জগন্নাথপুরে ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

32

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অপমান সইতে না পেরে ধর্ষণের শিকার এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ধর্ষিতার বড় বোন রুনা বেগম জানান, কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বখাটে ইউনুস জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে ওরা আমার পিতাকে অপমান করে। আর এ অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে আমার বোন।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের চাঁনপুর (কবিরপুর) গ্রামের কৃষক আকলুল মিয়ার মেয়ে জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী রুমেনা বেগম ৩/৪ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয় কলেজের যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে চকাছিমপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক ইউনুস মিয়া (২৮)সহ ২/৩ বখাটে রাস্তা থেকে কলেজছাত্রীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি বাবা মাকে জানানোর পর ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা আকলুল মিয়া গ্রামের কয়েকজন লোক নিয়ে ধর্ষক ইউনুসের পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় ধর্ষকের বাবা আবু মিয়াসহ ও তার পরিবারের লোকজন তাদের অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। বাবার এমন অপমান সইতে না পেরে সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েটি বিষপান করে মৃত্যেুর মুখে ঢলে পড়লে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সোমবার বিকালে সরজমিনে ওই গ্রামে গেলে এলাকাবাসী জানান, মেয়েটি টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও বাবাকে সাহায্য করত। সে খুবই মেধাবী ও শান্তিপ্রিয় ছিল।
কলেজছাত্রীর বড় বোন রুনা বেগম জানান, আমার বোন চকাছিমপুর গ্রামে টিউশনি করত। ওই সময় বখাটে ইউনুস তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তার যন্ত্রণায় সে নিউশনি ছেড়ে দেয়। কিন্তু বখাটের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা পায়নি। তার নির্যাতেনর কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।