‘চাল কেনার পর আর কিছুই কিনতে পারি না’

43

সুনামগঞ্জে হঠাৎ করেই বাড়ছে চালের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি চাল তিন-চার টাকা থেকে আট-নয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের বাজারের এ অস্থিরতায় ক্রেতাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। অনেক স্থানে চালের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। অভিযোগ রয়েছে- কিছু অসাধু চালকল মালিকরা
বেশি লাভের আশায় বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। আর এতেই বেড়ে গেছে চালের দাম। জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানের অনেক চাল কলে পর্যাপ্ত ধান ও চাল রয়েছে। চালের দাম বাড়ায় বিক্রি কম হচ্ছে বলে জানান চালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে বাজারে চালের দাম ছিল কিছুটা স্বাভাবিক। গত সপ্তাহে মোটা আতপ প্রতি কেজি ছিল ৩৫ টাকা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮টাকা, মালা আতপ ছিল ৪২ টাকা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, পাইজাম ছিল ৫২ টাকা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৪টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা, জিরা শাইল ৫২ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়, মিনিকেট সিদ্ধ ৪৩ টাকার স্থলে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫টাকা, প্রতি কেজি পারিজা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫টাকায়, ২৮ চাল ৪২ টাকা ও ২৯ চাল ৪০ টাকার স্থলে ২৮ চাল ৪৫ টাকা ২৯ চাল ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ৪২ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে সিদ্ধ ৪৪ টাকায়।
পুরাতন ২৮ ও ২৯ জাতের চাল ৫০ কেজির বস্তা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ২ হাজার ৫শ’ টাকায়। এ সপ্তাহে এ চালের দাম অনেকেই ২ হাজার ৯শ’ টাকায় বিক্রি করছেন।
খুচরা চাল দোকানদার সুহেল মিয়া বলেন, আমি ছোট ব্যবসায়ী। আমি অটো রাইসমিল থেকে একসঙ্গে কয়েক বস্তা চাল এনে বিক্রী করি। হঠাৎ করে চাল দাম বেড়ে গেছে। শনিবার একটি চাল কল থেকে কয়েক জাতের চাল এনেছি অতিরিক্ত দামে। সুহেল মিয়া আরো জানায়, চাল কল থেকে ২০ বস্তা মালা চাল এনেছি। প্রতি বস্তা চাল ২ হাজার ২শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কিন্তু গত সপ্তাহে ওই চাল প্রতি বস্তা বাজারে বিক্রি হয় ১ হাজার ৮শ’ টাকায়। প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ৪শ’ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন চাল বিক্রেতা জানান, অটোরাইস মিলগুলোতে চাল আছে কিন্তু মিল মালিকরা বাজালে চাল দিচ্ছে না। তারা কয়েকদিন পরে চাল বাজারে বিক্রি করলে বেশি টাকা মুনাফা পাবে। তাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাল কলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান ও চাল আছে। কিন্তু চালকল মালিকরা চাল বাজারে বিক্রি করছে না। সিন্ডেকেট চক্রের কারণেই বাজারে চালের দাম বেশি।
সুনামগঞ্জ শহরের জেল রোড এলাকার চাল ব্যবসায়ী সুধাংশু এন্ড সন্স এর প্রোপ্রাইটার সুধাংশু পাল বলেন, বিভিন্ন জেলায় অটোরাইস মিলগুলোতে ধানের সংকট রয়েছে। সংকট থাকায় মিল মালিকরা চাহিদামতো চাল বাজারে দিতে পারছেন না। আমি বিভিন্ন অটোরাইস মিলে যোগাযোগ করেছি চাল আনার জন্য প্রায় সব মিল মালিকরা জানিয়েছে চাল নেই। তাই চাল না থাকায় চালের দাম বেড়েছে।
রাসেল অটোরাইস মিলের মালিক রাসেল আহমদ জানান, এ বছর সুনামগঞ্জে বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ২ হাজার কোটি টাকার ধান তলিয়ে যাওয়ায় জেলার কৃষকরা কোনো ধান তুলতে পারেননি। তাই স্থানীয় বাজারে ধান নেই। এতে ধানের দাম বেড়ে গেছে। ফলে চালের দামও বেড়েছে। বেশ কয়েকটি অটোরাইস মিলের মালিকরা জানান, ভারতেও চালের দাম বেড়ে গেছে। তাই এলসির মাধ্যমে যে চাল আসছে তারও দাম বেশি পড়ছে। বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন।
এদিকে, জেলায় রোববার থেকে ওএমএস-এর মাধ্যমে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। আগে প্রতি কেজি চাল ১৫ টাকায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু গতকাল থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ওএমএসের চাল। চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
রিকশাচালক আবদুল হামিদ জানান, সারা দিন রিকশা চালিয়ে সামান্য টাকা রুজি করি। আগে ওএমএস থেকে চাল কিনতাম ১৫ টাকায়। এখন এ চালের দাম হয়েছে দ্বিগুণ, যা রুজি করি তা দিয়ে চাল কিনার পর বাড়ির জন্য আর কিছুই কিনতে পারি না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা