চালের বাজারে ক্রেতা কম

20

কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা চালের দাম এখন থমকে দাঁড়িয়েছে। রোববার থেকে পাইকারি বাজারে দামে স্থিতিশীলতা আসে। কোথাও কোথাও দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল সচিবালয়ে সরকারের সঙ্গে চাল ব্যবসায়ীদের বৈঠকেও দাম কমানোর আশ্বাস এসেছে। এদিকে চালের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালের ক্রেতা কমে গেছে। আর যারা কিনতে আসছেন তারা খুব হিসাব করে চাল কিনছেন। গতকাল রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের উদয়ন রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. কফিলউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন মানের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা কমেছে। চলতি সপ্তাহে দাম আরো কমতে পারে। তিনি বলেন, চালের এই
পাইকারি বাজারে খুচরা বিক্রেতারা চাল কিনতে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার সারাদিনে তেমন ক্রেতা নেই। কফিলউদ্দিন বলেন, একেতো সরকারিভাবে অভিযান চলছে। তার ওপর বাজার পড়তে শুরু করেছে। খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তারা হয়তো আরো কমার আশায় আছেন। মোহাম্মদপুর কৃষিবাজারের খাদ্য ভাণ্ডারের ব্যবস্থাপক হীরালাল দাস বলেন, ভালো মানের মিনিকেট প্রতি বস্তা ২৯৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ৫৯ থেকে ৬০ টাকা), নাজিরশাইল প্রতি বস্তা ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা ( প্রতি কেজি ৬২ থেকে ৭০ টাকা) করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চাল (স্বর্ণা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা। এসব চাল প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৭৫ টাকা করে কমেছে বলে জানান তিনি।
একই বাজারের মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলাম দীপু বলেন, প্রতি বস্তা চালে দাম কিছুটা কমেছে। কোনো কোনো চালে ১০০ টাকাও কমেছে। আর চাল নিয়ে যা হচ্ছে তাতে মিল মালিকরাই দায়ী। তিনি বলেন, মিল মালিকরা আমাদের চাপে রেখে আমাদের কাছে চাল বিক্রি করেন। যে পরিমাণ চাল আমরা চাই তা দেন না। এক কথায় বলা যায় তাদের হাতে আমরা জিম্মি। কি ধরনের চাপ- এমন প্রশ্নে মো. নজরুল ইসলাম দীপু বলেন, চাল আনতে গেলে তাদের (মিল মালিক) কাছে খালি চেক জমা দিতে হয়। কখনো কখনো ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক নিরাপত্তা বাবদ তাদের কাছে জমা রাখতে হয়। এভাবে তারা আমাদের চাপে ফেলেন। কিন্তু চাল চাইলে পরিমাণে কম দেন। কখনো কখনো দেন না। কিন্তু চালের দাম বাড়লে সব দোষ আমাদের ওপরই পড়ে।
এদিকে গতকাল রাজধানীর বেশকিছু বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি বিক্রেতারা চালের দাম কিছু কমার কথা বললেও খুচরা বিক্রেতারা তা জানেন না। তারা আগের দামেই চাল বিক্রি করছেন। কাওরানবাজারের সততা স্টোরের মো. ইউসুফ আলী বলেন, চালের দাম কমেছে বলে এখনো শুনিনি। আমরা আগের দামেই বিক্রি করছি। একই এলাকার নরসিংদী জেনারেল স্টোরের মো. হেলাল জানান, মিনিকেট প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, বিভিন্ন মানের মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫৩ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন তারা। মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটের সিয়াম রাইস স্টোরের মো. সেলিম বলেন, চালের দাম কমেছে বলে এখনো শুনিনি। আমি আগের দামেই চাল বিক্রি করছি। এর মধ্যে বিভিন্ন মানের মিনিকেট প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, নাজিরশাইল ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। মোটা চালের দামও আগের মতোই আছে। একই বাজারের মোহাম্মদী চাল ভাণ্ডারের মো. নুরুল ইসলাম বলেন, চালের দাম কমার বিষয়ে আমরা এখনো কিছু শুনতে পাইনি। আগের দামেই বিক্রি করছি। তবে, শুনেছি দাম কমবে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই চালের বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। কেন কমে গেছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ক্রেতাদের যারা আগে বেশি পরিমাণ চাল কিনতেন এখন তারা কিনছেন খুবই কম। যে আগে ৪০ কেজি কিনতেন তিনি এখন কিনছেন সর্বোচ্চ ২০ কেজি। আর ২০ কেজি যে কিনতেন তিনি কিনছেন সর্বোচ্চ ৫ কেজি। সবাই চালের দাম কমার অপেক্ষায় আছেন। টাউনহল বাজারের মাদারীপুর রাইস এজেন্সির ধীরেন বাবু বলেন, পাইকারি বাজারে এখনো দাম কমেছে বলে শুনিনি। তাই আগের দামে চাল বিক্রি করছি। যখন কম দামে কিনবো তখন আমরাও কম দামে বিক্রি করবো। তিনি বলেন, গত দু’দিন ধরে চালের ক্রেতা কম।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা