুরানো সময়ের ৩৫ মি.মি. এর ক্যামেরা এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরার চালানোর মতো দক্ষ কুশলীও খুব কম এখন। চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করেছেন সরকার। চলচ্চিত্র শিল্পের হারানো গৌরব ফিরে আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও সিনেমা হল মালিকদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা এবং সিনেপ্লেক্স নির্মাণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের স্থানভেদে ৫ বা ৭ বছরের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করেছে। তারপরও অনেকের রয়েছে অনেক ধরনের অভিযোগ। বর্তমান সময়ে যৌথ প্রযোজনার ছবির নিয়মকানুন না মানাতে আন্দোলন এবং সামপ্রতিক শাকিব খানের সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবার (১৮টি সংগঠন) কাজ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে অনেক কলাকুশলী তার সঙ্গে কাজ করতে পারছেন না। শত শত টেকনিশিয়ান, সহশিল্পী কাজ না করে ঘরে বসে আছেন এখন। এদিকে শাকিব খান বর্তমান সময়ে দর্শকের চাহিদায় শীর্ষে থাকায় একের পর এক প্রযোজক এসে তাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করছেন। বর্তমানে শাকিব খান উত্তম আকাশের ‘আমি নেতা হব’ নামে একটি ছবিতে বিদ্যা সিনহা মিমের বিপরীতে অভিনয় করছেন। এ ছবির পাশাপাশি মিমের বিপরীতে আরেকটি ছবিতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শাকিব খানের ভাষ্য, আমি কাজ করে যাচ্ছি এবং সামনেও কাজ করে যাব। কারো উপর রাগ করে কাজ ছেড়ে দিলে তো আর ইন্ডাস্ট্রি সামনে আগাবে না। শুধু আমি একা না আমাদের সকলের কাজ করে যাওয়া উচিত। শিল্পী, টেকনিশিয়ানরা নিয়মিত কাজ না করলে তাদের চলবে কি করে? যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা অনুযায়ী ছবি নির্মাণ হোক, এটা সকলের চাওয়া। তবে এই আন্দোলনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রবোদ্ধারা বলেছেন, আগেও আন্দোলন হয়েছে। তবে সকলে কাজ না করে শুটিং বন্ধ করে আন্দোলন করলে তো ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়ে যাবে। তাই চলচ্চিত্রে এখন প্রয়োজন ঐক্য। সকলে মিলে এই ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আবারও চলচ্চিত্রের সোনালি অতীত ফিরে আসবে। দর্শক সিনেমা হলে ভিড় করবে। সকলে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। সবার মুখে ফুটবে সুখের হাসি।